advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার রুবেল-বরকত

আদালত প্রতিবেদক
১ মার্চ ২০২১ ১৯:৩২ | আপডেট: ১ মার্চ ২০২১ ১৯:৩২
ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেল
advertisement

ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেল সহোদরকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকা মহানগর স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক রবিউল আলম এ আদেশ দেন।

গত ১৩ জানুয়ারি দুদকের উপ-পরিচালক এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আলী আকবর গ্রেপ্তার দেখানোর এ আবেদন করেন। যার উপর সোমবার দুই ভাইয়ের উপস্থিতিতে শুনানির পর আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।

আসামি রুবেলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় ২৮ কোটি ৩৫ লাখ ১০ হাজার ১৭০ টাকার জ্ঞাতআয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১৭ কোটি ৯০ লাখ ৩ হাজার ১৪১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ করা হয়। তিনি দুদকের ২৪ কোটি ৪৬ লাখ ৫২ হাজার ৫১৮ টাকার সম্পদের হিসাব দাখিল করেন।

অন্যদিকে আসামি বরকতের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় ৪৪ কোটি ৪৯ লাখ ৬৮ হাজার ৮৩২ টাকার জ্ঞাতআয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ৫৫ হাজার ৬৫২ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ করা হয়। তিনি দুদকের ৩৯ কোটি ৪৮ লাখ ২৮ হাজার ২৫৮ টাকার সম্পদের হিসাব দাখিল করেন।

গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনকারী কর্মকর্তা গত বছর ১২ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি দুই সহোদরের ৫ হাজার ৭০৬ বিঘা জমি, ৫৫টি গাড়ি ক্রোক ও ১৮৮টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ফ্রিজের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে গত বছরের ২৬ জুন বরকত ও রুবেলের বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় মামলা দায়ের করেন সিআইডির পরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ।

মামলাটিতে বরকত ও রুবেল ছাড়াও ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফকির বেলায়েত হোসেন এবং ইশান গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মজনু, ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহমুদ শামীমা, ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার নাজমুল হাসান লেভী, জেলা শ্রমিক লীগের অর্থ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন ও শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিবুর রহমান ফারহান গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়, আসামি বরকত ও রুবেল প্রথম জীবনে ফরিদপুর জেলার রাজবাড়ী মোড়ে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা চাঁন খন্দকারের অফিসে চা-পান সরবরাহ করত। ১৯৯৪ সালে চাঁন খন্দকরের নির্দেশে এ দুই ভাই ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন খোকনকে নির্মমভাবে হত্যা করে মর্মে বরকতসহ অন্যান্যদের ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় মামলা হয়। যার মামলা নং-৪২(১১)১৯৯৪, ধারা-৩০২/৩৪ দণ্ডবিধি। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০০২ সালের পর বরকত ও রুবেল তাদের গুন্ডাবাহিনী নিয়ে ফরিদপুর বাসস্ট্যান্ড, ট্রাকস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা ব্যাপকভাবে শুরু করে। তারা সংঘবন্ধ মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, হত্যা, বিদেশি মুদ্রা পাঁচার ও হুন্ডির মাধ্যমে বিগত দুই দশকের মধ্যে তারা অর্জিত অবৈধ অর্থের দ্বারা সাউথ লাইন যাত্রী পরিবহনের এসি/ননএসি ২৪টি বাস, ১০টি ট্রাক, দুইটি পাজেরো, দুইটি মাইক্রোবাস, ১টি নিশান মিনিবাস। যার অধিকাংশ নম্বরহীন। এছাড়া ১টি গেষ্ট হাউজ, ৮ হাজার বর্গফিটের উপর নবনির্মিত বিল্ডিং বরকত এগ্রো প্রা. লিমিটেড, মেসাস এসবি ডেইরি ফার্ম, নর্থ চ্যানেল বাগানবাড়ী, এসবি ব্রিকফিল্ড, এসবি পাথর ক্রসিং, এসবি প্রেস, এসবি ট্রেডার্স, বরকত কনষ্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ও ১টি পেট্রোল পাম্প প্রতিষ্ঠা করে। এ ছাড়া ফরিদপুরে প্রচুর ভূ-সম্পত্তি গড়ে তোলেন।

গত বছর ৮ জুন তারা অবৈধ অস্ত্র ও বিদেশি মদ, ইয়াবা ট্যাবলেট, চাল, ডলার, ভারতীয় রুপিসহ প্রথম গ্রেপ্তার হয়। ওই ঘটনায় ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় ১৬(৬)২০২০, ১৮(৬)২০২০ এবং ১৯(৬)২০২০ নম্বরে পৃথক ৩টি মামলা হয়। পরবর্তী সিআইডি এবং দুদক মামলা করে।

advertisement