advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

২ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি মামলায় রুবেল-বরকতের বিরুদ্ধে চার্জশিট

আদালত প্রতিবেদক
৩ মার্চ ২০২১ ২৩:১০ | আপডেট: ৩ মার্চ ২০২১ ২৩:১০
সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হোসেন রুবেল। পুরোনো ছবি
advertisement

দুই হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির মামলায় ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (বহিস্কৃত) মো. সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি (বহিস্কৃত) ইমতিয়াজ হোসেন রুবেল (৪৫) সহোদরসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে সিআইডি।

আজ বুধবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ কমিশনার (এএসপি) উত্তম কুমার সাহা এ চার্জশিট সিএমএম আদালতে দাখিল করেছেন।

চার্জশিটের অপর আট আসামি হলেন- ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার নাজমুল হাসান লেভী ও শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিবুর রহমান ফারহান, এএইচ এম ফুয়াদ, ফাহাদ বিন শাহীন, কামরুল হাসান ডেবিট, মোহাম্মাদ আলী মিনার, তারিকুল ইসলাম নাছির ও খন্দকার সয়েস্তা হোসেন বাবর।

আর অব্যাহতির আবেদন করা ৪ জন হলেন, ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফকির বেলায়েত হোসেন এবং ইশান গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মজনু, জেলা শ্রমিক লীগের অর্থ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন ও  ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহমুদ শামীম।

মামলায় দুই সহোদর রুবেল-বরকত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের স্বীকারোক্তিতে চার্জশিটভুক্ত অব্যাহতিপ্রাপ্তদের নাম আসে।

মামলায় এর মধ্যে দুই সহোদরের ৫ হাজার ৭০৬ বিঘা জমি, ৫৫টি গাড়ী ক্রোক ও ১৮৮টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ফ্রিজের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার বিবরণে বলা হয়, আসামি বরকত ও রুবেল ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানাধীন ব্রাহ্মণকান্দা গ্রামের মৃত আব্দৃস সালাম মন্ডলের ছেলে। তারা প্রথম জীবনে ফরিদপুর জেলার রাজবাড়ী মোড়ে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা চাঁন খন্দকারের অফিসে চা-পান সরবরাহ করত। ১৯৯৪ সালে চাঁন খন্দকের  নির্দেশে এ দুই ভাই ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন খোকনকে নির্মমভাবে হত্যা করে মর্মে বরকতসহ অন্যান্যদের ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় মামলা হয়। যার মামলা নম্বর-৪২(১১)১৯৯৪, ধারা-৩০২/৩৪ দণ্ডবিধি। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০০২ সালের পর বরকত ও রুবেল তাদের গুন্ডাবাহিনী নিয়ে ফরিদপুর বাসস্ট্যান্ড, ট্রাকস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা ব্যাপকভাবে শুরু করে।

মামলায় বলা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে তৎকালীন সময়ে তাদের কোন ধরণের স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি ছিল না মর্মে জানা যায়। ২০০৮ সাল থেকে বরকত ও রুবেল সহোদর ফরিদপুর জেলার এলজিইডি, বিআরটিএ, রোডস এন্ড হাইওয়ে, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, পাসপোর্ট অফিস, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারী তারা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাদের লোকজন দিয়ে পরিচালনা করে অবৈধ পন্থায় কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে আসছে। একই সঙ্গে তারা ভূমি দখল, টেন্ডার ও পরিবহন সেক্টরের ব্যাপক চাঁদাবাজি শুরু করে। এছাড়া মাদক ব্যবসায় তাদের মনোনিত লোকজন দিয়ে পরিচালনা করে প্রচুর অংকের টাকা অবৈধভাবে অর্জন করে।

মামলায় বলা হয়, ঢাকা শহরের কাফরুল থানাধীন মহাখালী ডিগএইচএস বাড়ী নং-৩১৬, রোড নং-২১, লেভেল নিউ ডিওএইচএস এ অফিস ভাড়া নিয়ে দুই ভাই তাদের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসাস এসবি ট্রেডার্স, মেসাস সাজ্জাদ বরকত কনষ্ট্রাকশন এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লি., মেসাস রুবেল ট্রেডাস, রাফিয়া কনষ্ট্রাকশনের মাধ্যমে ফরিদপুর জেলার এলজিইডি অফিসসহ বাংলাদেশের সকল এলজিইডি অফিসের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চাঁদাবাজির মাধ্যমে ২০১০ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত অবৈধ পন্থায় টাকা উপার্জন শুরু করে। সংঘবন্ধ মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, হত্যা, বিদেশী মুদ্রা পাঁচার ও হুন্ডির মাধ্যমে বিগত দুই দশকের মধ্যে তারা অর্জিত অবৈধ অর্থের দ্বারা সাউথ লাইন যাত্রী পরিবহনের এসি/ননএসি ২৪টি বাস, ১০টি ট্রাক, দুইটি পাজেরো, দুইটি মাইক্রোবাস, ১টি নিশান মিনিবাস। যার অধিকাংশ নম্বরহীন।

এ ছাড়া একটি গেস্ট হাউজ, ৮ হাজার বর্গফিটের উপর নবনির্মিত বিল্ডিং, বরকত এগ্রো প্রা. লিমিটেড, মেসাস এসবি ডেইরি ফার্ম, নর্থ চ্যানেল বাগানবাড়ী, এসবি ব্রিকফিল্ড, এসবি পাথর ক্রসিং, এসবি প্রেস, এসবি ট্রেডার্স, বরকত কনষ্ট্রাকশন এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ও ১টি পেট্রোল পাম্প প্রতিষ্ঠা করে। এছাড়া আসামিরা ফরিদপুর জেলাধীন বিভিন্ন উপজেলার গোয়ালচমট, বদরপুর, ডোমরাকান্দি, কৈজুরি, তাম্বুলখানা, কবিরপুর, তুলাগ্রাম, পিয়ারপুর, শিবরামপুর, চরফাতেপুর, নর্থ চ্যানেল ৩৮ দাগ, চন্ডিপুর, চাঁদপুর এলাকায় ভূ-সম্পত্তি গড়ে তোলেন।

তারা অবৈধ কার্যকলাপ পরিচালনার জন্য অবৈধ অস্ত্র বহন করায় গত ৮ জুন তারা অবৈধ অস্ত্র ও বিদেশী মদ, ইয়াবা ট্যাবলেট, চাল, ডলার, ভারতীয় রুপীসহ গ্রেপ্তার হয়। ওই ঘটনায় ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় ১৬(৬)২০২০, ১৮(৬)২০২০ এবং ১৯(৬)২০২০ নম্বরে পৃথক ৩টি মামলা হয়েছে। মামলায় বলা হয়, আসামিগণ অবৈধ পন্থায় অর্জিত টাকা দ্বারা উল্লেখিত সম্পদের মালিক হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাদের সম্পত্তির মূল্য অনুমান ২ হাজার কোটি টাকা।

advertisement