advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

জাতি চিরদিন ইন্দ্রমোহন রাজবংশীকে স্মরণ করবে

ফকির আলমগীর

৮ এপ্রিল ২০২১ ০০:০০
আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২১ ২৩:০৩
advertisement

ইন্দ্রমোহন রাজবংশী। তার বয়স ৭৫ বছর হলেও আমরা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, ঢাকা, লোকসংগীত অঙ্গনের কঠিন বন্ধু ছিলাম। আমাদের সর্বশেষ প্রোগ্রাম ছিল ১১ মার্চ টেলিভিশনে। এর মধ্যে আমরা নমিতা ঘোষকে হারালাম। স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের শিল্পীরা একে একে চলে যাচ্ছেন, এটা তো মর্মব্যথা। সবচেয়ে আমার বড় কষ্ট হলো- ইন্দ্রমোহন রাজবংশীর মতো এত বড় একজন কিংবদন্তি, এত বড় মুক্তিযোদ্ধা, রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী তিনি কেন হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে দৌড়াবেন চিকিৎসার জন্য? আইসিইউর অভাবে, চিকিৎসার অভাবে চলে গেলেন। এটা খুবই দুঃখজনক।

তিনি তার জীবন শুরু করেন খিলগাঁও স্কুলের শিক্ষকতা দিয়ে। তার পর আব্দুল আলীম এই মহল্লায় থাকতেন। আমি এবং ইন্দ্রমোহন রাজবংশী আব্দুল আলীমের কাছে লোকসংগীতের তালিম নিতাম। ষাটের দশকে। এই মহল্লা থেকেই বেড়ে উঠেছি। তিনি শুধু লোকসংগীত কণ্ঠশিল্পী নন, তিনি গবেষক। তিনি লোকসংগীতের সংগঠক ছিলেন। তিনি সুরকার, গীতিকার। আব্দুল আলীম মারা যাওয়ার পর তার কণ্ঠকে বিকল্প হিসেবে ছায়াছবিতে ব্যবহার করা হতো। তিনি এতটাই জনপ্রিয় ছিলেন যে, তার যৌবনে, তারুণ্যে তার পরিবেশনাকে দ্বিতীয় আব্দুল আলীম বলা হতো। আমি মনে করব, লোকসংগীত সংগঠক এবং গবেষক হিসেবে তিনি ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি লালন, হাছন, জসিমউদ্দীন, আব্বাস উদ্দিন, আব্দুল আলীম, কানাই লাল শীলকে ধারণ করে অনেক লেখালেখি করেছেন। দেশ-বিদেশে গবেষণাপত্র তুলে ধরেছেন। তার চলে যাওয়ায় লোকসংগীতের অপূরণীয় ক্ষতি হলো। স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে আমাদের কত স্মৃতি, কত কথা। ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে আমরা একসঙ্গে গান করেছি।

নমিতা ঘোষ ও ইন্দ্রমোহন রাজবংশী কিছুদিন আগেই দুজনে কষ্ট নিয়ে আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘আহারে প্যারেড গ্রাউন্ডে কত শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করলেন। আমাদের স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের শিল্পীদের নিয়েও তো প্রোগ্রাম থাকতে পারত।’ শেষ বেলায় তারা জাতির কাছ থেকে কষ্ট নিয়ে বিদায় নিলেন। আমরা একজন যোদ্ধা, সংগঠক, গবেষক, একজন প্রকৃত শিল্পীকে হারালাম। মৃত্যু হলো একজন কণ্ঠযোদ্ধার। জাতি চিরদিন তাকে স্মরণ করবে।

advertisement