advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

শাড়িতে রঙিন বৈশাখ

এমি জান্নাত
৯ এপ্রিল ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৮ এপ্রিল ২০২১ ২১:৩৩
advertisement

‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো তাপস নিঃশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে...’

সময় এলো বৈশাখকে বরণ করে নেওয়ার। নতুন বছরে নতুন আশায় সবাই সেজে উঠবে নানা রঙে। আর বৈশাখী শাড়িতে অনন্য হয়ে উঠবেন নারীরা। করোনা পরিস্থিতিতেও রমণীরা বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস ও অনলাইনে ঝুঁকছেন বৈশাখী শাড়িতে নিজেকে বর্ণিল করে তুলতে। ফ্যাশন হাউসগুলোর এবার বৈশাখী আয়োজন

জানাচ্ছেন এমি জান্নাত

এসে গেল বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। আর বৈশাখ মানেই বাঙালিয়ানা। জাতি-ধর্ম-বর্ণ ভেদাভেদ ভুলে সবাই উৎসব পালনের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকেও রঙিন সাজে সাজিয়ে বরণ করে নেবেন বাংলা নববর্ষকে। নারীরা নিজেকে রাঙাবেন নানা রঙের শাড়িতে। তাই প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস বৈশাখে সেজে উঠেছে নানা রঙের সমাহারের শাড়ি ও পোশাকে।

রঙ বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী সৌমিক দাস বলেন, প্রতিবার বৈশাখেই আমরা দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সামনে রেখেই আমাদের পোশাকগুলো করে থাকি। করোনাকালের নানা সমস্যা, ভোগান্তি সত্ত্বেও বাঙালি ঠিকই বৈশাখের প্রথম প্রহরে বরণ করে নেবে বছরের প্রথম দিনটিকে। পোশাক নিয়ে বাঙালির ভাবনার যেন অন্ত নেই! সময়কে রাঙানোর ব্রত নিয়ে এবারের অভিযাত্রায় সৃজনের মূল প্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে শতরঞ্জি, উজবেক সুজানী, মধুবনী ও মানডালা থেকে। রঙ বাংলাদেশ বরাবরই বাংলার কথা বলে, বাঙালির কথা বলে। এবারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। নারীকে সাজাতে শাড়িতে আবহাওয়া উপযোগী রঙ ও ফ্যাব্রিক ব্যবহার করা হয়েছে। মূল রঙ লাল, সাদা, নীল, ম্যাজেন্টা, পেস্ট ছাড়াও কমলা, টিয়া, অফহোয়াইট, ফিরোজা- এগুলোও ব্যবহার করা হয়েছে। আর ফ্যাব্রিক রয়েছে তাঁত, সুতি, হাফসিল্ক ও মসলিন। কাজ করা হয়েছে স্কিন প্রিন্ট, ব্লক, এমব্রয়ডারি, প্যাঁচওয়ার্ক, হাতের কাজ ও কারচুপি।

ফ্যাশন হাউস বিবিআনার স্বত্বাধিকারী ও ফ্যাশন ডিজাইনার লিপি খন্দকার বলেন, বৈশাখের ক্ষেত্রে আমরা সব সময় সাদা এবং অফহোয়াইটকে প্রাধান্য দিয়েই পোশাকগুলো করে থাকি। এবারও সেটিই করা হয়েছে। তবে এর পাশাপাশি এবার অন্য গোল্ডেন রাখা হয়েছে এবং প্রতিটির সঙ্গে আলাদা কম্বিনেশন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। শাড়ির ক্ষেত্রে ভয়েল, সুতি ও কাপড় ব্যবহার করা হয়েছে। বৈশাখের ক্ষেত্রে আমাদের দেশীয় ঐতিহ্যকেই মোটিভ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ বছর অনুপ্রেরণা হিসেবে আমরা ফুল, গাছপালা ও পাতার ছবি রেখেছি এবং মোটিভগুলো ব্যবহার করেছি স্কিন ও ব্লক প্রিন্টের মাধ্যমে।

বিশ্বরঙের আয়োজনে আলপনা দিয়ে পোশাকের ডিজাইনগুলো করা হয়েছে। শাড়িগুলোও সেভাবেই করা হয়েছে। সব বয়সের জন্যই রঙ সেভাবেই ব্যবহার করা হয়েছে। পুরো পরিবার মিলিয়ে পরতে পারবে- এদিকটা খেয়াল রেখে এক ছাদের নিচে যেন সব পাওয়া যায়, সেভাবেই পোশাক রাখা হয়েছে। সকালের জন্য সুতির শাড়িকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আর বিকেলের পর গরম ভাবটা একটু কমে আসে। তখন যদি কেউ সিল্ক পরতে চান, তা হলে সেটিও রাখা হয়েছে। শুধু লাল-সাদাতেই বন্দি না রেখে এর সঙ্গে কমলা, নীল, ম্যাজেন্টা- এগুলোকেও প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

কে-ক্রাফটের শাড়ির আয়োজনে বৈশাখে লাল-সাদার প্রাধান্য যদিও একটু বেশিই দেওয়া হয়, তবুও লাল-সাদার পাশাপাশি স্কিন কালার, অরেঞ্জও ব্যবহার করা হয়েছে। সুতির ওপরই বেশিরভাগ শাড়ি করা হয়েছে। ব্লক, এমব্রয়ডারি, স্কিন প্রিন্ট, বাটিক- এগুলো দিয়ে কাজ করা হয়েছে। শাড়িগুলো মা-মেয়ের জন্য ম্যাচ করে একই ডিজাইনে করা। এ ছাড়া কেউ চাইলে আলাদা তো রয়েছেই।

শাড়ি ছাড়াও বৈশাখী আয়োজনে রয়েছে মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি, টপস বিভিন্ন প্যাটার্নে। সালোয়ার-কামিজ এবং মেয়েদের টপসের ক্ষেত্রে ভয়েল, সুতি ও লিলেন- এ তিনটি কাপড় বেশি ব্যবহার করা হয়েছে। বৈশাখের ক্ষেত্রে শাড়ি ছাড়াও এই পোশাকগুলোয় অনেকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাই এই পোশাকগুলোতেও রঙ ব্যবহার করা হয়েছে লাল, সাদা, অফহোয়াইট, নীল, ম্যাজেন্টা, গোলাপি ও সবুজ।

অন্যদিকে আড়ং, বাংলার মেলা, রঙ, নিত্যউপহার, নবরূপা, রূপমেলা, অন্যমেলাসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে রয়েছে বৈশাখী শাড়ির সমাহার। এগুলো ছাড়াও বসুন্ধরা সিটি, মেট্রো শপিংমল, আজিজ সুপার মার্কেট, নিউমার্কেট সহ বিভিন্ন শপিংমলেই পেয়ে যাবেন আপনার পছন্দের বৈশাখী শাড়ি। আর প্রায় প্রতিটি ফ্যাশন হাউসই ম্যাচিং শাড়ি রেখেছে মা-মেয়ের জন্য। তাই এ বৈশাখেও শাড়িতে নারী হয়ে উঠুক অনন্য।

advertisement