advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

কে এই ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক
৮ এপ্রিল ২০২১ ১৮:৪৭ | আপডেট: ৯ এপ্রিল ২০২১ ০০:৫৩
রফিকুল ইসলাম মাদানী
advertisement

দেশের বিভিন্ন স্থানে মাহফিলে ওয়াজের মাধ্যমে শিশুবক্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন রফিকুল ইসলাম মাদানী। গত ২৫ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় হেফাজতের মিছিল থেকে প্রথম আটক হয়েছিলেন তিনি। তখন তাকে কয়েক ঘণ্টা আটক রেখে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

সর্বশেষ গতকাল বুধবার ‘রাষ্ট্র বিরোধী ও উসকানিমূলক’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে নেত্রকোনা থেকে আটক করেছে র‌্যাব। তাকে আটকের পর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রফিকুল ইসলামের ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, ১৯৯৪ সালে নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলায় তার জন্ম। সে হিসেবে তার বর্তমান বয়স ২৭ বছর। রফিকুল ইসলামের কণ্ঠ, শারীরিক গঠন ও মুখাবয়বের কারণে তাকে কম বয়সীর মতো মনে হয়।

রফিকুল ইসলাম ঘনিষ্ঠ সহচর মো. মাসুম বলেন, রফিকুল ইসলামের চার ভাই ও তিন বোন। রফিকুল ইসলাম নেত্রকোনার একটি মাদ্রাসায় হিফজুল কোরআন পড়াশোনা করেন। এরপর তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকায় একটি মাদ্রাসায় আসেন।

সেখানে কয়েক বছর পড়াশোনা শেষে তিনি চলে চলে যান গাজীপুরের কোনাবাড়িতে একটি মাদ্রাসায়। সেখানে কিছুদিন পড়াশোনা করার পর ঢাকার বারিধারা এলাকায় অবস্থিত একটি মাদ্রাসা থেকে তিনি দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স সমমানের) পাস করেন।

বারিধারা মাদ্রাসায় রফিকুল ইসলামের সাথে প্রায় পাঁচ বছর পড়াশোনা করেছেন রফিকুল ইসলাম নামের আরেক ব্যক্তি। তার বাড়িও নেত্রকোনায়। তিনি বলেন, ১৪-১৫ বছর বয়স থেকেই রফিকুল ইসলাম নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকায় ওয়াজ করতেন। তখন থেকেই তিনি আঞ্চলিকভাবে পরিচিত হয়ে উঠেন। কয়েক বছরের মধ্যেই নেত্রকোনার আশপাশের জেলাগুলোতে রফিকুল ইসলামের পরিচিতি গড়ে উঠে।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক বছরের মধ্যে রফিকুল ইসলাম মাদানী জাতীয়ভাবে বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছেন।’

ইউটিউবে আপলোড করা রফিকুল ইসলামের সাম্প্রতিক কিছু ভিডিওতে ক্ষমতাসীন দল এবং তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল ব্যক্তিবর্গ, সেনাবাহিনী, নির্বাচন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কড়া সমালোচনা এবং ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্য লক্ষ্য করা যায়।

এ ছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন বিরোধী এবং নারী বিদ্বেষী বক্তব্যও লক্ষ্য করা যায় রফিকুল ইসলামের বক্তব্যে। সর্বশেষ গত ৫ এপ্রিল ‘নুরিয়া ইসলামিক মিডিয়া’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল থেকে রফিকুল ইসলামের বক্তব্যের একটি ভিডিও আপলোড করা হয়। সেখানে দেখা যায়, সোনারগাঁও এলাকার একটি রিসোর্টে হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করার ঘটনা নিয়ে ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

তবে তার ঘনিষ্ঠজন এবং সমর্থকরা বলছেন, রফিকুল ইসলাম ওয়াজ-মাহফিলে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ‘সুন্দর ও তাত্ত্বিক’ আলোচনা করেন।

রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একই মাদ্রাসায় অধ্যয়নকারী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক সময় কথার টানে হয়তো বেশি বলে ফেলে। সবার তো সব কথা ভালো লাগে না। উনি সৎ সাহস নিয়ে কথা বলেন। সৎ সাহস অনেকের মধ্যে নাই, অনেকে বাস্তবতা এড়িয়ে যেতে চায়। কিন্তু উনি বাস্তবতা তুলে ধরেন।’

তার প্রকৃত নাম রফিকুল ইসলাম হলেও নামের শেষে টাইটেল বা পদবী হিসেবে ‘মাদানী’ ব্যবহার করা হয়। ঢাকার বারিধারা এলাকায় অবস্থিত জামিয়া মাদানিয়া মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স সমমানের) ডিগ্রি লাভের পর তিনি নামের শেষে 'মাদানী' টাইটেল যুক্ত করেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ‘মাদানী’ উপাধি ব্যবহার না করার জন্য রফিকুল ইসলামকে একটি লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ নোটিশটি পাঠিয়েছিলেন হেফাজতে ইসলামের মদিনা শাখার আমির ও সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্য। তার নামও রফিকুল ইসলাম।

লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়, সৌদি আরবে মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা না করেও মাদানী উপাধি ব্যবহার করছেন রফিকুল ইসলাম। বারিধারা মাদ্রাসায় রফিকুল ইসলাম মাদানীর সহপাঠী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি মাদানী হিসেবে প্রসিদ্ধ হয়ে গেছেন।’

লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর পরে একটি অনুষ্ঠানে রফিকুল ইসলাম বলেন, মদিনা থেকে পড়াশোনা করলেই যে শুধু ‘মাদানী’ উপাধি ব্যবহার করা যাবে বিষয়টি সে রকম নয়।

advertisement