advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

পেটে গজ রেখেই সেলাই, বের করা হলো ৫ মাস পর

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
৭ এপ্রিল ২০২১ ১৯:১৪ | আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২১ ১৯:২৬
ভুক্তভোগী শারমিন আক্তার। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রায় পাঁচ মাস পর এক নারীর পেট থেকে গজ (ব্যান্ডেজ) বের করা হয়েছে। অপারেশনের সময় ব্যান্ডেজ তার পেটে রেখেই সেলাই করেন চিকিৎসক। দীর্ঘ এ সময়ে গজটি ওই নারীর পেটের নাড়ি ছিদ্র করে ঢুকে যায় এবং তাতে পচন ধরে জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা ময়নামতি ক্যান্টমেন্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভুক্তভোগীর অপারেশন করে ওই গজ বের করা হয়।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই প্রসূতির নাম শারমিন আক্তার (২৫)। তিনি মুরাদনগর উপজেলার মোগসাইর গ্রামের রাসেল মিয়ার স্ত্রী। শারমিনের আগেও একটি তিন বছরের মেয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় সন্তান প্রসবের সময় সিজার করা হয় শারমিনের পেটে।

অপারেশনটি করা হয়েছিল দেবিদ্বার উপজেলার ফিসার সংলগ্ন বড় আলমপুর রাস্তার মাথায় আল ইসলাম হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। পরে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা ময়নামতি ক্যান্টমেন্ট জেনারেল হাসপাতালে নিলে ডা. কর্নেল আবু দাউদ মো. শরীফুল ইসলাম নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক অপারেশন করে গজ (ব্যান্ডেজ) বের করেন।

ভুক্তভোগী শারমিনের বড় ভাই রহুল আমিন জানান, পাঁচ মাস আগে দেবিদ্বারের আল ইসলাম হাসপাতালে অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক রোজিনা আক্তার জরুরি সিজার করতে পরামর্শ দেন। পরে রোজিনা আক্তার ও ডা. শামীমা আক্তার লিন্টা সিজার করেন। এতে শারমিনের এক ছেলে সন্তান হয়। এর দুইদিন পর থেকে শারমিনের পেটে ব্যথা হতে থাকে। সাতদিন পর হাসপাতালে থেকে বাড়ি ফেরার পর অপারেশনের ক্ষত থেকে পুঁজ বের হতে থাকে। পরে তাকে কুমিল্লাসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা অ্যান্টিবায়োটিক খেতে দেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. রোজিনাকে একাধিকবার ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি। আল ইসলাম হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়াজ মোহাম্মদ হোসেন (এনাম) বলেন, ‘ঘটনাটি পাঁচ মাস আগের। এরপর রোগীর স্বজনরা আমাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করেনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। এ ব্যাপারে আমরা অনুতপ্ত।’

ময়নামতি ক্যান্টমেন্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক কর্নেল আবু দাউদ মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় অপারেশনের মাধ্যমে পেট থেকে রক্তাক্ত গজ বের করা হয়। বর্তমানে রোগী সংকটাপন্ন রয়েছে। ৪-৫ দিন গেলে অবস্থা বোঝা যাবে।’

কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও কোন হাসপাতালে ঘটনাটি ঘটেছে, তা উল্লেখ করে স্বজনদের একটি লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

advertisement