advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

নারী দিবসে আইসিএবির অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী
প্রত্যেক নারীই চিত্রাঙ্গদা

৯ মার্চ ২০২১ ০৮:৩৮
আপডেট: ৯ মার্চ ২০২১ ০৮:৩৮
advertisement


শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, প্রত্যেক নারীই চিত্রাঙ্গদা। প্রত্যেক নারী পুরুষের পাশাপাশিÑ পিছে নয়, সামনে নয়। পাশাপাশি চলবার অধিকার আছে। সেই অধিকার আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্নে পর্যন্ত। তা হলে আমরা সেই সমতার বিশ্বে পৌঁছাতে পারবÑ যেখানে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে অশেষ সম্ভাবনা। ছোটবেলার স্মৃতি স্মরণ করে আবৃত্তি করেন- ‘নহি দেবী, নহি সামান্যা নারী।/ পূজা করি মোরে রাখিবে ঊর্ধ্বে/ সে নহি নহি,/ হেলা করি মোরে রাখিবে পিছে/ সে নহি নহি।/ যদি
পার্শ্বে রাখ মোরে/ সংকটে সম্পদে, /সম্মতি দাও যদি কঠিন ব্রতে/ সহায় হতে,/ পাবে তবে তুমি চিনিতে মোরে।/ আজ শুধু করি নিবেদন-/ আমি চিত্রাঙ্গদা রাজেন্দ্রনন্দিনী॥’ গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) আয়োজিত নিজস্ব ক্যাম্পাসের মিলনায়তনে ‘চ্যালেঞ্জিং ইনকোয়াটি অ্যান্ড এমপাওয়ারিং অপারচুনিটি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ডা. দীপু মনি বলেন, ‘নারীর পাশে দাঁড়াতে হবে। নারীকে এগিয়ে দিতে হবে। যে পুরুষ মনে করে নারীকে এগিয়ে দিলে আপনি মনে হয় পিছিয়ে গেলেন, আমি বলবÑ সে পুরুষকে আর যাই হোকÑ তাকে বুদ্ধিমান বলা যায় না। কারণ, নারী একটু এগোলে দেশ এগোবে অনেক বেশি।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নারীদের বিনিয়োগ- এটা সবচেয়ে স্মার্ট বিনিয়োগ। যে পুরুষ এটা এখনো মেনে নেয় না, তারা স্মার্ট নয়। বিনিয়োগ মানে গতানুগতিক বিনিয়োগ নয়। এটা হচ্ছে তার পাশে দাঁড়ানো। তার যত সম্ভাবনা আছে, তাকে সহযোগিতা করুন। তার সম্ভাবনাকে বিকশিত করার সুযোগ দিন। নারীর অন্তর্নিহিত শক্তিকে নারীর নিজেও অনুধাবন করতে হবে। পুরুষেরও সেটাকে মর্যাদা দিতে হবে। তা হলে আমরা এগিয়ে যাব।’
পেশাগত দক্ষতা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী পড়ে পাস করে এবং ডিগ্রি নিয়ে বেরিয়ে আসে। সে চাকরি পাচ্ছে না। আবার যে চাকরিদাতা, সে বলে আমি সঠিক দক্ষতার লোক খুঁজে পাচ্ছি না। একটা দূরত্ব আছে, একটা ব্যবধান আছেÑ একে দূর করতে হবে। এ জন্য আমরা বলছি ইন্ডাস্ট্রি লিংকেজ করা দরকার। সে জন্য এই আইসিএবিও একটা ইন্ডাস্ট্রির মতো। আপনি বলেন, আপনার যে কোর্স কারিকুলাম আছে এখানে ভালো করতে হলে কেমন কারিকুলাম দরকার। আপনি আমাদের কারিকুলামে ইনপুট দিন। যে ডিগ্রি পাস করে বা অনার্স পড়ে আসে, সে কী পড়ে এলোÑ আপনাদের কোর্স পড়াতে সহজ? আপনি আমাদের সুপারিশ করেন। আমি চাই গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ বলুক, তার কী ধরনের দক্ষ জনবল দরকার? কোন দক্ষ জনবল তৈরি হলে আপনার বিদেশ থেকে জনবল আনতে হবে না। আমাদের সেটাই জানান আপনারা।’
দীপু মনি আরও বলেন, ‘ আমি চাই, দেশের পয়সা দেশের বাইরে যাবে না। আমার যত ইন্ডাস্ট্রি আছে সবাই বলুক আপনার কী দক্ষতা চাই। একটা নিড সবার জন্য প্রযোজ্যÑ তা হচ্ছে সফ্ট স্কিল। যেমন আমি কমিনিউকেট করতে শিখাই না, আমি ক্রিটিক্যাল থিঙ্ক করতে শিখাই না, আমি প্রবলেম সলভিং শিখাই না, আমি কোলাবরেট করতে শিখাই না। এগুলো যদি আমি না শিখি, যখন ইন্টারভিউতে যাব তখন ওখানেই আটকে যাচ্ছি। কাজে যখন যাই, কাজ করতে পারি না। এই যোগ্যতাগুলো ছাড়া কেন একজন চাকরিদাতা আপনাকে নিয়োগ করবেন। কেন অনেক বেশি পয়সা খরচ করে বিদেশ থেকে লোক নিয়ে আসেন। কারণ, সেখানে সেই দক্ষতা পাচ্ছে। যেটা তার প্রয়োজন।’
