advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জীবন ও অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা করি

ড. নাজনীন আহমেদ
৮ এপ্রিল ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৮ এপ্রিল ২০২১ ০৯:৩৯
advertisement

করোনা অতিমারীর দ্বিতীয় ঢেউ বাংলাদেশকে আঘাত করার পর জীবন বাঁচাতে লকডাউন ঘোষণার পর থেকেই যে বিষয়টি বারবার আলোচিত হচ্ছে, তা হলো এর প্রভাব জীবিকা ও অর্থনীতির ওপর কী হবে। লকডাউন যদি সাত দিনের জন্যই হয়, তা হলে এর অর্থনৈতিক ক্ষতি খুব বড় নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সাত দিন পর সবকিছু কি আবার স্বাভাবিক অবস্থায় চলে যাবে? অথবা এই সাত দিনে কি কোভিড-১৯ সংক্রমণের বিস্তৃতি কমিয়ে ফেলব? এর উত্তর হলো- না, এর কোনোটাই হবে না। বরং লকডাউনে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, ফুটপাতের ব্যবসায়ী, দৈনিক চুক্তিভিত্তিতে যারা কাজ করেন- তারা ক্ষতিতে পড়বেন সবচেয়ে বেশি। সংক্রমণ যদি সেভাবে কমাতেই না পারি, তা হলে সাত দিনের লকডাউন দিয়ে কী লাভ? অনেক চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞকে বলতে শুনছি তিন সপ্তাহের লকডাউন দিতে। কিন্তু প্রশ্ন হলো- গত এক বছরে কোভিডের ধাক্কায় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, রপ্তানি ইত্যাদি যে অবস্থায় আছে, এতে এমন লম্বা লকডাউন সহ্য করার ক্ষমতা কী অর্থনীতির আছে? কোনো সন্দেহ নেই- এমন হলে অর্থনীতি বড় চ্যালেঞ্জে পড়বে। অনেকেই বলেন জীবিকা নয়, আগে জীবন বাঁচানোর কথা। আমরা কি একটু ভেবে দেখেছি, জীবিকা যদি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে, তা হলেও জীবনের ঝুঁকি বাড়বে। এ ছাড়া অনাহার ও অপুষ্টির ঝুঁকি বাড়বে দরিদ্র মানুষের মধ্যে।

এবারের লকডাউন ঘোষণার সঙ্গে অতিদরিদ্র মানুষের খাদ্যের সংকট দেখা দিলে কী হবে, এর কোনো দিকনির্দেশনা নেই। হয়তো ভাবা হয়েছে, সাত দিনে খাদ্য সংকট হবে না। ব্যাপারটি হয়তো ওই রকমই। কিন্তু খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে ঘোষণা না থাকলে তা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে এবং তেমনটিই আমরা দেখছি। সত্যি কথা বলতে, লকডাউন তেমনভাবে কার্যকর হচ্ছে না। বইমেলাসহ নানা ধরনের কার্যক্রম খোলা রেখে লকডাউন যে কার্যকর হবে না, তেমনটি বোঝাই যাচ্ছিল। একদিকে এই স্বল্পমেয়াদের লকডাউনে করোনা সংক্রমণ মোকাবিলা সম্ভব নয়, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের লকডাউনে যাওয়াও অর্থনীতির জন্য ব্যাপক চ্যালেঞ্জের হবে। তা হলে ওই অবস্থায় ঢিলেঢালা লকডাউন দিয়ে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কমেছে, নাকি যারা শহর ছেড়ে গ্রামে গেছেন, তাদের মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে- ওই প্রশ্ন খুবই প্রাসঙ্গিক। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এবং আমাদের অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে খুব সাবধানে পরিকল্পনা করতে হবে কীভাবে জীবনের ঝুঁকি আর জীবিকার ঝুঁকির মধ্যে ভারসাম্য আনব। এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, আমাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এবং প্রায় ১১ শতাংশ দরিদ্র মানুষের দেশে অনেক দিনের লকডাউনে গিয়ে দরিদ্র মানুষকে ক্রমাগত অর্থ কিংবা খাদ্য সাহায্য করে যাওয়া সম্ভব নয়। শুধু দরিদ্র কেন- নিম্নমধ্যবিত্ত, এমনকি মধ্যবিত্তের কর্মসংস্থান যদি ঝুঁকিতে পড়ে আর পথ বন্ধ হয় কিংবা আয় কমে যায়, এতেও তারা ভয়াবহ জীবনের ঝুঁকিতে পড়বে। এই অবস্থায় করণীয় আলোচনার আগে একটু দেখে নেওয়া দরকার গত এক বছরে কোভিড ১৯-এর প্রভাবে অর্থনীতির অবস্থা কেমন দাঁড়িয়েছে।

