advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

কুমিল্লায় রাস্তা থেকে উচ্ছেদ হলো ইউপি সচিবের তিনতলা ভবন

নিজস্ব প্রতিবেদক কুমিল্লা
৩ মার্চ ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৩ মার্চ ২০২১ ১২:৪১
ইউপি সচিবের তিনতলা ভবন উচ্ছেদ করা হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

শত বছরের সরকারি রাস্তা দখল করে ইউপি সচিবের নির্মাণ করা তিনতলা ভবন অবশেষে উচ্ছেদ করেছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার উত্তর দুর্গাপুর ইউনিয়নের গুণানন্দি গ্রামে ২৮ ফুট চওড়া ওই সরকারি রাস্তা উদ্ধারের জন্য গতকাল সকাল থেকে ভবন ভাঙার কাজ শুরু করা হয়। কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনি রায় এ অভিযান পরিচালনা করেন। এলাকাবাসী এ অভিযানকে সাধুবাদ জানান।

জানা গেছে, জনসাধারণের চলাচলের জন্য গুণানন্দি গ্রামের শত বছরের পুরনো সরকারি রাস্তা বন্ধ করে তিনতলা ভবন নির্মাণ করেন ওই গ্রামের বাসিন্দা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. ইসমাইল হোসেন। এতে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। এলাকাবাসীকে পড়তে হয় দুর্ভোগে। বিএস, সিএস, আরএস খতিয়ানে এটি সরকারি রাস্তা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। প্রভাব খাটিয়ে ওই ইউপি সচিব সেখানে ভবন নির্মাণ করেন। এ নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ে ১০-১২টি সালিশ বৈঠক করেও কোনো ফল হয়নি। পরবর্তী সময় বিষয়টি মামলায় গড়ালে আদালত সরকারি রাস্তা উদ্ধারের নির্দেশ দেন।

গতকাল অভিযান চলাকালে পুলিশের একটি দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ছিল। স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় প্রথমে ভবনটির গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে বুলডোজার দিয়ে ভবন ভাঙার কাজ শুরু হয়। অভিযান পরিচালনাকালে বাড়ির নারী সদস্যরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং অশালীন আচরণ করেন। বাড়ির মালিক ইউপি সচিব ইসমাইল হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা বুলডোজারের সামনে এসে কাজে বাধা প্রদান করলে সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে ফের ভবন ভাঙার কার্যক্রম শুরু হয়।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি মেম্বার মো. জসিম উদ্দিন বলেন, মো. ইসমাইল হোসেন ইউপি সচিব হলেও তিনি নিজেকে সচিব হিসেবে পরিচয় দেন। নিজেকে তিনি সরকারের সচিব পরিচয় দিয়ে নানা সময় নানা সুবিধাও আদায় করেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ইউপি সচিবের চাকরি ছাড়া তার কোনো আয়ের রাস্তা নেই। এমনকি মাঠে এক ইঞ্চি জমিও নেই। অথচ মাত্র ৫-৬ বছরের চাকরি জীবনে তিনি এ ভবনের মালিক হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযান জরুরি হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, বহুবার সালিশ বৈঠক করেও ইসমাইলের সঙ্গে কোনো সুরাহায় আসা যায়নি। স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশও তিনি অমান্য করেছেন। অবশেষে রাস্তাটি উদ্ধার হওয়ায় এলাকাবাসী খুশি। এ ব্যাপারে ইউপি সচিব মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, আমার পৈতৃকসূত্রে প্রাপ্ত জমিতে বাড়ি করেছি। আজ সরকারি নির্দেশে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি একজন ইউপি সচিব, মিডিয়ায় বক্তব্য দিতে পরি না। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনি রায় জানান, বাড়িটি সরকারি রাস্তা দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে। একাধিক নোটিশ প্রদান করা হলেও বাড়ির মালিক কর্ণপাত করেননি। তাই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।

advertisement