advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

প্রধানমন্ত্রীর সময়োচিত বক্তব্য
একাত্তরের অপশক্তি সম্পর্কে সাবধান থাকতে হবে

৬ এপ্রিল ২০২১ ০০:০০
আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২১ ০০:০৬
advertisement

একাদশ জাতীয় সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনের ভাষণে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ইসলামের নামে অনাচার এবং ভ-ামির বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু এবং এখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহাবস্থানের আদর্শ পরিবেশ বিরাজ করছে। এ দেশে বরাবরই উদার মানবিক চেতনাই ছিল জোরদার এবং সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ পরস্পর সম্প্রীতি-সৌহার্দ্যরে মধ্যে বাস করছে। মাঝে মধ্যে যেসব অশান্তি ও হাঙ্গামা হয়েছে, এর কারণ ধর্মীয় নয়, সামাজিকও নয়- রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ। ইতিহাসে দেখা গেছে, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক ফায়দা উসুলের জন্য মহলবিশেষ মানুষের সরল ধর্মীয় বিশ্বাস ও চেতনাকে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিল করেছে। এ বিষয়ে বারবার সবাইকে সাবধান করা সত্ত্বেও এ ধরনের তৎপরতা বন্ধ হয়নি।

কিছুকাল ধরে দেশে মহলবিশেষ ইসলামি ভাবধারা প্রচারের নামে ধ্বংসাত্মক তৎপরতা চালাতে কুণ্ঠিত হচ্ছে না। সম্প্রতি স্বাধীনতা দিবসে এমনই তৎপরতার নিদর্শন দেখল দেশবাসী ব্র্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ ও আরও কয়েকটি শহরে। তাদের আক্রমণের লক্ষ্য ছিল সরকারি অফিস, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের নিদর্শন, শিল্প এবং সংস্কৃতির স্থাপনা ও নিদর্শন। আমরা জানি, একশ্রেণির মওলানা ওয়াজ মাহফিল-খুতবায় নারীর ক্ষমতায়ন এবং স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং বিজ্ঞান ও সংশ্লিষ্ট যুক্তি প্রদর্শনের বিপক্ষে কথা বলে। অনেকের বিবেচনায় নারী কেবল পুরুষের ভোগেরই পাত্রী। এ অবস্থান থেকে তারা আমাদের বহু ত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের যে চেতনা এবং যেসব সম্পদ রয়েছে, এরও বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ধ্বংসাত্মক তৎপরতায় লিপ্ত হচ্ছে।

আমরা মনে করি- এই অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী যেমন আওয়াজ তুলেছেন, তেমনি দেশপ্রেমিক সবারই সরব হওয়া প্রয়োজন। তারা বা তাদের পূর্বসূরিরা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলার সময় বাঙালি মা-বোনদের হানাদারদের হাতে তুলে দিয়েছিল, দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করেছিল এবং লুণ্ঠন ও ধ্বংসযজ্ঞে অংশ নিয়েছিল। ওই অপশক্তি আবারও যেন মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে, এ জন্য সবারই সতর্ক থাকা দরকার। কেবল সতর্ক থাকলেই হবে না, সক্রিয়ভাবে ভূমিকাও পালন করতে হবে।

advertisement