২০২০ সালের মার্চ থেকে কোভিডের কবলে পড়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি একের পর এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ওই সময় প্রায় দুই মাসের লকডাউনে দেড় কোটি মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছিল অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ শুধু নয়- বরং অনেক বড় ব্যবসাতেও নেমেছিল ধস। অতিক্ষুদ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর অনেকেরই ব্যবসা নষ্ট হয়ে গেছে, পুঁজি হারিয়েছেন। তবে ওই সময়ে আমরা একটা স্বাভাবিক অবস্থা থেকে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছিলাম। এ কারণে অনেকেই তাদের আগের সঞ্চয় থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে গেছেন এবং কোভিডের প্রথম ঢেউয়ের প্রকোপ কিছুটা কমে এলে তারা আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। ওই সময় সরকার ঘোষিত নানা রকম প্রণোদনা অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব রেখেছে সন্দেহ নেই। আবার এ কথাও সত্যি, অনেকেই ওই প্রণোদনার আওতায় আসতে পারেননি। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক খাতে যেসব অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা আছেন, তারা রয়ে গেছেন এই প্রণোদনার আওতার বাইরে। যদিও এনজিও এবং কিছু বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, তবুও এর পরিমাণ অনেক কম। তা অতিক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছায়নি। আবার গত বছর যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো যেহেতু ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে- সেহেতু তা এখন ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়ায় আছে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কাজেই বুঝতে হবে, কোভিড ১৯-এর এই দ্বিতীয় ঢেউ যখন শুরু হয়েছে- তখন অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থা থেকে চ্যালেঞ্জে পড়েনি, বরং গত এক বছরের কোভিড ১৯-এর চ্যালেঞ্জপূর্ণ অর্থনীতি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।

এ কথা অনস্বীকার্য যে, কোভিভ ১৯-এর প্রভাব মোকাবিলায় সরকার যেভাবে তাৎক্ষণিক ভূমিকা রেখেছে এবং চেষ্টা করেছে এর নানা ঝুঁকি কমানোর, তা প্রশংসনীয়। আমরা এই সময় অনেক রকম দুর্বলতাও দেখেছি খাদ্য বিতরণ, স্বাস্থ্যের ব্যবস্থাপনায়। ওই দুর্বলতাগুলো খুব দ্রুত মোকাবিলা সম্ভব নয়। তবে সেগুলো দূর করার প্রচেষ্টা দেখা গেছে। বিশ্বব্যাপী বিরাজমান এই অতিমারী এখনো শেষ হয়নি, বরং বিভিন্ন দেশেই সদর্পে বিচরণ করছে। উন্নত দেশগুলোর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে কঠোর লকডাউন দেওয়ার পরও মানুষের খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা দেওয়া। কারণ তাদের সঞ্চিত সম্পদ আছে। বাংলাদেশ সরকার আন্তরিক হলেও দরিদ্র মানুষের আধিক্যের কারণে উন্নত দেশের মতো করে এখানে পরিকল্পনা গ্রহণ সম্ভব নয়। আমাদের দেশের অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় থাকলেও সবার কর্মসংস্থান হয় না। আবার এ দেশে কর্মহীন মানুষের জন্য কোনো ধরনের আনএমপ্লয়মেন্ট বেনিফিট কিংবা সর্বজনীন পেনশনের ব্যবস্থা নেই। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় সরকার চেষ্টা করে অর্থ সহায়তা দিয়ে এবং নানা রকম কর্মসৃজনমূলক প্রোগ্রাম হাতে নিয়ে অতিদরিদ্র মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার। কিন্তু ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যতজনের প্রয়োজন, তাদের সবাইকে এরূপ সহযোগিতা দেওয়া সম্ভব হয় না। এ অবস্থায় নতুন করে দরিদ্র হওয়া লাখ লাখ মানুষকে খাদ্য ও অর্থ সহায়তা দিতে হয়েছে গত বছর। অনেক কর্মসূচি এখনো চলছে। এতে সামাজিক সুরক্ষার জন্য সরকারের খরচ বেড়েছে। কাজেই এখন নতুন করে আরও মানুষ দরিদ্র হলে তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নেওয়াটা কঠিন হবে বৈকি।

