advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

খুলনায় ঘুমন্ত শিশুকে কুপিয়ে হত্যা
মানুষের মূল্যবোধ কি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে

৮ এপ্রিল ২০২১ ০০:০০
আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২১ ২৩:১৩
advertisement

দেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে নৃশংস ও বর্বরোচিত কায়দায় শিশু নির্যাতন এবং হত্যার ঘটনা। একটি হত্যা ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ঘটছে আরেকটি শিশু হত্যার ঘটনা। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে অবুঝ ও নিরপরাধ শিশুকে নিজের পরিবারই ‘বলির পাঁঠা’ বানানোর ঘটনা সারাদেশের বিবেকবান মানুষকে স্তম্ভিত করেছে।

আমাদের সময় সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় পাঁচ বছর বয়সী ঘুমন্ত শিশু তানিশা আক্তারকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। খাজা শেখ সাত বছর আগে একই উপজেলার আক্কাস শেখের মেয়ে তাসলিমাকে বিয়ে করেছিলেন। পরে দাম্পত্য কলহের একপর্যায়ে বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটে তাদের। বছর দেড়েক হলো মুক্তা খাতুনকে বিয়ে করেন খাজা শেখ। কিন্তু কোনোভাবেই শিশু তানিশা আক্তারকে মেনে নিতে পারছিল না সৎমা। এ ঘটনার জেরেই ঘুমন্ত শিশু তানিশাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সৎমা মুক্তা। মানুষ কতটা অমানবিক হলে এমন নিষ্ঠুর কাজ করতে পারে! প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও ঘটছে শিশুর প্রতি অমানবিক নিষ্ঠুর নৃশংসতা। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, স¤পত্তির দ্বন্দ্বে খুন হচ্ছে এসব অবুঝ শিশু। তা উদ্বেগজনক।

একটা সময় নিজের পরিবার শিশুর জন্য সবচেয়ে শক্ত ভিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে এ ভিত অনেকটা নড়বড়ে হয়ে গেছে। এখন অনেক বিকৃত মানসিকতার লোক নিজের ক্ষতি হলেও নিজের সন্তানের ক্ষতি করে প্রতিপক্ষের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টায় পিছপা হয় না। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, আমরা কি ক্রমেই এক নিষ্ঠুর সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি- যেখানে মানবিকতা, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, দয়া, মায়া, মমতাজাতীয় শব্দের কোনো অস্তিত্বই নেই? মানুষের অসহিষ্ণুতা যেন ক্রমেই লাগামছাড়া হয়ে উঠছে। কঠোর আইন থাকার পরও শিশু নির্যাতন বন্ধ করা যাচ্ছে না। পারিবারিক কলহ, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, ব্যক্তিগত লোভ অথবা স্বার্থ আদায়ের অস্ত্র হিসেবেই শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে। সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটলে অপরাধ প্রবণতা বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

লোভ-লালসা, হিংসা-ক্রোধ ক্রমেই মানুষকে অমানুষ করে দিচ্ছে। এ জন্য দায়ী কী? এর থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কী? সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীদের এ বিষয়গুলোয় ভাবতে হবে। মূল্যবোধ নিয়ে সামাজিক পর্যায়ে কাজ করতে হবে। এখন বাঁচতে হলে সমাজকেই এর প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। এ রকম একটি ঘটনায় যদি কোনো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা না হয়, তা হলে মানুষ দাঁড়াবে কোথায়? আমরা এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জোরদার তৎপরতা দেখতে চাই।

advertisement