advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি
বরকত-রুবেলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল

৪ মার্চ ২০২১ ০১:৩৪
আপডেট: ৪ মার্চ ২০২১ ০১:৩৪
advertisement

দুই হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির মামলায় ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মো. সাজ্জাদ হোসেন বরকত এবং ফরিদপুর প্রেসক্লাবের বহিষ্কৃত সভাপতি ইমতিয়াজ হোসেন রুবেলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে সিআইডি। গতকাল বুধবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা
সিআইডির সহকারী পুলিশ কমিশনার (এএসপি) উত্তম কুমার সাহা সিএমএম আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন।
চার্জশিটে দুই ভাই বরকত ও রুবেল ছাড়াও অন্য আট আসামি হলেনÑ ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার নাজমুল হাসান লেভী, শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিবুর রহমান ফারহান, এএইচএম ফুয়াদ, ফাহাদ বিন শাহীন, কামরুল হাসান ডেবিট, মোহাম্মাদ আলী মিনার, তারিকুল ইসলাম নাছির ও খন্দকার শায়েস্তা হোসেন বাবর।
চার্জশিটে চার আসামিকে অব্যাহতি প্রদানের জন্য আবেদন করা হয়। তারা হলেনÑ কানাইপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফকির বেলায়েত হোসেন, ইশান গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মজনু, জেলা শ্রমিক লীগের অর্থসম্পাদক বিল্লাল হোসেন এবং জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহমুদ শামীম।
বরকত-রুবেল সহোদর ইতোমধ্যেই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলায় তাদের পাঁচ হাজার ৭০৬ বিঘা জমি ও ৫৫টি গাড়ি ক্রোক এবং ১৮৮টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ফ্রিজের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার বিবরণে বলা হয়, আসামি বরকত ও রুবেল প্রথম জীবনে ফরিদপুরের রাজবাড়ী মোড়ে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা চান খন্দকারের অফিসে ফুট ফরমায়েশে চা-পান সরবরাহ করত। ১৯৯৪ সালে এই চান খন্দকারের নির্দেশেই দুই ভাই ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন খোকনকে নির্মমভাবে হত্যা করে মর্মে বরকতসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা হয় [মামলা নং-৪২(১১)১৯৯৪, ধারা-৩০২/৩৪ দ-বিধি]। পরবর্তী সময়ে মামলাটির তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০০২ সালের পর বরকত ও রুবেল তাদের গু-াবাহিনী নিয়ে ফরিদপুর বাসস্ট্যান্ড, ট্রাকস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির পাশাপাশি ব্যাপকভাবে মাদকের কারবার শুরু করে।
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে তৎকালে তাদের কোনো ধরনের স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি ছিপ ল না মর্মে জানা যায়। ২০০৮ সাল থেকে বরকত-রুবেল সহোদর ফরিদপুর জেলার এলজিইডি, বিআরটিএ, রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, পাসপোর্ট অফিস, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। নিজেদের লোকজন দিয়ে এ দুই ভাই অবৈধ পন্থায় কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে আসছে। একই সঙ্গে তারা ভূমিদখল, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবহন খাতে ব্যাপক চাঁদাবাজি শুরু করে। এ ছাড়া লোকজনের মাধ্যমে মাদকের কারবার চালিয়ে অবৈধভাবে প্রচুর অংকের অর্থ অর্জন করে।
মামলায় বলা হয়, ঢাকা শহরের কাফরুল থানাধীন মহাখালী ডিওএইচএস বাড়ি নং-৩১৬, রোড নং-২১, লেভেল নিউ ডিওএইচএসে অফিস ভাড়া নিয়ে দুই ভাই তাদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসাস এসবি ট্রেডার্স, মেসাস সাজ্জাদ বরকত কনষ্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, মেসাস রুবেল ট্রেডার্স, রাফিয়া কনস্ট্রাকশনের মাধ্যমে ফরিদপুর জেলার এলজিইডি অফিসসহ বাংলাদেশের সব এলজিইডি অফিসের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চাঁদাবাজির মাধ্যমে ২০১০ সাল থেকে অবৈধ পন্থায় টাকা কামাতে শুরু করে। সংঘবদ্ধভাবে মাদকের কারবার, চাঁদাবাজি, ভূমিদখল, হত্যা, বিদেশে অর্থপাচার ও হুন্ডির মাধ্যমে দুই দশকের মধ্যে তারা অর্জিত অবৈধ অর্থের দ্বারা সাউথ লাইন যাত্রী পরিবহনের এসি/ননএসি ২৪টি বাস, ১০টি ট্রাক, দুটি পাজেরো, দুটি মাইক্রোবাস, একটি নিশান মিনিবাসের মালিক হন। এগুলোর অধিকাংশই রেজিস্ট্রেশন নম্বরহীন। এ ছাড়া একটি গেস্টহাউস, ৮ হাজার বর্গফুটের উপর নির্মিত ভবন, বরকত এগ্রো প্রা. লিমিটেড, মেসার্স এসবি ডেইরি ফার্ম, নর্থ চ্যানেল বাগানবাড়ী, এসবি ব্রিকফিল্ড, এসবি পাথর ক্রসিং, এসবি প্রেস, এসবি ট্রেডার্স, বরকত কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং একটি পেট্রোল পাম্প প্রতিষ্ঠা করে। এ ছাড়া আসামিরা ফরিদপুর জেলাধীন গোয়ালচমট, বদরপুর, ডোমরাকান্দি, কৈজুরি, তাম্বুলখানা, কবিরপুর, তুলাগ্রাম, পিয়ারপুর, শিবরামপুর, চরফাতেপুর, নর্থ চ্যানেল ৩৮ দাগ, চি পুর, চাঁদপুর এলাকায় ভূ-সম্পত্তি গড়ে তোলেন। অবৈধ কার্যকলাপ পরিচালনা এবং অবৈধ অস্ত্র বহন করায় তাদের গত ৮ জুন গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র, বিদেশি মদ, ইয়াবা ট্যাবযলেট, চাল, ডলার, ভারতীয় রুপী জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় ফরিদপুর কোাাতায়ালী থানুুায় ১৬(৬)২০২০, ১৮(৬)২০২০ এবং ১৯(৬)২০২০ নম্বরে পৃথক ৩টি মামলা হয়েছে। মামলায় বলা হয়, আসামিগণ অবৈধ পন্থায় অর্জিত টাকা দ্বারা উল্লিখিত সম্পদের মালিক হয়েছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের সম্পত্তির মূল্য প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা।

advertisement