অন্যদিকে নানা রকম প্রণোদনার অর্থ মূলত দেওয়া হয়েছে ব্যাংকিংব্যবস্থার মাধ্যমে। এ ক্ষেত্রে বড় শিল্পের জন্য প্রণোদনার যে অর্থ দেওয়া হয়েছিল, তা দ্রুততার সঙ্গে বিভিন্ন উদ্যোক্তাকে ঋণ হিসেবে দেখা গেলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্রণোদনার অর্থ পৌঁছানোর গতি ছিল খুবই ধীর। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য দেওয়া প্রণোদনার অর্থের অর্ধেকও বিতরণ করা যায়নি। এর পর অবশ্য এতে গতি এসেছে। কিন্তু যারা দেরিতে এসে এই অর্থ পেয়েছেন, এই মুহূর্তে যদি তারা ব্যবসা-বাণিজ্য ঠিকমতো করতে না পারেন- তা হলে এই ঋণের টাকা ফেরত দেবেন কীভাবে। যারা কোনো ধরনের প্রণোদনার আওতায় আসেননি, নিজেরাই কষ্ট করে আবার তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন- তারাই বা টিকে থাকবেন কীভাবে? এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত লাখো মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই বুঝতে হবে, এ মুহূর্তে জীবিকার প্রশ্নটিই জীবনের চেয়ে আলাদা নয়। কোভিড ১৯-এর জন্য যেমন জীবন ঝুঁকিতে আছে, তেমনি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণেও সৃষ্টি হতে পারে জীবনের ঝুঁকি। আর ওই বিবেচনায় সরকারকে পরিকল্পনা করতে হবে। তবে সরকারের শত পরিকল্পনাতেও লাভ হবে না- যদি না আমরা সচেতন হই এবং সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার হাত বাড়াই। বিশেষ করে যারা কোভিড ১৯-এর কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হননি, বরং লাভবান হয়েছেন কিংবা যাদের আগে থেকেই অনেক অর্থ আছে, তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

এই বাস্তবতা এখন আমাদের বুঝতে হবে যে, এখন লম্বা সময়ের জন্য লকডাউনে যাওয়ার মতো অর্থনৈতিক ঝুঁকি নেওয়ার সক্ষমতা আমাদের নেই। বরং এর মাধ্যমে শিশুমৃত্যু, মাতৃমৃত্যু, অপুষ্টিজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই এখন দরকার কঠোরভাবে করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করা। এ ক্ষেত্রে দরকার করোনা টেস্টের সুযোগ আরও বাড়ানো, চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো এবং ব্যাপকভাবে স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি অব্যাহত রাখা। একই সঙ্গে দরিদ্র মানুষের মধ্যে মাস্ক বিতরণ, স্যানিটাইজার ও সাবান বিতরণ অব্যাহত রাখতে হবে। তা ছাড়া বিভিন্ন পাবলিক এলাকায় হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। বিভিন্ন রকম উৎসব অনুষ্ঠানকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। আগামী অন্তত এক বছরের পরিকল্পনা করতে হবে এসব কর্মসূচি অব্যাহত রাখার। এমনকি করোনার সংক্রমণ কমে এলেও সবাইকে এ ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বাধ্য করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে আরোপ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি খাতের সক্ষম মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে শিল্পপতিদের। সরকারের নানা রকম উন্নয়ন কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে হবে- যাতে এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান হয়। এটি ঠিক, বিভিন্ন ধরনের উৎসব, অনুষ্ঠান, সমাবেশ ইত্যাদি ঘিরে যে অর্থনৈতিক কর্মকা- হয়- সেগুলো হয়তো এখন কম থাকবে। এতে অর্থনীতির কিছু ক্ষতি হবে। কিন্তু এ ক্ষতিটুকু মেনে নিয়েই আমাদের চলতে হবে।