ডা. দীপু মনি বলেন, ‘আমার এখানকার গ্রাজুয়েটের কাছ থেকে সেটা পাচ্ছি না। আমার গ্রাজুয়েটদের খুব দক্ষ বানালাম। খুব জ্ঞানী বানালাম। কিন্তু আমার সঠিক মানসিকতা নেই। আমার সততা নেই। আমার মানবিকতা নেই। আমার সহমর্মিতা নেই। আমার পরমতসহিষ্ণুতা নেই। আমার মনে হয় না এটা কাজ করবে। সে জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে একেবারে প্রাক-প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সাজাতে হবে। এমন শিক্ষাব্যবস্থা দরকার যেন শিক্ষার্র্থী জ্ঞান পাবে, দক্ষতা অর্জন করবে, সঠিক মূল্যবোধ নিয়ে বের হবে। এই তিনের একটা সুসমন্বয় নিয়ে একজন সুনাগরিক হবে। একজন বিশ্ব নাগরিক হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমার দেশের অনেক লক্ষ্য আছে সামনে। ২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ সুখী শান্তিময় বাংলাদেশের কথা আছে। আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশে আছি। উন্নত দেশ ২০৪১ সালের আগেই হবে যাবÑ ইনশা আল্লাহ্। ২০৩০-এ এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা আছে। এমডিজি খুব ভালোভাবে অর্জন করেছি। আমাদের ডেমোগ্রাফি ডেভিডেন্ড সুবিধা পাওয়ার কথা আছে। এ জন্য ব্যাপক বিনিয়োগ করতে হবে। এ জন্য ১০ বছরের ডিভিডেন্ড সুবিধা পেতে হলে শিক্ষাব্যবস্থাকে সেই জায়গায় নিয়ে যেতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমার হাতে সময় নেই। কারণ, ডেমোগ্রাফি ডেভিডেন্ড পেতে একটা ট্রানজ্যাকশন পিরিয়ড আছে। যেখান সেই সুবিধা আমি নিতে পারি। আমাদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আসছে। এটা নিয়ে মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছেÑ সব চাকরির সুযোগ শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা ভাবি না, নতুন কোনো চাকরির সুযোগ আসছে। আমরা সেভাবে তৈরি হচ্ছি না কেন? চ্যালেঞ্জ আসবে। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে। তা হলে তো সমস্যা নেই। সব কিছুর অর্জনে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ খাত হচ্ছে শিক্ষা। সেখান থেকে আপনি (ইন্ডাস্ট্রি) কী চান? আপনার কী প্রয়োজন? সেটা একাডেমিয়া ডেলিভারি দেবে। আপনি কারিকুলাম তৈরিতে আপনার অংশ গ্রহণ করবেন। আপনি সার্টিফিকেশনে অংশ নিবেন।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আইসিএবি সভাপতি মাহমুদুল হাসান খসরু এফসিএ, এসএএফএ উইমেন লিডারশিপ কমিটির সভাপতি এবং আইসিএবি সহ-সভাপতি মারিয়া হাওলাদার এফসিএ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট সুরিয়া জিন্নাত খান এফসিএ, বিআইসিএমের নির্বাহী সভাপতি ড. মাহমুদা আক্তার, জয়িতা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা খান প্রমুখ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আইসিএবির সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের জোয়াদ্দার এফসিএ।
অনুষ্ঠানে উইমেন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অনলাইন পোর্টাল উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিসহ আইসিএবির নেতারা।

 

advertisement