advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বিশ^ স্বাস্থ্য দিবস
সবার স্বাস্থ্যকর জীবন নিশ্চিত করি

ডা. সমীর কুমার সাহা
৭ এপ্রিল ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২১ ০০:৩৮
advertisement

প্রতিবছর ৭ এপ্রিল বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশসহ বিশে^র অন্যান্য স্থানে ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। ১৯৫০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টির জন্য এ দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এ বছর দিবসটি এমন এক সময়ে পালিত হচ্ছে- যখন সারাবিশ্বে করোনা ভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। পুরো বিশ্ব এখন এই মহামারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে রত।

করোনা মহামারীর কারণে স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য খাত হুমকির মধ্যে পড়েছে। করোনা পরিস্থিতি বুঝিয়ে দিয়েছে স্বাস্থ্য খাতে আমাদের এখনো অনেক দূর যেতে হবে। প্রত্যেকের স্বাস্থ্য অধিকার রয়েছে। আমাদের দেশে স্বাস্থ্য খাতে এখনো নানা সমস্যা বিরাজমান। যেমন- দেশব্যাপী পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবার অভাব, চিকিৎসক স্বল্পতা, ব্যয়বহুল চিকিৎসাব্যবস্থা। যাদের আর্থিক সচ্ছলতা আছে, তারা বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ পেলেও ব্যাপক সংখ্যক গরিব মানুষ চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে দুঃসহ জীবনযাপন করছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করা হলে একটি দেশ আর্থিকভাবে উপকৃত হয়ে থাকে। তাই সংস্থাটি এ খাতে ব্যাপক আর্থিক বিনিয়োগ করার জন্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে শতভাগ কার্যকর এখনো কোনো প্রতিষেধক নেই। আক্রান্তদের কীভাবে চিকিৎসা হবে, এরও কোনো নির্ভরযোগ্য, সর্বজনগ্রাহ্য পদ্ধতি বলতে গেলে নেই। আতঙ্কিত মানুষজন সুস্থ থাকার উপায় খুঁজে বেড়াচ্ছে। এ খোঁজ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কাঁচাহলুদ, কাঁচারসুন, লবঙ্গ, দারুচিনি, তুলসী, পাতিলেবু, আমলকী বা টকজাতীয় ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ খাবারগুলো। বাজারে হঠাৎই বেড়ে গেছে শাকসবজিরও চাহিদা। তা প্রাকৃতিকভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। অনেকে সুস্থও আছেন এসব ভেষজ প্রাকৃতিক উপাদান গ্রহণ করে।

অজানা এই কোভিড ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আয়ুর্বেদ তথা ভেষজ ওষুধ, প্রাকৃতিক উপাদানগুলো গ্রহণযোগ্য হতো- যদি তার পক্ষে প্রথাসিদ্ধ উপায়ে গবেষণালব্ধ বৈজ্ঞানিক তথ্য থাকত। যদিও ভারতীয় উপমহাদেশে হাজার হাজার বছর ধরেই ঐতিহ্যবাহী ভেষজ চিকিৎসা প্রচলিত আছে, তবুও সেভাবে গবেষণা হয়নি- যা হওয়া উচিত ছিল। এ কারণে হয়তো অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকরা আয়ুর্বেদ, ইউনানি বা হোমিওপ্যাথিক ওষুধকে কোনো গুরুত্বই দিতে চান না। কোষের আনুবীক্ষণিক পর্যবেক্ষণে তারাও যে মানবদেহে রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতাকে উৎসাহিত করে- এমন লক্ষণ দেখা গেছে। কাজেই সঠিক পথে গবেষণা হলে এমনও হতে পারত যে, আয়ুর্বেদ তথা ভেষজ উপাদানগুলোই কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারত। কিন্তু ওই গবেষণার উদ্যোগে বরাবরই ঘাটতি থেকে গেছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে।

সরকারের অধিক পৃষ্ঠপোষকতা, ইউনানি ও আয়ুর্বেদ গ্র্যাজুয়েট এবং ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়োগদানের ব্যবস্থা করা, উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করা। দেশের প্রতিটি বিভাগে একটি করে আয়ুর্বেদ ও ইউনানি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন এবং প্রতিটি জেলায় ভেষজ বাগান তৈরি করতে হবে। ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক ওষুধ যাতে মানসম্মতভাবে তৈরি করা হয়, এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

আমাদের দেশের অধিকাংশ জনগণ নিম্ন ও নিম্নমধ্য আয়ের। জটিল ও কঠিন রোগের জন্য আমাদের এ জনগোষ্ঠীর অনেকের পক্ষেই বিপুল অর্থ ব্যয় করে চিকিৎসাকাজ চালানো দুরূহ ব্যাপার। অথচ ঐতিহ্যগত চিকিৎসা পদ্ধতিতে একজন অল্প খরচেই জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। প্রাকৃতিক পদ্ধতি হওয়ায় এ পদ্ধতিতে চিকিৎসার কোনো বিশেষ নেতিবাচক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তা অ্যালোপ্যাথির আধুনিক পদ্ধতিতে লক্ষ্য করা যায়।

সংশ্লিষ্ট সবাই যদি সচেতন ও আন্তরিকতা নিয়ে এগিয়ে আসেন এবং ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেন, তা হলে প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতি করোনা মোকাবিলাসহ আমাদের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।

ডা. সমীর কুমার সাহা : পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারপারসন

advertisement