advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

দেশে এক বছরে আক্রান্ত ছাড়াল সাড়ে ৫ লাখ

নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ মার্চ ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৮ মার্চ ২০২১ ০১:৩০
advertisement


বাংলাদেশে গত মাসে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতে করোনা শনাক্তের হার ছিল ২.৩ শতাংশ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শনাক্তের হার ছিল ২.৮৭ শতাংশ। গতকাল রবিবার করোনা রোগী শনাক্ত দিয়ে ঠেকেছে ৪.৩০ শতাংশে। এই হিসাবে শনাক্তের সংখ্যা এখন এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ। মাঘ মাস শেষে ফাল্গুনে এসে মার্চ মাসে দৈনিক শনাক্তের হার ঊর্ধ্বমুখী হতে দেখা যাচ্ছে।
এখন করোনা শনাক্ত ৬ শতাধিক। দেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার ঠিক এক বছরের মাথায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা সাড়ে ৫ লাখ ছাড়িয়ে গেল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬০৬ রোগী শনাক্ত হয়েছে দেশে। তাতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৫ লাখ ৫০ হাজার ৩৩০ জনে। একই সময়ে আরও ১১ জনের মৃত্যু হওয়ায় মৃতের মোট সংখ্যা পৌঁছছে ৮ হাজার ৪৬২ জনে। দেশে করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ২১ থেকে ৪০ বছরের বয়সী মানুষ। আক্রান্তের মধ্যে পুরুষ ৭১ শতাংশ। মৃত্যুও হয়েছে পুরুষের বেশি। এর মধ্যে অধিকাংশই বয়স্ক।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, করোনার সংক্রমণ দীর্ঘ সময় ধরে চলছে। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে সংক্রমণ কিছুটা কমলেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এর পর আবার বেড়েছে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে সংক্রমণ কমলেও এ মাসের শুরু থেকে আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কেন সংক্রমণ বাড়ছে এমন প্রশ্নের জবাবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের মধ্যে ঢিলেভাব তৈরি হয়েছে। সামাজিক অনুষ্ঠান হচ্ছে, সেখানে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। মাস্ক পরার প্রবণতাও কমেছে। এ ছাড়া এখন যারা শুধু সেন্টারে আসছে তাদেরই পরীক্ষা হচ্ছে। অনেকে লক্ষণ-উপসর্গ নিয়েও পরীক্ষা করাচ্ছে না। তাই করোনার প্রকৃত চিত্র জানতে হলে যেখানে সংক্রমণ হচ্ছে এবং যেখানে লোক মারা যাচ্ছে সেখানকার টেস্ট বাড়াতে হবে।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ৩ জন রোগী শনাক্ত হয়। এসব রোগী ছিল ঢাকা ও মাদারীপুর জেলার। প্রথমদিকে সংক্রমণ বেশি হওয়ায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মাদারীপুরকে ক্লাস্টার এরিয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সংক্রমণ রোধে ক্লাস্টার এরিয়া লকডাউন করে স্থানীয় প্রশাসন। এরপর মাদারীপুরে সংক্রমণের বিস্তার বেশি না হলেও ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় সংক্রমণ বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে মানুষ বিভিন্ন স্থানে গমন করায় ছড়াতে থাকে সংক্রমণ। সে সময় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা, সবাই মাস্ক পরা, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া ও রোগীদের টেস্ট করে আইসোলেশ-কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং নিশ্চিতের পরামর্শ দিয়েছিলেন। যা কিছু কিছু সময় মানা হয়েছে আর আইসোলেশ-কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং তেমন মানা হয়নি।
করোনার মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের ৮ মার্চ করোনা রোগী শনাক্তের পর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১ হাজার ৫১৫টি। রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫১ জন, মারা যায় ৫ জন এবং সুস্থ হয় ২৫ জন। এপ্রিলে ৬৩ হাজার ৬৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এসব নমুনা থেকে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ৬১৬ জন। একই সময়ে করোনায় মারা গেছে ১৬৩ জন এবং সুস্থ হয়েছে ১৩৫ জন। মে মাসে ২ লাখ ৪৪ হাজার ২৬৪টি নমুনা পরীক্ষা করে রোগী শনাক্ত হয় ৩৯ হাজার ৪৮৬ জন। একই সময়ে মারা গেছেন ৪৮২ জন এবং সুস্থ হয়েছে ৯ হাজার ৬২১ জন।
জুন মাসে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৭টি নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯৮ হাজার ৩৩০ জন। মারা গেছে ১ হাজার ১৯৭ জন এবং সুস্থ হয়েছে ৪৯ হাজার ৮৪৪ জন। জুলাই মাসে ৪ লাখ ১০ হাজার ৪০২টি নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয় ৯২ হাজার ১৭৮ জন। মারা যায় ১ হাজার ২৬৪ জন। আগস্টে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৩৯৪টি। রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭৫ হাজার ৩৩৫ জন, মারা গেছে ১ হাজার ১৭০ জন। সেপ্টেম্বরে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৪৫২টি। রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫০ হাজার ৪৮৩ জন, মারা গেছে ৯৭০ জন। অক্টোবর মাসে পরীক্ষা হয়েছে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৭টি নমুনা। রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪৪ হাজার ২০৫ জন, মারা গেছে ৬৭২ জন। নভেম্বরে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৪৩৯টি। এর মধ্যে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫৭ হাজার ২৪৮ জন, মারা যান ৭২১ জন। ডিসেম্বরে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৮৯৭টি। রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪৮ হাজার ৫৭৮ জন, মারা যান ৯১৫ জন।
গত জানুয়ারি থেকে দেশে সংক্রমণ কিছুটা কমতে থাকে। এ মাসে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪ লাখ ২৪ হাজার ১২৭টি নমুনা। রোগী শনাক্ত হয় ২১ হাজার ৬২৯ জন। একই সময়ে মারা গেছে ৫৬৮ জন। ফেব্রুয়ারিতে এসে সংক্রমণ আরো খানিকটা কমে। ওই মাস পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩ লাখ ৯২ হাজার ৩০৫টি। রোগী শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৭৭ জন। একই সময়ে মারা যান ২৮১ জন।
কিন্তু চলতি মাসের শুরু থেকেই সংক্রমণ যেন আবার খানিকটা বাড়তে শুরু করেছে। গত ১ মার্চ থেকে গতকাল রবিবার পর্যন্ত সময়ে ১ লাখ ২ হাজার ১৭৮টি নমুনা পরীক্ষা করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ১১৪ জন। একই সময়ে মারা গেছে ৫৪ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ২১ থেকে ৪০ বছরের বয়সী মানুষ। এখন পর্যন্ত মোট শনাক্তের ৭১ শতাংশ পুরুষ এবং নারী ২৯ শতাংশ। বয়সভিত্তিক তথ্য বলছে, আক্রান্তদের মধ্যে ১ থেকে ১০ বছর বয়সী ৩ শতাংশ, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ৭ শতাংশ, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ২৮ শতাংশ, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২৭ শতাংশ, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১৭ শতাংশ, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১১ শতাংশ এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী ৭ শতাংশ রয়েছে।
করোনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে বয়স্ক মানুষের। মৃত্যুর প্রায় ৫৬ শতাংশ হচ্ছে ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে। মৃতের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৬০ বছরের বেশি বয়সী ৪ হাজার ৭১২ জন, যা মোট মৃত্যুর ৫৫.৬৮ শতাংশ। ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ২ হাজার ৯৪ জন, যা মোট মৃত্যুর ২৪.৭৫ শতাংশ।

advertisement