advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবি
নজরদারি ও সতর্কতা বাড়াতে হবে

৭ এপ্রিল ২০২১ ০০:০০
আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২১ ০০:৩৮
advertisement

আমাদের দেশে ঘন ঘন লঞ্চ দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। কিন্তু কোনো ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের কোনো শাস্তি হয় না। নৌপথে নিয়ম মেনে সব নৌযান চলাচল করে না। ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু দুঃখজনক নয়, অনভিপ্রেতও বটে। রবিবার নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে একটি কার্গোর ধাক্কায় লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৯টি প্রাণহীন দেহ উদ্ধার করা হয়। নারায়ণগঞ্জ থেকে যাত্রী নিয়ে এমএল সাবিত আল হাসান মুন্সীগঞ্জে যাচ্ছিল। সৈয়দপুর কয়লাঘাট এলাকায় নির্মিতব্য শীতলক্ষ্যা ব্রিজের কাছে এই লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে। এ দুর্ঘটনার জন্য ঝড় বা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, মানুষই দায়ী।

দেশে প্রায় প্রতিবছরই ছোট-বড় নৌদুর্ঘটনায় শত শত মানুষ মৃত্যুর অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রীবহন, চালকের অদক্ষতা ও অনভিজ্ঞতা, অসতর্কতা, নজরদারির অভাব, লঞ্চের নকশায় সমস্যা, ফিটনেস তদারকির অভাব ইত্যাদি কারণে লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তবে বিষয়টি আলোচনায় আসে কেবল তখনই- যখন কোনো লঞ্চডুবিতে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়। অন্য সময় এ বিষয়গুলো দেখভাল করার যেন কেউ থাকে না। নজরদারির অভাব থাকলে তো প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে হলে নৌপথে যেন নিয়ম মেনে সব নৌযান চলাচল করে, সেটি কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে। এর পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে সব নৌযানের ফিটনেস। আমরা সব দিকে দিয়ে সচেতন হলে অনেক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

নৌপথে শৃঙ্খলা আনতে হলে ছোট-বড় সবপক্ষকেই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। কিন্তু যত বড় নৌযান, তাদের দায়িত্বশীলতা তত বিস্তৃত হওয়া উচিত। বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে। নৌযান চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন ও নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দুর্ঘটনা রোধে স্থায়ী সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণ করা খুবই জরুরি। এই দুর্ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে যেন প্রতিটি পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হয়। একই সঙ্গে লঞ্চডুবির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

advertisement