advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের ভাবনা

লে. কর্নেল ডা. নাসির উদ্দিন আহমদ
৯ এপ্রিল ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৮ এপ্রিল ২০২১ ২২:০৬
advertisement

গতকাল বুধবার বিশ্বজুড়ে পালিত হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে দিবসটি। করোনা মহামারী আক্রান্ত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যকর বিশ্ব গড়ার লক্ষ্য সামনে রেখে এবার উদযাপিত হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। পৃথিবীজুড়েই রয়েছে ধনী-গরিবের ব্যবধান। ধনীরা রোগাক্রান্ত হলে যত দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিতে পারে, দরিদ্ররা তা পারে না। রোগ নির্ণয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া, ওষুধ কেনা সহজে সম্ভব হয় না। পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব, অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশ, সুপেয় পানীয় জলের অভাব দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। এ ছাড়া বৃদ্ধ-প্রবীণ সম্প্রদায়, নিঃস্ব নারীরা চিকিৎসা সেবাপ্রাপ্তিতে কোথাও চরমভাবে অবহেলিত।

বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় দশ হাজার মানুষ দারিদ্র্যের কষাঘাতে ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা না পেয়ে বিনাচিকিৎসায় মারা যাচ্ছে। বিশ্বের প্রায় ৭৩৫ মিলিয়ন মানুষ চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে, যাদের স্বাস্থ্যসেবাপ্রাপ্তি বিশাল এক চ্যালেঞ্জ। অর্থনৈতিক সচ্ছলতা, সামাজিক দাপট যতটা স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ তৈরি করে, গরিবরা তা থেকে বঞ্চিত। বৈশ্বিক মহামারী প্রকট করে তুলে ধরেছে বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার বৈষম্যের চিত্র। শুধু উন্নয়নশীল বিশ্বের চিত্র নয়- ইউরোপ, আমেরিকায়ও ফুটে উঠেছে বৈষম্যের চিত্র। এ থেকে থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। স্বাস্থ্য একটি মৌলিক অধিকার। দারিদ্র্যতার কারণে যেন স্বাস্থ্যসেবা থেকে কেউ বঞ্চিত না হয়। ব্যাধি-আক্রান্ত হয়ে কাউকে ধুঁকে মরতে না হয়। চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এ বৈষম্য দূর করে মানবিক আবেদন তৈরিই স্বাস্থ্য দিবস উদযাপনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আসুন, আমরা মানবিক হই। এমন এক সমাজ, রাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলি, যেখানে দরিদ্র অসহায় মানুষ যেন চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত না হয়।

লেখক : ক্লাসিফাইড মেডিসিন স্পেশালিস্ট ও এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট, সিএমএইচ, ঢাকা

advertisement