advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

মাতব্বরের বিরুদ্ধে মামলা করায় বাদী একঘরে

ধামরাই প্রতিনিধি
১ মার্চ ২০২১ ১৭:৩৭ | আপডেট: ১ মার্চ ২০২১ ১৭:৫৭
পুরোনো ছবি
advertisement

ঢাকার ধামরাই উপজেলার সাঈদপাড়া এলাকায় একটি রাস্তা বন্ধ করে রাস্তার মাটি কেটে নিয়েছেন গ্রাম পঞ্চায়েতের এক মাতব্বর। এ ঘটনায় ওই মাতব্বরের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগী পরিবার। মামলা দায়েরের অপরাধে ওই পরিবারকে ১০ দিন ধরে একঘরে করে রেখেছেন গ্রামের অন্য মাতব্বররা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের সাঈদপাড়া গ্রামে মাঝিপাড়ার মাতব্বর লক্ষণ রাজবংশীর বাড়ি থেকে হরেশ রাজবংশীর বাড়ি পর্যন্ত একটি নতুন রাস্তা তৈরি করে দেন চেয়ারম্যান শাহ আলম। ওই রাস্তা তৈরিতে মেম্বর মোয়াজ্জেমকে সভাপতি না করে সংরক্ষিত মহিলা মেম্বর হামেদা বেগমকে সভাপতি করে রাস্তা নির্মাণের কাজ শেষ করা হয়।

পরবর্তী সময়ে মেম্বর মোয়াজ্জেম মাতব্বর লক্ষণ রাজবংশীকে দিয়ে রাস্তার ওপর একটি টিনের ঘর তৈরি করে রাস্তা বন্ধ করে দেন। ওই রাস্তার মাটি কেটে নিয়ে লক্ষণ তার বাড়ি ভরাট করেন। রাস্তার মাটি নিতে হরেশ রাজবংশী বাধা দিলে তাকে ও তার স্ত্রী-সন্তানকে লক্ষণ রাজবংশীর লোকজন মারধর করেন। এ ঘটনায় হরেশ রাজবংশী, লক্ষণ রাজবংশী ও তার লোকজনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, মামলা দায়েরের পর থেকে হরেশ রাজবংশীর পরিবারকে ১০ দিন ধরে একঘরে করে রেখেছেন গ্রাম পঞ্চায়েতের মাতব্বররা। ওই পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। ফলে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তারা।

ভুক্তভোগী হরেশ রাজবংশী জানান, রাস্তা বন্ধ ও রাস্তার মাটি কেটে নিয়ে বাড়ি ভরাট করেছে লক্ষণ। এতে তিনি বাধা দেওয়ায় তাকে ও তার পরিবারকে অনেকে মারধর করেছে। এ বিষয়ে আদালতে মামলা করায় তাকে একঘরে করে রাখা হয়েছে। তাকে বাজারে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তার ছেলের ঘরে দুই শিশুকে টিকা দিতেও বাধা দিচ্ছেন গ্রামের মাতব্বররা।

এ বিষয়ে লক্ষণ রাজবংশী জানান, তার জমির ওপর দিয়ে যাওয়া রাস্তা বন্ধ করে মাটি কেটে নিয়েছেন। এ ছাড়া যা কিছু করেছেন সব মেম্বার মোয়াজ্জেম জানেন। গ্রামের মাতব্বর অণিল রাজবংশী বলেন, ‘পাঁচজনের কথা শুনে না দেখে হরেশকে একঘরে করা হয়েছে।’

ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, ‘হরেশের পরিবারকে একঘরে করা খুবই অন্যায় হয়েছে। রাস্তাটিও লক্ষণ বন্ধ করে দিয়েছে। বিষয়টি আমি ইউএনও স্যারকে জানিয়েছি।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল হক জানান, অভিযোগ দিলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

advertisement