advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ফের রক্তাক্ত মিয়ানমার, গুলিতে বিক্ষোভকারী নিহত

অনলাইন ডেস্ক
৫ মার্চ ২০২১ ১৭:০২ | আপডেট: ৫ মার্চ ২০২১ ২০:৪৮
মিয়ানমারে অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলনে গুলিতে আরও একজন বিক্ষোভকারী নিহত
advertisement

মিয়ানমারে চলমান সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলনে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে আরও একজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার দেশটি দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। মিয়ানমারের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবকটি মারা গেছে।

আজ শুক্রবার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চির সরকারকে ক্ষমতায় পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ শুরুর পরপরই দেশজুড়ে তাদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। মান্দালয়ে কাঁদুনে গ্যাস, স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে পুলিশ, কিন্তু তাতেও বিক্ষোভকারীদের হটাতে না পেরে সরাসরি গুলি চালালে এই ঘটনা ঘটে ।

গত ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বেসামরিক সরকারকে হঠিয়ে সেনাবাহিনী মিয়ানমারের ক্ষমতা দখলের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫৪ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এর মধ্যে গত বুধবার ছিল সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন। সেদিন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর গুলিতে ৩৮ জন নিহত হয়।

মিয়ানমারে শান্তিপূর্ণভাবে অভ্যুত্থানবিরোধী প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়াদের ওপর ‘নির্মম নিপীড়ন’ বন্ধে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার মিশেল বাশেলেট। তিনি বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে অবশ্যই প্রতিবাদকারীদের হত্যা ও ধরপাকড় বন্ধ করতে হবে। দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভেরতদের ওপর নিরাপত্তাবাহিনীর তাজা গুলি নিক্ষেপ একেবারে অগ্রহণযোগ্য।

বাশেলেট জানান, অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলনে এরই মধ্যে ১ হাজার ৭শর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে সাংবাদিকই ২৯ জন।

উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সু চির সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশটির সর্বময় ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং। গ্রেপ্তার করা হয় স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টকে। একাধিক মামলা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

এই সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে ব্যাপক গণ বিক্ষোভ এবং নাগরিক অসহযোগ আন্দোলন চলছে। বিক্ষোভকারীরা সেনা শাসনের অবসান এবং দেশটির নির্বাচিত নেতাদের মুক্তির দাবি করছেন।

মিয়ানমারের সামরিক জান্তার ওপর আন্তর্জাতিক চাপও বাড়ছে। সেখানকার সংকট নিয়ে আলোচনা করতে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে।

দেশটির সামরিক জান্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভে রক্ষিত এক বিলিয়ন ডলার সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা। তবে সেই অর্থ তহবিল অবরুদ্ধ করেছে বাইডেন প্রশাসন।

advertisement