advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

দশ বছরে আন্তঃবাণিজ্যের ১০ শতাংশে নিবে ডি-৮ রাষ্ট্রগুলো

আরিফুজ্জামান মামুন
৯ এপ্রিল ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৯ এপ্রিল ২০২১ ০১:৫০
advertisement


আগামী ১০ বছর ২০২০ থেকে ২০৩০-এর মধ্যে ডি-৮ ভুক্ত দেশগুলোর আন্তঃবাণিজ্যের ১০ শতাংশে নিবে সদস্য রাষ্ট্রগুলো। বর্তমানে আন্তঃবাণিজ্যের পরিমাণ ৬ শতাংশে রয়েছে। গতকাল ডি-৮ এর শীর্ষ সম্মেলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়িয়ে এই ফোরামকে আরও শক্তিশালী করা হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
ড. মোমেন বলেন, শীর্ষ সম্মেলনে বিদায়ী চেয়ার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ডি-৮ এর সভাপতিত্ব হস্তান্তর করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দশম ডি-৮ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। বাংলাদেশ ১৯৯৭ সালে ডি-৮ এ যোগদানের পর ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সালে দুই বছর এ সংস্থার সভাপতিত্ব করে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ আগামী দুই বছর ডি-৮ এর সভাপতিত্ব করবে।
ড. আবদুল মোমেন বলেন, শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে জানান, মুজিববর্ষ উদযাপনের পাশাপাশি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছে। এ সময়ে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের সুপারিশ লাভ করেছে। এ ঐতিহাসিক মুহূর্তে ডি-৮ এর পরবর্তী দুই বছরের সভাপতিত্ব লাভ করার মাধ্যমে বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক ফোরামে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দৃঢ় হবে বলে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে কোভিড টিকা নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোভিড টিকা নিয়ে একত্রে কাজ করতে মত দিয়েছে দেশগুলো। নিজ নিজ দেশে টিকা উৎপাদনের ওপর জোর দিয়েছে। সেই সঙ্গে এ বিষয়ে একে অপরকে সহযোগিতার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। তিনি জানান, শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্ব, চতুর্থ শিল্প বিল্পবের যুগে শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন এডুকেশন প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয় সহায়তা তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে অবস্থানরত মিয়ানমারের ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে তাদের ভূমিতে প্রত্যাবাসনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সদস্য দেশগুলোর কাছে আহ্বান জানান। সম্মেলনে বাণিজ্যের খাতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্য ডি-৮ সচিবালয়কে পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া বাণিজ্য খাতে বেসরকারি খাতের ভূমিকা উল্লেখ করে বাংলাদেশসহ ৬টি ডি-৮ এর অনুসমর্থিত ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজকরণ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ করেন।
ড. মোমেন বলেন, শীর্ষ সম্মেলনে ‘ঢাকা ঘোষণা ২০২১’ ও ‘ডি-৮ ডেসিনিয়াল রোডম্যাপ ফর ২০২০-২০৩০’ গৃহীত হয়। বাণিজ্য, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, শিল্প সহযোগিতা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, পরিবহন, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ এবং পর্যটনে গুরুত্বপূর্ন ছয়টি খাতে আন্তঃসহযোগিতা বাড়াতে সদস্য রাষ্ট্রগুলো সম্মিলিত নীতিগত অবস্থান এবং সে পরিপ্রেক্ষিতে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থায় রূপরেখা ঘোষণায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, দেশগুলো বাণিজ্য বাড়াতে ঐকমত্য হয়েছে। এ জন্য অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) নিয়ে কাজ চলছে। এরই মধ্যে ৬টি দেশ এ চুক্তির অনুমোদন করেছে। আরও দুটি দেশ বাকি রয়েছে। এ দুটি দেশ অনুমোদন করলে এ চুক্তি করতে সক্ষম হবে ডি-৮ রাষ্ট্রগুলো।

 

advertisement