advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

সাফল্য ও ব্যর্থতার নিরিখে রাসেল ডোমিঙ্গো

স্পোর্টস ডেস্ক
৬ এপ্রিল ২০২১ ১৩:২৫ | আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২১ ১৩:৩৩
রাসেল ডোমিঙ্গো
advertisement

ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোকে বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। জাতীয় দলে না খেললেও কোচ হিসেবে বেশ অভিজ্ঞ তিনি। ২৫ বছরের কোচিং ক্যারিয়ারে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের সবকয়টি ফরম্যাটেই কাজ করেছেন তিনি। বাংলাদেশের হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের (এইচপি) দায়িত্ব নিতে এসে তিনি হয়ে গেছেন জাতীয় দলের প্রধান কোচ। ডোমিঙ্গোকে মূলত আসন্ন টি-টোয়েন্টি ও ২০২৩ বিশ্বকাপের পরিকল্পনা দিয়ে নিয়োগ দেয় বিসিবি।

বাংলাদেশে এসে রাসেল ডোমিঙ্গোর অভিষেকটা ভালো হয়নি। তারই কোচিংয়ে প্রথমবারের মতো আফগানিস্তানের সঙ্গে একমাত্র টেস্টে ২২৪ রানের ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। কেবলই টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া একটি নবাগত দলের সঙ্গে এমন হারের পর তার কোচিং নিয়ে প্রশ্ন ওঠা শুরু হয়। এরপর জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার ত্রিদেশিয় সিরিজেও একটি ম্যাচে আফগানদের সঙ্গে হেরে যায় বাংলাদেশ। অবশ্য, হারলেও ফাইনালে উঠে বাংলাদেশ। কিন্তু সেই ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়।

এরপর ২০১৯ সালের নভেম্বরে ভারত সফরে গিয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পরের দুটিতে হেরে সিরিজ হাতছাড়া হয় টাইগারদের। একই সফরে ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজও ইনিংস ব্যবধানে হারে মুমিনুল হকরা। সেবার প্রথম দিবা-রাত্রীর টেস্টেও ভারতের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হারে ডোমিঙ্গোর শিষ্যরা।

বছরে শেষের দিকে টাইগারদের দায়িত্ব নিলেও সময়টা ভালো কাটেনি এই প্রোটিয়ার। পরের বছরে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখেছিলেন তিনি। কিন্তু পাকিস্তানের মাটিতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দুটিতে হার ও একটি পরিত্যাক্ত হয়। একই সফরের একমাত্র টেস্টেও হেরে শূন্যহাতে দেশে ফেরে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

একের পর এক হারে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা ক্রিকেটারদের মনোবল বাড়াতে ঘরে মাঠে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে সিরিজ আয়োজন করে বিসিবি। সেবার নিশ্চিয়ই খুশি হয়েছেন ডোমিঙ্গো। একটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টির সককয়টিই জিতেছে বাংলাদেশ। এরপর অবশ্য করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর সবধরনের ক্রিকেট বন্ধ হয়ে পড়ায় পুরো বছরে আর কোনো সিরিজ খেলতে পারেনি বাংলাদেশ।

করোনার প্রকোপ কাটিয়ে চলতি বছর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দারুণ একটি ওয়ানডে সিরিজ শেষ করে টাইগাররা। পুরো সিরিজে ক্যারিবিয়দের হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবালেও টেস্ট সিরিজে এসে কেমন যেন ছন্নছাড়া হয়ে যায় টাইগাররা। চট্টগ্রাম ও ঢাকা দুটো ম্যাচেই জিততে জিততে হেরে যায় স্বাগতিকরা। ডোমিঙ্গো টেস্ট কোচিংয়ে বেশ অভিজ্ঞ। তার নেতৃত্বে টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতি করেছে প্রোটিয়ারা। কিন্তু বাংলাদেশে এসে একের পর এক ব্যর্থতাই তার সঙ্গী হতে থাকে।

ঘরের মাঠে বরাবরই ভালো বাংলাদেশ। অন্তত প্রতিটি সিরিজ শেষেই কিছুটা হলেও প্রাপ্তি থাকে টাইগারদের। কিন্তু বিদেশের মাটিতে পারফরম্যান্স বিচারে প্রাপ্তির খাতা শূন্য। সবশেষ নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়ে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ। ফলে বিশ্বকাপের আগে আগে রাসেল ডোমিঙ্গোকে নিয়ে হিসেব কষে নিতে চায় বিসিবিও। ইতোমধ্যে তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে বোর্ড। এমন ব্যর্থতা চলতে থাকলে চাকরিও হারাতে পারেন তিনি।

advertisement