advertisement
advertisement

সব খবর

advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

র‌্যালিতে ফটো সেশনকে কেন্দ্র করে আ.লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৫

রাজৈর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
৭ মার্চ ২০২১ ১৭:১৫ | আপডেট: ৭ মার্চ ২০২১ ২০:৪৩
সংঘর্ষের ছবি
advertisement

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনসমূহ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পনের পর আয়োজিত র‌্যালির ব্যানারের সামনে দাঁড়িয়ে ফটো সেশনের সময় কটূক্তি করা নিয়ে দলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া  ও ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

আজ রোববার সকালে সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়েছে।

সংঘর্ষে আহত পৌর যুবলীগের সভাপতি শহীদ মোল্যাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছা সেবকলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিকল্প খালাশীকে রাজৈর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা যায়, আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন সমূহে পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন করায় দীর্ঘ দিন ধরে রাজৈর আওয়ামী লীগের দ্বিধা বিভক্ত রাজনীতি ক্রমেই সংঘাতমুখী হয়ে পড়ছে। এর নিরসন না হলে যেকোনো মুহূর্তে মারাত্মক ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে রাজৈর বাসী ধারণা করছে।

একাধিক দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাজৈর উপজেলার বেপারীপাড়া মোড়ে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালন উপলক্ষে আজ সকাল ৮টার দিকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পনের পর আয়োজিত র‌্যালির ব্যানারের সামনে দাঁড়িয়ে ফটো সেশনের  সময় মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লার সমর্থক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জামাল মাতুব্বর ও প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহজাহান খান এমপির সমর্থক উপজেলার বঙ্গবন্ধুর মানব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি নাসির খালাসী মধ্যে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনসমুহের  দুই  গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এসময় পৌর যুবলীগের সভাপতি শহীদ মোল্যা মারাত্মক আহত হয়। শহিদ মোল্যাকে প্রথমে রাজৈর ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। পরে বেলা ১০টার দিকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিকল্প খালাশী রাজৈর বাসস্ট্যান্ড দিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন বিকল্প খালাশীকে বেদম মারধর করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় বিকল্প খালাশীকে উদ্ধার করে রাজৈর হাসাপাতালে ভর্তি করে। এসময় তার মোটর সাইকেলটি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

রাজৈর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জমিরউদ্দিন খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, উভয় গ্রুপকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্নভাবে অনুষ্ঠানগুলো সম্পন্ন করার চেষ্টা করলেও একটি পক্ষ প্রত্যেকটি অনুষ্ঠান পালনে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করে আসছে।

প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহজাহান খান এমপির  রাজৈর প্রতিনিধি আফম ফুয়াদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, রাজনৈতিক বিরোধ থাকতে পারে। তাই বলে মারামারি ও সংঘাত মোটেই কাম্য নয়। ঘটনাটির শাস্তিপূর্ন সমাধান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিপূর্বে ৪ মার্চ আওয়ামী লীগ অফিসে উভয় গ্রুপের যৌথ অংশগ্রহণে ৭ মার্চ পালনে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও উভয় গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হয়।

তিনি জানান, ১৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাকক্ষে ২৬ মার্চ উদযাপনে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হয়। এভাবে যেকোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে সংঘাত লেগেই থাকে।

রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাদিক জানান, ছবি তোলা নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হয়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

advertisement