advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী
সব নির্দেশনা ছিল ৭ মার্চের ভাষণে

নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ মার্চ ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৭ মার্চ ২০২১ ২৩:৪২
advertisement

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান। ‘ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ ২০২১’ উদযাপন উপলক্ষে রবিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

জনগণের ভোটে নির্বাচিত বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতা দিতে পশ্চিম পাকিস্তানিরা যখন ষড়যন্ত্র শুরু করে, তখন ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ আসে বঙ্গবন্ধুর বজ্রঘোষণাÑ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার সমাবেশে সেই ভাষণের পর থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান কার্যত বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই পরিচালিত হতে থাকে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই ভাষণের ভেতরে আপনি তিনটি স্তর পাবেন। একটি ঐতিহাসিক পটভূমি আছে যে, বাঙালির বঞ্চনার ইতিহাস, অত্যাচার-নির্যাতনের ইতিহাস। তখনকার অবস্থাটাÑ কীভাবে সেই পাকিস্তানি সামরিক জান্তারা গুলি করে মানুষকে হত্যা করেছে, কীভাবে মানুষ ভোট দিয়েছে। কীভাবে অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করেছে সেই বঞ্চনার ইতিহাস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলোÑ এ ভাষণের মধ্য দিয়ে তিনি (বঙ্গবন্ধু) একটা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার সব নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। কারণ একটা গেরিলা যুদ্ধ হবে, সেই গেরিলা যুদ্ধ হতে হলে কী কী করতে হবে; সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলা থেকে শুরু করে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে বলেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু এটাও জানতেন, যে মুহূর্তে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণাটা বাস্তবে অফিশিয়ালভাবে দেবেন,

সেই মুহূর্তে হয়তো তিনি বেঁচে না-ও থাকতে পারেন। সেজন্য তার এই ঐতিহাসিক ভাষণের ভেতরেই কিন্তু স্বাধীনতার ঘোষণাটা দিয়ে গেলেন।’

‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’Ñ ভাষণে বঙ্গবন্ধুর এই কথাটি দুবার উচ্চারণের কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, অর্থাৎ এটা যে স্বাধীনতার সংগ্রাম আর এই যুদ্ধটা যে স্বাধীনতা যুদ্ধ হবে, সেই কথাটাই স্পষ্ট বলে গেছেন। কাজেই এটা একদিক দিয়ে বলতে গেলে ৭ মার্চই তো প্রকৃত স্বাধীনতার ঘোষণা।’

এই ঘোষণার পর থেকে পূর্ববঙ্গ কীভাবে চলবে, জাতির পিতা সেই নির্দেশনা দেওয়ার কথাও বলেন। বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ কোনো লিখিত ভাষণ দেননি। তার জীবনের সমস্ত সংগ্রামের যে অভিজ্ঞতা এবং তার বাঙালি জাতিকে নিয়ে যে লক্ষ্য, সে লক্ষ্যস্থির করেই কিন্তু এই ভাষণটা দিয়েছিলেন আর এই পরামর্শটা আমার মা-ই দিয়েছিলেনÑ বলেন শেখ হাসিনা।

ঐতিহাসিক সেই ভাষণ দেওয়ার আগে অনেকের অনেক ধরনের পরামর্শ ছিল, যা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি আরও বলেন, ‘তখন আমাদের ছাত্রনেতাদের অনেকে ... নাম বলতে আপত্তি নেই। যেমনÑ সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদসহ অনেক ছাত্রনেতা ৩২ নম্বরে এসেছেন। সিরাজুল আলম খান বার বার জানাতে চাইছিলেনÑ আজকেই স্বাধীনতার ঘোষণাটা দিতে হবে। সেই সময় অনেক বুদ্ধিজীবী লিখতেন, পয়েন্ট দিয়ে দিয়ে যেতেন আবার কেউ পরামর্শ দিয়ে যেতেনÑ কী করে বলতে হবে, কী বলতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সিরাজুল আলম খানকে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেনÑ একটা কথা বার বার আমার কানে এখনো বাজে। বলেছিলেনÑ সিরাজ, লিডার শুড লিড দ্য ল্যাড। ল্যাড শুড নট লিড দ্য লিডার। কী করতে হবে আমি জানি। তোমরা তোমাদের কাজ কর, যাও।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রতিটি ক্ষেত্রে, সংগ্রামের ক্ষেত্রে, আন্দোলনের ক্ষেত্রে একটা পরিমিতিবোধ কিন্তু থাকতে হয়। ৭ মার্চের ভাষণ যখন দিতে যাবেন, তখন আমার মায়ের একটাই পরামর্শ ছিলÑ সারাটাজীবন সংগ্রাম করেছ তুমি। তোমার মনে যেই কথা আছে, তুমি ঠিক সেই কথাটাই বলবে। কারও কথা শুনবার প্রয়োজন নেই।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর ৭ মার্চের ঐতিহসিক ভাষণ প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতিহাসকে এত সহজে মুছে ফেলা যায় না। সত্যকে কখনো দাবিয়ে রাখা যায় না। বাঙালিকে দাবায়ে রাখা যায় নাÑ এটা তো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবই বলে গেছেন তার ৭ মার্চের ভাষণে। বিশ্বজুড়ে এখন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে এবং তার অন্তর্নিহিত অর্থ খুঁজে বের করার চেষ্টাও চলছে, যা বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে বাঙালি জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ তার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক মুক্তি পাবে। সেই মুক্তির পথে অনেক দূর আমরা এগিয়ে গেছি। ইনশা আল্লাহ আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলব।’

গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্র প্রান্তে অনুষ্ঠানে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, সংস্কতি সচিব বদরুল আরেফীনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা নিবেদন : রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাইরে এলেন প্রধানমন্ত্রী

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে স্বশরীরে এসে এই শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন তিনি। করোনাকালে এই প্রথম কোনো রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে গণভবনের বাইরে এলেন প্রধানমন্ত্রী। তবে গণজমায়েত এড়াতে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেননি তিনি। সকাল ৯টায় ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এর আগে শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশ নিয়েছেন। অধিবেশনে সংসদ সদস্য, সাংবাদিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কোভিড-১৯ টেস্ট করে অংশ নিতে হয়। মানতে হয় কঠোর স্বাস্থ্যবিধি।

গতকাল সকালে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার ছোট বোন শেখ রেহানাও ছিলেন। তারা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন। পরে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শাহাদাতবরণকারীদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্সের ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লাখো জনতার উপস্থিতিতে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। এর মাধ্যমে তিনি বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেন। তার ওই বক্তব্যই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজতলা।

advertisement