advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বিদায় কণ্ঠযোদ্ধা ইন্দ্রমোহন রাজবংশী

বিনোদন সময় প্রতিবেদক
৮ এপ্রিল ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২১ ২২:৫৯
advertisement

করোনা ভাইরাস ছিনিয়ে নিল দেশের আরেক কৃতী ব্যক্তিত্ব একুশে পদকপ্রাপ্ত লোকগানের শিল্পী, সংগীতগুরু ও একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা ইন্দ্রমোহন রাজবংশীকে। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী শোক প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া কৃতী এই সংগীতশিল্পীর মৃত্যুতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

পারিবারিক জীবনে ইন্দ্রমোহন দুই সন্তানের জনক। ছেলে দীপংকর রাজবংশী থাকেন অস্ট্রেলিয়ায়, মেয়ে সঙ্গীতা রাজবংশী থাকেন জাপানে। তার স্ত্রী দীপ্তি রাজবংশীও বর্তমানে অসুস্থ। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, একাত্তরের এ কণ্ঠযোদ্ধাকে গতকাল বিকাল ৪টায় রাজারবাগ কালী মন্দির মহাশ্মশানে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয়। তার পর সেখানেই সম্পন্ন হয়েছে তার শেষকৃত্য।

পারিবারিক সূত্রে আরও জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার অসুস্থ অনুভব করলে শুরুতে ইন্দ্রমোহন রাজবংশীকে ঢাকার মহাখালীর মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা করে দেখা যায় তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। বুকের সিটিস্ক্যান রিপোর্টে তার ফুসফুসে ৮৫ শতাংশ সংক্রমণ ধরা পড়ে। এর পর ঢাকার আরেকটি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতির অবনতি হলে হাসপাতাল

বদল করে দুদিন আগে তাকে ভর্তি করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে। গতকাল সকালে সেখানেই চিকিৎসাধীন মারা যান তিনি। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুলফিকার আহমেদ আমিন জানান, করোনা ভাইরাসের পাশাপাশি উচ্চরক্তচাপেও ভুগছিলেন ইন্দ্রমোহন রাজবংশী। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল।

ইন্দ্রমোহন রাজবংশী ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, জারি, সারি, মুর্শিদিসহ বিভিন্ন ধরনের গান গাইতেন। তিনি সরকারি সংগীত কলেজে লোকসংগীত বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। এ ছাড়া বাংলাদেশ লোকসংগীত পরিষদেরও প্রতিষ্ঠাতা তিনি। এর বাইরে চলচ্চিত্র, বেতার ও টেলিভিশন অনেক গান গেয়েছেন ইন্দ্রমোহন। ১৯৬৭ সালে ‘চেনা অচেনা’ চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে প্লেব্যাক শুরু করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হলে ইন্দ্রমোহন রাজবংশী যুদ্ধে অংশগ্রহণের মনস্থির করেন। কিন্তু পাকিস্তানিদের হাতে ধরা পড়ে যাওয়ায় সম্মুখযুদ্ধে তিনি যেতে পারেননি। সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দুদের ওপর অকথ্য নির্যাতন করায় ইন্দ্রমোহন নিজের নাম-পরিচয় গোপন করে পাকিস্তানিদের দোভাষী হিসেবে কাজ করেন কিছুদিন। পরবর্তী সময়ে সেখান থেকে পালিয়ে চলে যান ভারতে। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা দিতে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে গান গাওয়া শুরু করেন। গান গাওয়ার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকগান সংগ্রহ করতেন তিনি। এক হাজারেরও বেশি কবির লেখা কয়েক লাখ গান তিনি সংগ্রহ করেছেন। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে।

advertisement