advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

নরসিংদীতে ছুরিকাঘাতে দুই কৃষক নিহত

নরসিংদী প্রতিনিধি
৮ এপ্রিল ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২১ ২২:৪৬
advertisement

নরসিংদীতে এক যুবকের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে দুই কৃষক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও একজন। বুধবার দুপুরে মেঘনা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল সগরিয়াপাড়া গ্রামে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা ঘাতক ইউনুস আলীকে (২৪) ধরে মারধর করে বেঁধে রেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে। পুলিশ পাহারায় তার চিকিৎসা চলছে। ওই যুবক মানসিক ভারসাম্যহীন দাবি করছে তার পরিবার।

নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের সগরিয়াপাড়া গ্রামের ফরহাদ মিয়া (৫০) ও আলী আজগর (৬৫)। আটককৃত ঘাতক ইউনুস আলী একই গ্রামের আবদুল হান্নানের ছেলে।

পুলিশ ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ করে ইউনুস

তার পরিবারের সঙ্গে বিরূপ আচরণ শুরু করেন। তার আচরণ দেখে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে মনে হয়। বুধবার সকালে তিনি হাতে ছুরি নিয়ে বের হয়ে সামনে যাকে পান তাকেই ধাওয়া দিতে থাকেন। এ সময় ফরহাদ মিয়া বাড়ির অদূরে কৃষি জমিতে কাজ করছিলেন। ইউনুস আচমকা ছুরি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। ফজল মিয়াকে কোপানোর পর রাস্তার পাশে থাকা আজগার আলী ও সেন্টু মিয়াকে কোপাতে থাকেন। তাদের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের প্রথমে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক ও পরে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ওই সময় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎক ফরহাদ মিয়া ও আলী আজগরকে মৃত ঘোষণা করেন। আর গুরুতর আহত সেন্টু মিয়াকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক ইউনুসকে আটক করে।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ফাহিমা শারমিন বলেন, ফরহাদ মিয়া নামের একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার পিঠের এক জায়গায় ও হাতের দুই জায়গায় ছুরিজাতীয় ধারালো কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃতু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নজরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. বাদল সরকার বলেন, ইউনুস আলী একাই তিনজনকে কুপিয়েছেন ও একটি ছাগল জবাই করেছেন। পরে স্থানীয় লোকজন ইউনুসকে আটক করে পিটুনি দিয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলেন। আজকে সে যে আচরণ করেছে, অন্য কোনো সময় সে এমন করে না। তার আজকের আচরণ মানসিক রোগীর মতো ছিল।

নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার চৌধুরী জানায়, ঘাতক ইউনুসকে দেখে মাদকসেবী মনে হলো। সে মানসিক ভারসাম্যহীন কিনা এ বিষয়ে এখনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ইউনুসকে আটকের পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ পাহারায় তার চিকিৎসা চলছে। দুই কৃষকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর (সারকেল) বলেন, ঘাতক ইউনুস মাদকসেবী বা মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী কি না এখনই সেটা বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় দুজন মারা গেছেন একজন আহত হয়েছেন। তবে তদন্তের পর আসল কারণ জানা যাবে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, বুধবার সকালে হঠাৎ এ ঘটনা ঘটান ইউনুস আলী। তিনি খুবই চুপচাপ স্বভাবের যুবক। কারও সঙ্গে খুব একটা কথা বলতেন না। কিছুদিন ধরে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ নিয়ে কিছুটা হতাশার মধ্যে ছিলেন।

advertisement