advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

যাত্রীদের ভোগান্তি কমেনি ছিল বাইকার বিক্ষোভও

নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ এপ্রিল ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২১ ২২:৪৬
advertisement

করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে মানুষের চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে সরকার। গত সোমবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের ফলে প্রথম দুদিন বন্ধ ছিল গণপরিবহন চলাচল। গতকাল বুধবার থেকে বিধিনিষেধে শৈথিল্য এনে বলা হয়, সিটি করপোরেশন এলাকায় সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর পরও যানবাহনের অভাবে অফিস সময়ে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি ছিল গতকাল।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গতকাল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন রাইডশেয়ারিংয়ে যুক্ত মোটরসাইকেল রাইডাররা। শহরে গণপরিবহন চালুর পর রাইডশেয়ারিংয়ে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভের সময় তারা সড়কও অবরোধ করেন।

তবে তারা বেশিক্ষণ সড়কে অবস্থান করতে পারেননি। পুলিশ সরিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া মগবাজার, খিলক্ষেত, মিরপুর এলাকায়ও গতকাল বিক্ষোভ হয়েছে।

লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে অ্যাপভিত্তিক রাইডশেয়ারিং আপাতদৃষ্টিতে বন্ধ থাকলেও কার্যত চুক্তিতে চলছে যাত্রী পরিবহন। সড়কে দায়িত্ব পালনরত পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে যাত্রীকে বলা হচ্ছে বন্ধু বা আত্মীয়। ভাড়াও নেওয়া হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ।

মানুষের দুর্ভোগ এড়াতে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোয় গণপরিবহন চালুর ওপর নিষেধাজ্ঞা গতকাল তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু শেয়ারে বাইকচালক বা রাইডারদের অভিযোগ, মোটরসাইকেলে দুজন চলতে তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে, পুলিশ মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত রাইডশেয়ারিং বন্ধ রাখার অনুরোধ করে সহযোগিতা চেয়েছে।

বিআরটিএর কর্মকর্তারা বলেন, গণপরিবহনের সংজ্ঞায় ভাড়ায় চালিত যানের কথা বলা আছে। সরকারি নির্দেশনায় ৫০ শতাংশ হিসাব করলে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ নেই।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মগবাজার মোড়ে বেলা ১টার পর রাইডারদের বিক্ষোভ শুরু হলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিলে সাত রাস্তার মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন রাইডাররা। সেখানে কিছুক্ষণ থাকার পর পুলিশ আবার ধাওয়া দিলে তারা লাভ রোডের দিকে সরে যান।

বিক্ষোভ করতে করতে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থানকালে রাইডশেয়ারিং প্ল্যাটফর্মের চালকরা বলেন, সংসার চালাতে মোটরসাইকেলে রাইডশেয়ারিং করেন তারা। সরকারের নির্দেশনায় গণপরিবহন চললেও মোটরসাইকেল বন্ধ করে তাদের পেটে লাথি মারা হচ্ছে।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে বাস চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও গতকাল ঢাকায় ভিন্ন পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে। ভোর থেকে সাভার, ধামরাই থেকে যাত্রী নিয়ে বাস ঢাকায় ঢোকে এবং গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে এসব এলাকার উদ্দেশে বাস ছেড়ে যায়। গাবতলী গরুর হাট মোড়ে বাসগুলোকে পুলিশ বাধা দিলে বিকল্প পথে গাবতলী ব্রিজের নিচে ইউটার্ন নিয়ে ব্রিজ পার হয়ে যেতে দেখা যায় কিছু গাড়িকে। আমিনবাজারের পাশ থেকে যাত্রী নিয়ে সাভারের দিকে চলে যায় বাসগুলো।

সাভার পরিবহনের চালকের সহকারী হোসেন বলেন, সকাল ৮টার দিকে সাভার থেকে তিনি সদরঘাটে আসেন। কিন্তু ফিরে যাওয়ার সময় পুলিশ তাকে আটকে দেয়। গাড়ির কাগজপত্র রেখে দেয়। এদিকে সাভার থেকে আসা যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন। রিকশা, প্রাইভেট কার, লেগুনা, খোলা পিকআপে করে যেভাবে পারছেন অতিরিক্ত ভাড়ায় সাভারের দিকে রওনা দিচ্ছেন।

এদিন সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের কাজলা এলাকায় দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জের অসংখ্য বাস রাজধানীতে প্রবেশ করছে। একই সঙ্গে সিলেট, কুমিল্লা ও লাকসাম এলাকার দূরপাল্লার বাসগুলোকেও প্রবেশ করতে দেখা গেছে।

তবে দায়িত্বরত পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুধু সিটি করপোরেশন এলাকায় বাস চলাচলের অনুমতি দিয়েছে সরকার। নির্দেশ অমান্য করে কেউ যদি গাড়ি নিয়ে আসে, তা হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে রাজধানীর লোকাল বাসগুলোয় সকালে দেখা যায় যাত্রীদের আগে ওঠার প্রতিযোগিতা। ৬০ শতাংশ বৃদ্ধির পর ১০ টাকার ভাড়া ১৬ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও বাসগুলো ২০ টাকার নিচে যাত্রী তুলছে না। গণপরিবহন চললেও সরকারি নির্দেশ অনুসারে ধারণক্ষমতার অর্ধেক আসন খালি রেখে চলাচল করতে হচ্ছে। আর এ কারণে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের বাসে তুলতে অনীহা দেখাচ্ছেন কন্ডাক্টররা। ফলে বাসে উঠতে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে অনেক যাত্রীকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি ও যাত্রীর সংখ্যাও কম দেখা যায়। পরিবহন মালিকরা জানান, অর্ধেক যাত্রী বহন করে কর্মীদের বেতন ও জ্বালানি খরচ পোষায় না। তাই অনেকে গাড়ি রাস্তায় বের করেননি। অন্যদিনের তুলনায় গতকাল নগরীতে বাস-মিনিবাসের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। এ জন্য গত দুদিন অফিস যেতে ও অফিস থেকে ফিরতে মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। গতকাল গণপরিবহন চললেও ভোগান্তির চিত্র পুরোপুরি কাটেনি। রাজধানীর আসাদগেট, কলাবাগান, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, বাটা সিগন্যাল, আজিমপুর ও নীলক্ষেত এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্যই দেখা যায়। আবার বাড়তি ভাড়া নিয়েও অভিযোগ অনেক যাত্রীর। তারা বলছেন, এমনিতেই রাজধানীজুড়ে গণপরিবহনের সংকট রয়েছে। তার মাঝেই যাত্রী পরিবহনে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এমন অবস্থায় যাত্রীরা পড়েছেন মহাবিপাকে। সময়মতো অফিসপাড়ায় পৌঁছতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে ভাড়ার নৈরাজ্য তো রয়েছেই। মাসের শেষে যে টাকা বেতন আসবে তার অর্ধেকের বেশিই চলে যাবে অফিস যাতায়াতে গণপরিবহনের ভাড়ায়।

advertisement