advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

৩৬ কোটি টাকার মেশিনের মেরামতে ব্যয় ২১ কোটি!
অপচয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

৯ এপ্রিল ২০২১ ০০:০০
আপডেট: ৮ এপ্রিল ২০২১ ২১:৪৪
advertisement

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পুরো সেক্টরের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এ সেক্টর থেকে সরানো যাচ্ছে না অনিয়ম-দুর্নীতির কালো ছায়া। রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংস্থাটির ভেতরে এখনো সক্রিয় দুর্নীতিবাজদের সিন্ডিকেট। বিমানকে দুর্নীতির অভয়ারণ্য বললেও অত্যুক্তি হয় না। সম্ভাবনাময় সংস্থাটি বর্তমানে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে মূলত সীমাহীন দুর্নীতির কারণেই।

গতকাল আমাদের সময়ের এক প্রতিবেদনে এবার উঠে এসেছে, ‘৩৬ কোটি টাকার মেশিনের মেরামতে ব্যয় ২১ কোটি!’ এতে বলা হয়েছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার রোধে ২০১৭ সালের শেষ দিকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) দুটি স্ক্যানার মেশিন স্থাপন করে ৩৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে। তিন বছর পর ওই মেশিন দুটির মেরামত ব্যয় ২০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ধরে হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, বারবার বিকলের কারণে শাহজালাল বিমানবন্দরের রপ্তানি কার্গো ভিলেজে বিস্ফোরক দ্রব্য স্ক্যানিংয়ের কাজ আটকে যায়। এর পরও ওই একই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব মেশিন মেরামত করার প্রস্তাব কেন? আর মেরামত ব্যয় কী করে ক্রয়মূল্যের কাছাকাছি ব্যয়ে পুরনো দুটি মেশিন মেরামত করতে হবে এবং তা কাদের স্বার্থে?

অন্যদিকে অপারেটর নিয়োগ, নিজস্ব সফটওয়্যার কেনা ও চুক্তি বাতিল করে একটা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তৃতীয় একটি পক্ষ নেপথ্য থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। ফলে বিমানের এসব অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভব হচ্ছে না। এটি পরিষ্কার, এ প্রতিষ্ঠানটিকে দক্ষ এবং গতিশীল করার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় প্রভাবশালী মহলের অদৃশ্য, অলিখিত ও অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ।

সংস্থাটির প্রায় প্রতিটি শাখায় দুর্নীতির বিস্তার ঘটেছে। দুর্নীতি বন্ধে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর হুশিয়ারি সত্ত্বেও বাংলাদেশ বিমানে বিরাজমান দুর্নীতি বন্ধ করা যায়নি। বছরের পর বছর ধরে নানা রকম কারসাজি ও ফন্দিফিকিরের মাধ্যমে প্রায় প্রকাশ্যে সিন্ডিকেট গঠন করে সংস্থাটিতে কমিশনবাণিজ্যসহ দুর্নীতি এবং অপরাধ চালানো হলেও এতদিন তা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ কেন নেওয়া হয়নি, তা এক প্রশ্ন বটে।

বাংলাদেশ বিমানও যাতে প্রত্যেক বাঙালির অহঙ্কারের বিষয়ে পরিণত হয়, এ উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। এ জন্য সর্বপ্রথম এটিকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতির যাবতীয় তথ্য উদ্ঘাটন করে সংস্থাটিকে দুর্নীতিমুক্ত করা এবং সফটওয়্যার ব্যবহারে নিজেদেরই সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার যদি বিদ্যমান পরিস্থিতি পরিবর্তনে আন্তরিক হয়, তা হলে এটি না হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমাদের প্রত্যাশা বিমান সব ধরনের দুর্নীতি থেকে মুক্ত হোক।

advertisement