advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ
সংশোধনে সরকারের উদ্যোগ জরুরি

২ মার্চ ২০২১ ০০:০০
আপডেট: ১ মার্চ ২০২১ ২৩:৩০
advertisement

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন যে একটি কালো আইন সে বিষয়ে আর কোনো সংশয় নেই। সরকারি দল ও প্রশাসনের মানুষও স্বীকার করেন যে, এটি অপব্যবহারের আশঙ্কা আছে। সেই করোনাকালে জনৈক এমপি কর্তৃক কৃষকদের ধান কাটায় অংশ নিতে গিয়ে পাকা ধানের পরিবর্তে কাঁচা ধান কেটে নেওয়ার ভিডিও দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগে ছড়ানোর দায়ে এক যুবকের গ্রেপ্তার হওয়া থেকে সম্প্রতি লেখক ও উদ্যোক্তা মুশতাক আহমেদের বন্দি অবস্থায় মৃত্যু পর্যন্ত সব ঘটনা বিবেচনায় নিলে এতে একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য ধরা পড়ে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধিকাংশ মামলার বাদীই হয় ক্ষমতাসীন দলের নেতা নয়তো পুলিশ। পুলিশ যে সরকারের হয়ে কাজ করবে তা স্বাভাবিক, কিন্তু এ দেশে তারা সরকারি দলের নেতাকর্মীদের হয়েও কাজ করেন। এ ক্ষেত্রে আরও যে বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট তা হলো পুলিশের অনেক বড়কর্তাই আজকাল রাজনৈতিক নেতার মতো আচরণ করছেন। দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে অবসর-পরবর্তী জীবনে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার অভিলাষ তৈরি হচ্ছে। বাস্তবেও এমন দৃষ্টান্ত অজস্র। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের সেবা ও নিরপেক্ষ বিচার পাওয়া মুশকিল হচ্ছে। পক্ষপাতদুষ্ট প্রশাসন সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়, তখন তো বিচার বিভাগই হয় একমাত্র ভরসা।

আমাদের সময়ের এক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগের হার উত্তরোত্তর বাড়ছে। এর সহজ ব্যাখ্যা হলো, কী প্রশাসন, কী ক্ষমতাসীন দলের নেতা-সংগঠকদের অসহিষ্ণুতা ও জবরদস্তির প্রবণতা বাড়তির দিকে। প্রতিবেদনের হিসাবে ২০১৮ সালে মামলার সংখ্যা ছিল ১২৬, পরের বছরই এ সংখ্যা ৬ গুণ বেড়ে ৭৩২টি এবং গত বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৯৬। এ আইনের অধিকাংশ ধারাই জামিন অযোগ্য, যদিও মামলার মেরিট এবং অভিযুক্তের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আদালত জামিন দিতে পারেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে মুশতাক আহমেদের জামিন আবেদন আদালত ৬ বার নাকচ করেছেন। এ থেকে অভিজ্ঞমহল সহজেই অনুমান করতে পারে যে, মুশতাকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার কোনো শক্তিশালী জায়গা থেকেই কলকাঠি নড়েছে।

লেখক মুশতাকের মৃত্যু নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক জোরালো বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ এবং আন্তর্জাতিক মহলে জোরালো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মুখে সরকার দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কিন্তু কথা হলো তিনি নির্যাতনে নাকি স্বাস্থ্যগত কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন সেটি এখানে বড় প্রশ্ন নয়। যে কোনো স্বাভাবিক মানুষই এমন কোনো কাজ যা কার্যত অপরাধ কিনা তাই স্পষ্ট নয়, তার জের ধরে দীর্ঘ ১০ মাস বিনা বিচারে কারাগারে কাটাতে পারেন না। পরিবার ও প্রিয়জন থেকে বিচ্ছিন্ন এই অনিশ্চিত দীর্ঘ কারাবাস যে কোনো মানুষেরই স্বাস্থ্যহানির কারণ হবে। ফলে বিনা বিচারে বন্দি অবস্থায় লেখক মুশতাকের মৃত্যুর দায় সরকার কিছুতেই এড়াতে পারে না। বাস্তবে না নিলেও নৈতিক দায়ে দায়ী করবে জনতার আদালত। এভাবে স্বাভাবিক পথে সরকারের এগিয়ে চলা আরও কঠিন হবে যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। ফলে সচেতন মানুষ দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুর্ভাবনার মধ্যেই পড়ে গেল।

advertisement