আমাদের এখন বড় রকমের চিন্তার জায়গা হলো শিক্ষাব্যবস্থা। দরিদ্র পরিবারের সন্তানরাও যেন অনলাইন শিক্ষার সুযোগ পায়, এ জন্য তাদের হাতে শিক্ষা উপকরণ পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের সম্পদশালী মানুষের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। তা না হলে শিক্ষা সুযোগের অভাবে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হয়ে আগামীর কর্মসংস্থানে পিছিয়ে যাবে দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা। এতে আয়বৈষম্য আগামীতে আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। তাই শিক্ষা সুযোগের ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ নেওয়াটা খুব জরুরি।

বর্তমান লকডাউনটি আমার মতে, আমাদের সতর্ক করার একটা প্রতীক। আবারও সবার মধ্যে এই সচেতনতা দেওয়া যে, আমরা কিংবা এই বিশ্ব এখনো ঝুঁকিমুক্ত হয়নি। তবে এই লকডাউনের বাস্তবায়ন যেভাবে হচ্ছে, এতে মানুষের মধ্যে নানা রকম অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। সত্যিকার অর্থেই যদি লকডাউন হতো, তা হলে সেখানে কোনো ধরনের মেলা কিংবা উৎসব চলার কথা নয়। সরকারের পক্ষ থেকে মানুষের প্রতি সিগন্যাল এক রকম হওয়া উচিত। অর্থাৎ করোনার ঝুঁকিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সবাইকে যে ব্যাপকভাবে সচেতনতা পালন করতে হবে, এই মেসেজ সবার কাছে দিতে হলে পাবলিক উৎসব কয়েক মাসের জন্য বর্জন করতে হবে। এটুকু অর্থনৈতিক ক্ষতি মেনে নিয়ে বরং এই সংশ্লিষ্ট মানুষের কর্মসংস্থান দিতে বিশেষ কর্মসূচি নিতে হবে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এত ব্যাপকভাবে অনুভূত হওয়ার পেছনে আমাদের অসচেতনতা বিশেষভাবে দায়ী। তা ছাড়া গত বছরের মতো এবারও আমরা ভুল করেছি যুক্তরাজ্যে এই নতুন ধরনের ভাইরাসের প্রকল্প শুরু হওয়ার পর সেখান থেকে দেশের লোক প্রবেশ করা বন্ধ না করে। আবার ভ্যাকসিনের এক ডোজ দিয়েই আমরা ভেবেছি, করোনা বোধহয় প্রতিরোধ করা গেল। এ ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রচার চালানো দরকার ছিল যে, এক ডোজ ভ্যাকসিন নিলেই করোনা প্রতিরোধ হয়ে যাবে না। এখন থেকেই এ প্রচার চালিয়ে যেতে হবে যে, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরও শতভাগ মানুষকে করোনামুক্ত থাকার নিশ্চয়তা দেবে না। তাই সবাইকে মাস্ক পরা অব্যাহত রাখতে হবে যতদিন না আমরা দেখি করোনার সংক্রমণ একেবারেই কমে গেছে।

এ কথা ঠিক, স্বল্পোন্নত দেশ হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় আমরা করোনার ক্ষতি মোকাবিলা করেছি অনেক ভালোভাবে এবং এখন পর্যন্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছি। কিন্তু চাইলেই দীর্ঘদিনের লকডাউন দিয়ে সাধারণ মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার মতো আর্থিক ও কাঠামোগত সক্ষমতা আমাদের নেই। কাজেই কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে জীবন ও জীবিকার ভারসাম্য রক্ষা করাই যুক্তিযুক্ত বলে মনে করি।

 

ড. নাজনীন আহমেদ : অর্থনীতিবিদ ও সিনিয়র রিসার্চ ফেলো, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)

 

 

 

 

 

advertisement