advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

করোনায় জীবন-জীবিকার দ্বন্দ্ব
বাস্তবতার আলোকে বিশেষজ্ঞের পথনির্দেশ কাম্য

৯ এপ্রিল ২০২১ ০০:০০
আপডেট: ৮ এপ্রিল ২০২১ ২১:৪৪
advertisement

করোনা অতিমারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ে যখন সংক্রমণ এবং মৃত্যু আগের সব হিসাব ছাড়িয়ে যাচ্ছে, তখন সাধারণ মানুষের চিন্তাজুড়ে আছে জীবিকা রক্ষার তাগিদ। দোকানদার, রাইড শেয়ারিংচালক, ছোট ব্যবসায়ী ও গণপরিবহনের মালিক-শ্রমিকরা রাজপথে মিছিল করছেন বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে। আমাদের মনে হয়, বিষয়টি কর্তৃপক্ষের বিবেচনার দাবি রাখে। স্বল্পআয় ও দৈনিক রুজির ওপর নির্ভরশীল মানুষ উভয় সংকটে রয়েছে। করোনা একটি প্রাণঘাতী রোগ আবার নিজের আয় ছাড়া জীবনধারণ অনিশ্চিত। দুই অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রায় নিশ্চিত হচ্ছে, জীবিকা নষ্ট হলে প্রাণধারণের সংকট হবে। কিন্তু করোনা প্রথমত নাও হতে পারে, দ্বিতীয়ত করোনায় মৃত্যুর হার এখনো ১ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে। অর্থাৎ একশতে দুইজনেরও কম। ফলে তাদের জন্য জীবিকার ঝুঁকির চেয়ে জীবনের ঝুঁকি বা করোনার ঝুঁকিই আপাতত কাম্য। জীবিকার ক্ষেত্রে আরও বিবেচ্য বিষয় হলো, এতে কেবল নিজের নয়- পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার, চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা ও তাদের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

এ কথাও ভাবনায় রাখতে হবে- যদি কিছু বিধিনিষেধ দিয়ে রোগের সংক্রমণ ঠেকানো না যায়, তা হলে ঘনবসতিপূর্ণ জনবহুল এই দেশে মহামারী আকারে রোগটি চলতেই থাকবে। আমাদের মনে হয়, রোগের প্রকোপ অনুযায়ী দেশের একটি হালনাগাদ করোনা মানচিত্র তৈরি করা জরুরি। সারাদেশে একযোগে লকডাউন দেওয়ার প্রয়োজন নেই। রাজধানী ঢাকার মতো বড় শহরের ওয়ার্ডভিত্তিক করোনা ম্যাপ করে লকডাউনের কথা ভাবা যায়। আরও কিছু শহরে এই ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। গ্রাম ও ছোট শহরগুলো সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখা উচিত। অফিসের কাজ নিয়ন্ত্রিত হলেও কলকারখানা ও উৎপাদন ক্ষেত্রে কাজ বন্ধ হবে না। একই সঙ্গে সারাদেশে পরবর্তী নির্দেশনা পর্যন্ত তিনটি স্বাস্থ্যবিধি সবার জন্য বাধ্যতামূলক করে দেওয়া প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়ার ফল দেখে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা ঠিক হবে।

দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, করোনা সহজে যাবে না। এ রোগ এক সময় নিয়ন্ত্রিত হলেও ফ্লু বা অন্যান্য ভাইরাসজনিত রোগের মতো পৃথিবীতে থেকে যাবে। তাই সামাজিক প্রতিরোধ গড়া ছাড়া বিকল্প নেই। যত বেশি মানুষের মধ্যে যত দ্রুত অ্যান্টিবডি তৈরি হবে, ততই সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে বিজ্ঞানীদের নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্ট সম্পর্কে গবেষণা চালিয়ে যেতে এবং এগুলোকে মোকাবিলার সঠিক ব্যবস্থা উদ্ভাবন করতে হবে। বিশেষজ্ঞীয় জ্ঞান ও বাস্তব বুদ্ধির সমন্বয়েই এ বিপদ মোকাবিলা করতে হবে।

advertisement