advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

লালদিয়ার চরবাসীর উচ্ছেদ
দ্রুত পুনর্বাসন ও জমির সুষ্ঠু ব্যবহার চাই

৩ মার্চ ২০২১ ০০:০০
আপডেট: ২ মার্চ ২০২১ ২৩:১৫
advertisement

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের কাছে বন্দর কর্তৃপক্ষের বিপুল জমি নিয়ে লালদিয়ারচর। আগে দুই দফায় ২০ একর জমি দখলমুক্ত করা হয়েছিল। বর্তমানে ৫২ একর জমিতে এখানে প্রায় সোয়া দুই হাজার পরিবারের ১৪ হাজার মানুষ বাস করছিলেন। তথ্য অনুযায়ী এখানে তারা বাস করছেন ৪৯ বছর ধরে। সেই ১৯৭২ সালে বিমানবাহিনীর ঘাঁটি জহুরুল হক নির্মাণের সময় সেখানকার অধিবাসীদের নিজস্ব জমি থেকে উৎখাত করে খাসজমিতে পুনর্বাসন করা হয়েছিল। এখন বন্দরের কর্ণফুলী কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের জন্য এই জমি প্রয়োজন পড়ছে। এ নিয়ে আদালতের নির্দেশনাও ছিল। ভালো কথা হলো, এমন একটা উচ্ছেদ অভিযান শান্তিপূর্ণভাবে সমঝোতার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষকে বুলডোজার, এক্সাভেটর, পুলিশ বাহিনী কিছুই প্রয়োগ করতে হয়নি। তারা মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং তাদের পুনর্বাসনে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েই কাজটা সম্পন্ন করেছেন। বন্দরের শীর্ষ কর্মকর্তা ঠিকই বলেছেন, লালদিয়ার অভিযানটি এ ধরনের কাজের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সরকার এবং বন্দর কর্তৃপক্ষ ভালোভাবেই জানেন যে, যে ১৪ হাজার মানুষ ৪৯ বছরের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ হলেন তারা অসহায় মানুষ। এদের অধিকাংশের জন্মভিটাই লালদিয়া এবং সব নথিপত্রে এটিই তাদের স্থায়ী ঠিকানা। তা ছাড়া তাদের পূর্বপুরুষ বা তারা কেউই জানতেন না যে কোনো একদিন এ ঠিকানা থেকে তাদের অনিশ্চয়তার পথে যাত্রা করতে হবে। বর্তমান সরকারের দরিদ্রবান্ধব অনেক কর্মসূচি রয়েছে, আমরা আশা করব সে রকম কোনো কর্মসূচির আওতায় লালদিয়ার বাস্তুচ্যুত মানুষদের পুনর্বাসনে সরকার যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করবে। আশা করব, এমন উদ্যোগ গ্রহণে কালক্ষেপণ হবে না, মানুষগুলোর অনিশ্চিত জীবনের দ্রুতই অবসান হবে।

এই সূত্রে বলা দরকার, কেবল বন্দর নয়- রেলওয়েরও অনেক জমি জবরদখলে রয়েছে। এসব কাজে রেলের অনেক কর্মীও যুক্ত আছেন। আর এ ধরনের অপকর্ম চলে আসছে বহু বছর ধরেই। সরকারের আরও কোনো কোনো কর্তৃপক্ষের জমিও এভাবে বেহাত হয়ে রয়েছে। এখন জমি সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। এভাবে তা বেহাত হতে দেওয়া যায় না। সব জমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। এর জন্য জমির মালিকানা স্থির করা প্রাথমিক কাজ। সরকার বিভিন্ন উপযুক্ত বেসরকারি সংস্থাকেও এ জমি ইজারা দিতে পারেন- তবে তা যেন ব্যক্তিগত নয়, জন ও জাতিগত কল্যাণেই ব্যবহৃত হয়। অনেক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ স্থায়ী ভূমি ও ভবনের অভাবে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারে না। এমনকি কোনো কোনোটির অকালমৃত্যু ঘটে। তবে বর্তমান উন্নয়নের ধারায় নাগরিকদের চাহিদা পূরণেও অনেক নতুন স্থাপনা প্রয়োজন যা স্থানাভাবে করা যায় না, যেমন- পার্ক, চিড়িয়াখানা, শিশু ও বিনোদন পার্ক, আধুনিক মিলনায়তন, উন্নত বিশেষায়িত হাসপাতাল, আবাসন ইত্যাদি। ফলে খাসজমি উদ্ধার যেমন প্রয়োজন, তেমনি তার যথোপযুক্ত ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

advertisement