advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

জান্তার গণহত্যায় মিয়ানমার অশান্ত
শান্তি ও রোহিঙ্গা পুনর্বাসন অনিশ্চিত

৭ এপ্রিল ২০২১ ০০:০০
আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২১ ০০:৩৮
advertisement

মিয়ানমারে অশান্তি চলছেই। গত ১ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী রাষ্ট্রের ক্ষমতা দখল করে নেয়। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারপ্রধান ও দেশের প্রধান রাজনীতিবিদ অং সান সু চি এবং তার দল ও সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বকে আটক করে মামলার আসামি করা হয়েছে। ওই থেকে রাজধানী নেপিদো, প্রধান শহর ইয়াঙ্গুন ও সব ছোট-বড় শহরে গণতন্ত্রকামী সু চি সমর্থক জনগণ রাজপথে আন্দোলন করছে। এ পর্যন্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গুলিতে পাঁচ শতাধিক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধশত শিশু রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলো, জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং অ্যামনেস্টিসহ সব আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন মিয়ানমার জান্তার বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও মুক্তবিশ্বের অনেক নেতাই গণহত্যা বন্ধ না হলে নিষেধাজ্ঞাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে প্রতিক্রিয়াই হোক না কেন, মিয়ানমারের জান্তা এতে কর্ণপাত করতে রাজি নয়। তাদের দুঃশাসন ও রাষ্ট্রের ওপর সর্বাত্মক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘে দেশটির বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে যে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়াস বানচাল হয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীনের ভূমিকার কারণে। রাশিয়াও এ ব্যাপারে চীনের অনুসরণ করছে। ফলে জান্তা সরকার আপাতত ওই দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেবে বা গণআন্দোলনে সশস্ত্র আগ্রাসন বন্ধ করবে বলে মনে হয় না। তবে গত সোমবার পর্যন্ত ওই দেশের দশটি সশস্ত্র বিদ্রোহী দল জান্তার বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নামার হুশিয়ারি দিয়েছে।

এদিকে সামরিক অভিযান এবং আসন্ন সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কায় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জাতির মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পার্শ্ববর্তী ভারত ও থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিচ্ছে। সব মিলিয়ে ঘরের কাছে এমন একটি সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে- যার প্রভাব বাংলাদেশে পড়াই স্বাভাবিক।

বাংলাদেশ অবশ্য মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নাগরিকদের বিরুদ্ধে অমানবিক আচরণের ফলে সৃষ্ট মানবিক পরিস্থিতির দায় বহনে বাধ্য হয়েছে। ওই দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি যতই ঘোলাটে হবে, ততই রোহিঙ্গাদের স্বদেশে পুনর্বাসন অসম্ভব হয়ে পড়বে। স্বাভাবিক অবস্থাতেও সু চির নেতৃত্বাধীন মিয়ানমার সরকার, সামরিক কর্তৃত্ব ও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সংঘবদ্ধ বিরোধিতার মুখে পুনর্বাসনের সব প্রয়াসই ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ব্যাপারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল। আন্তর্জাতিক সমর্থন ও ব্যাপক সহানুভূতি সত্ত্বেও সমস্যার আশুসমাধানের কোনো আলো দেখা যাচ্ছে না।

advertisement