advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

সড়কের নিরাপত্তা মানেই মানুষের নিরাপত্তা

মোহাম্মদ নজাবত আলী
১ মার্চ ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ২২:৩৫
advertisement

সড়কে কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না মৃত্যুর মিছিল। গত শুক্রবার সড়কে ২৫ জন ও শনিবারে ১৬ জনের প্রাণহানি হয়। বাংলাদেশের সড়ক ও মহাসড়কগুলো মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে। সড়কে বাস, ট্রাক বা ছোট-বড় বিভিন্ন যানবাহনে সংঘর্ষ মানেই দুর্ঘটনা। আর এ দুর্ঘটনা মানেই মৃত্যু। প্রতিটি দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যায়, আহত হয়। যারা প্রাণে বেঁচে যান, তারা সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে চলতে-ফিরতে পারেন না। তাদের এ দুঃসহ কষ্টের বোঝা বয়ে বেড়াতে হয় সারাটি জীবন। প্রায় প্রতিদিন সংবাদপত্রের পাতা খুললেই চোখে পড়ে বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনার খবর। এ খবর পড়ে আমরা কষ্ট পাই, ব্যথিত হই। দেশের সড়ক ও মহাসড়কগুলো উন্নত হচ্ছে। এ উন্নত হওয়ার কারণেই কি চালকরা বেপরোয়া হয়ে গাড়ি চালায়? দেশের সড়ক ও মহাসড়কে প্রায় প্রতিদিনই ঘটে চলেছে মর্মন্তুদ দুর্ঘটনা। একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই এ প্রশ্ন আসে, এর শেষ কোথায়। আমাদের দেশে যে হারে বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা ও নাগরিকদের চলাচল, ওই অনুপাতে সড়কপথের নিরাপত্তা যে বাড়ানো সম্ভব হয়নি- এর বড় প্রমাণ প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা।

চালকের বেপরোয়া গতিই দুর্ঘটনার একমাত্র কারণ নয়। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, অদক্ষ ড্রাইভার, ভুয়া লাইসেন্স, অতিরিক্ত পণ্যসামগ্রী বা যাত্রী পরিবহন, চালকের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অসচেতনতার অভাব, চলন্ত বাস-ট্রাকে মোবাইল ফোন ব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। আবার অনেক সময় দেখা যায়, খারাপ রাস্তায় বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও ওভারটেক করার হীন মানসিকতাও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। এসব দুর্ঘটনায় কখনো বাস-ট্রাক, কখনো ট্রাক-ট্রাক, মাইক্রোবাস-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষ আবার কখনো বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস রাস্তার দুপাশে খাদে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। সড়ক দুর্ঘটনা পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই কমবেশি ঘটে। কিন্তু বাংলাদেশে দুর্ঘটনার হার সবচেয়ে বেশি। প্রায় প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় যে সাধারণ মানুষ মারা যায়, তা নয়। তাদের পাশাপাশি রাষ্ট্র বা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও মারা যান। অথচ প্রশাসনের টনক নড়ে না। সরকারও এ বিষয়ে খুব একটা চিন্তাভাবনা করে বলে মনে হয় না। এর অন্যতম কারণ হলো, এ ধরনের অপরাধীর শাস্তির তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। তাদের শাস্তি অত্যন্ত লঘু করা হয়েছে। তবুও তা দৃশ্যমান নয়। দুই দশক ধরে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন সাধারণ তথা সমাজের সর্বস্তর মানুষের পথচলা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিরাপদ সড়কের জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছেন। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রবক্তা ইলিয়াস কাঞ্চন এখনো সড়কের নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, এমনকি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে আলাপ-আলোচনা করেও এর কোনো সুফল পাচ্ছেন না। উপরন্তু এ আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি অতীতে তোপের মুখে পড়েছেন- এমন দৃষ্টান্তও রয়েছে। কিন্তু অপরাধীর শাস্তি হওয়ার কোনো দৃষ্টান্ত নেই। বিষয়টি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। সড়ক দুর্ঘটনায় অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে, আহত হচ্ছে। কিন্তু দেশের রাস্তাঘাট, যাতায়াতব্যবস্থা আগের চেয়ে বেশ উন্নতিও হচ্ছে। সরকার যদি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তা হলে সেটি হবে সড়কপথে জনগণের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইতিবাচক দিক। কারণ সড়ক ও মহাসড়ক যদি মৃত্যু উপত্যকা হয়, সড়কই মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়- তা হলে এর চেয়ে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি আর কী হতে পারে! তাই যে কোনো মূল্যে সড়কপথে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এভাবে দিনের পর দিন সড়কপথে লাশের মিছিল দীর্ঘ হবে- এ ধরনের নির্মম মৃত্যু কে মেনে নিতে পারে? এর প্রতিকার চাই। আমরা দেখতে চাই নিরাপদ সড়ক আর মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যু। এটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে অবশ্যই সড়ক ও মহাসড়কের ত্রুটিপূর্ণ এবং অদক্ষ চালক, গতিবেগের ওপর নজরদারি বাড়ানো দরকার। কারণ দুর্ঘটনায় শুধু মানুষই মারা যায় না। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের ওপর নেমে আসে চরম ভোগান্তি। এমন পরিবার আছে- শুধু একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুর কারণে সন্তান-সন্তানাদি নিয়ে চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। কারও কারও সারাজীবন পঙ্গুত্বের বোঝা টানতে হয়। তা অত্যন্ত কষ্ট ও বেদনাদায়ক। বাংলাদেশে যে হারে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাচ্ছে, এতে দ্রুত এই অবস্থার অবসান হওয়া প্রয়োজন। সড়কের নিরাপত্তা মানেই মানুষের নিরাপত্তা। তাই সড়কপথে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি লঘু করা হয়েছে। তবুও যেটুকু আইন রয়েছে, সেটি বাস্তবায়ন করতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমবে।

মোহাম্মদ নজাবত আলী : সহকারী শিক্ষক, চামরুল উচ্চ বিদ্যালয়

advertisement