advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

আকার কমিয়ে সংশোধিত এডিপি অনুমোদন

গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দারিদ্র্য বিমোচন ও স্বাস্থ্য খাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মার্চ ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ২ মার্চ ২০২১ ২২:২১
advertisement

সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর অনুমোদন দেন। সংশোধনী প্রস্তাবে এডিপির আকার ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা করা হয়েছে।

এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসবে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়ন করা হবে ৬৩ হাজার কোটি টাকা। অবশ্য স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব ১১ হাজার ৬২৮ কোটি ৯০ লাখ টাকাসহ সংশোধিত এডিপি ২ লাখ ৯ হাজার ২৭১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। সংশোধিত এডিপি বা চূড়ান্ত এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তা খাতে কমছে সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা। ফলে চূড়ান্ত উন্নয়ন বাজেট দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ সাড়ে ৯৭ হাজার কোটি টাকায়।

এতে দারিদ্র্য বিমোচনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর অগ্রাধিকার বিবেচনায় রাখা হয়েছে। সংশোধিত এডিপিতে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবারকল্যাণ খাতে ১৪ হাজার ৯২১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মূল এডিপির ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ। মূলত কোভিড-১৯ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতকে এবারের সংশোধিত এডিপিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এনইসি সম্মেলনকক্ষ ও সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের এ সভায় যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন। সভাশেষে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী জানান, কোভিডের কারণে স্বাস্থ্য খাত ও দারিদ্র্য বিমোচনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন, আইসিটি শিক্ষার উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাসকরণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি পুনর্বাসন সংক্রান্ত প্রকল্পে অগ্রাধিকার বেশি দেওয়া হয়েছে।

মূল এডিপির মতো সংশোধিত এডিপিতেও সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে পরিবহন খাত। তবে মূল এডিপির ৫২ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা থেকে তা কমে ৪৯ হাজার ২১৩ কোটি টাকা হয়েছে।

বরাদ্দের এ পরিমাণ মোট বরাদ্দের ২৪ দশমিক ৯০ শতাংশ।

পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে বরাদ্দ মূল এডিপির ১৫ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে সংশোধিত এডিপিতে ১৮ হাজার ২৯০ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবারকল্যাণ খাতের বরাদ্দ ১৩ হাজার ৩৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৪ হাজার ৯২২ কোটি টাকা হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ। ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ণ খাতে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ বেড়ে ২৬ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা হয়েছে, যা মূল এডিপিতে ২৫ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা ছিল। বরাদ্দের এই পরিমাণ মোট এডিপির ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ, যা খাতওয়ারি হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সংশোধিত এডিপিতে ২৪ হাজার ৫৭০ কোটি টাকার বরাদ্দ পেয়েছে শিক্ষা ও ধর্ম খাত। মূল এডিপিতে তা ২৩ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা ছিল। বরাদ্দের এই পরিমাণ মোট এডিপির ১২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। সংশোধনে বিদ্যুৎ খাতের বরাদ্দ মূল এডিপির ২৪ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা থেকে কমে ২১ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ১১ দশমিক ১০ শতাংশ।

বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে মূল এডিপিতে ১৮ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। সংশোধনে তা কমে ১১ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা বা মোট বরাদ্দের ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ হয়েছে। এ ছাড়া সংশোধিত এডিপিতে কৃষি খাতে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা বা মোট বরাদ্দের ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। মোট বরাদ্দের ৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ বা ৬ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা পেয়েছে পানিসম্পদ খাত। শিল্প খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

এডিপিতে ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৮২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা মোট সংশোধিত এডিপির সাড়ে ৭৬ শতাংশ। এরই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার বিভাগে ৩৪ হাজার ১৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা মোট এডিপির ১৭ দশমিক ৪১ শতাংশ। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে ২৫ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা মোট এডিপির ১৩ দশমিক ১২ শতাংশ।

বিদ্যুৎ বিভাগকে গুরুত্ব দিয়ে ২১ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রেলপথ মন্ত্রণালয়ে ১১ হাজার ৯৮৮ কোটি এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ১১ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা মোট সংশোধিত এডিপির ৬ দশমিক ১১ শতাংশ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ১০ হাজার ৯০৩ কোটি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ১০ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে ৯ হাজার ৬৮৫, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ৭ হাজার ৩৬৪ কোটি এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে ৫ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা সচিব জানান, চলতি অর্থবছরে চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৪৪২টি শেষ করার কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের অনুকূলে নির্ধারিত অর্থ ইতোমধ্যে ছাড় হয়েছে। বৈঠকে বলা হয়, প্রকল্পগুলো এ সময়ের মধ্যেই শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে অনুশাসন দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে যদি কোনো প্রকল্প শেষ করার সময় নির্ধারণ করা হয়- সেটা সেই সময়ের মধ্যেই শেষ করতে হবে।

advertisement