advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বরিশালে শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মৃত্যু
বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মার্চ ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৪ মার্চ ২০২১ ০১:৩৯
advertisement

বরিশালে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের হাতে শিক্ষানবিশ আইনজীবী রেজাউল করিম রেজার মৃত্যুর ঘটনা বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, আইনে যেহেতু সুযোগ আছে, সেহেতু আবেদনকারী সেই সুযোগ পেতে পারেন। এ কারণে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলো। বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ ঘটনার তদন্ত করবেন। এক আবেদনের শুনানি নিয়ে গতকাল বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির, রাষ্টপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

আইনজীবী শিশির মনির জানান, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিবর্তে এখন মামলাটির তদন্ত বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে দেওয়া হয়েছে। তবে কতদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে সেটি বলা হয়নি। হয়তো আদেশের কপিতে সময় উল্লেখ থাকবে।

রেজাউলের মৃত্যুর ঘটনায় থানা মামলা না নেওয়ায় গত ৫ জানুয়ারি তার বাবা ইউনুস মুনশি বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলায় ডিবি পুলিশের এসআই মহিউদ্দিন আহমেদকে প্রধান আসামি করা হয়। এ ছাড়া আরও দুজনকে আসামি করা হলেও তাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে বরিশাল নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের হামিদ খান সড়কের একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে রেজাউলকে আটক করেন এসআই মহিউদ্দিন। তার কাছে মহিউদ্দিন দুজন মাদক ব্যবসায়ীর নাম জানতে চান। রেজাউল কিছু জানেন না বললে তার পকেটে হাত দিয়ে নেশাজাতীয় ইনজেকশন

পাওয়ার দাবি করে আটক করে নিয়ে যান। এর পর রেজাউলের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরে আহত রেজাউলকে থানার মাধ্যমে পাঠানো

হয় বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ১ জানুয়ারি রেজাউলকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২ জানুয়ারি রাতে তিনি মারা যান। পরে আদালত পিবিআইকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন; কিন্তু সঠিক তদন্ত হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ করেন রেজাউলের পরিবার ও আইনজীবীরা।

আইনজীবী শিশির মনির বলেন, হত্যার অভিযোগে যেহেতু পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেহেতু সেটির তদন্তভার আবার পুলিশের ওপরই দেওয়া সমীচীন নয়। পুলিশ পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্ত করলে সঠিক তথ্য উঠে আসা বা ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হতে পারে। তাই এই মামলার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১-এর (ক) ধারার ক্ষমতাবলে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে আবেদন জানানো হয়।

advertisement