advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

ফেসবুকে লাইভে মামুনুল হক
নাগরিক অধিকার ক্ষুণœকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব

নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ এপ্রিল ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৯ এপ্রিল ২০২১ ১০:০২
advertisement

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বলেছেন, ‘ফোনালাপ ফাঁস করে আমার ব্যক্তিগত ও অধিকার নাগরিক ক্ষুণœ করা হয়েছে। এটি যেমন দেশের আইনেও অপরাধ তেমনি ইসলামি বিধানেও চরম গোনাহর কাজ। সুতরাং আমার ব্যক্তিগত ফোনালাপ যারা ফাঁস করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেব। গতকাল বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে মামুনুল হক এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি তাকে নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনার কড়া জবাব দেন। নারাণয়গঞ্জের সোনারগাঁওয়ে একটি রিসোর্টে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ নিয়ে বেড়াতে গিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হওয়ার দিনের ঘটনা সম্পর্কেও তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
মামুনুল হক বলেন, ‘আমি পুলিশকে তথ্য দিয়েছি। দুই স্ত্রীর নাম আলাদা করে বলেছি। আমার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ আমেনা তৈয়বার নামটি সামনে এনেছে। জান্নাত আরা ঝর্ণার কাছ থেকে আমার অনুমতি ছাড়া তার স্টেটমেন্ট
ও মন্তব্য ধারণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নারী সদস্যরা। তারা কার অনুমতি নিয়ে জনসম্মুখে এসব প্রচার করেছে? আমার পর্দানশীন স্ত্রীর পর্দা তারা লঙ্ঘন করেছে। দেশ ও জাতির সামনে তার পর্দার বিধান লঙ্ঘন করে যে অধিকার তারা ক্ষুণœ করেছে সেটার জন্য জনতার আদালতে বিচার দায়ের করলাম।’
যে একটি অবস্থা তৈরি করা হয়েছে, আশু যদি তার পরিবর্তন না ঘটে তাহলে বাংলাদেশ অনিবার্যভাবে একটি সংঘাতমূলক পরিস্থিতির দিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন মামুনুল হক। সরকারকে হুশিয়ার করে তিনি বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট মহলকে বলব, আগুন নিয়ে বেশি খেলা করবেন না। এ আগুন নিয়ে খেলার পরিণাম কারও জন্য শুভ পরিণতি ডেকে আনবে বলে মনে হয় না।’
হেফাজতের ঢাকা মহানগরের মহাসচিব মামুনুল হক বলেন, ‘সেদিন নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টে যে ঘটনা ঘটেছে সেটি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, আমি কেন এই পরিস্থিতিতে রিসোর্টে গেলাম। হ্যাঁ, আমি স্বীকার করছি, এমন অসাবধানতাবশত সেখানে আমার যাওয়া সমীচীন হয়নি। আমি জানতাম না যে, দেশের মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চরমভাবে ভেঙে পড়েছে। সন্ত্রাসীরা আমার চরিত্রহরণের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’ যারা তার বিয়ে নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা করছেন তিনি তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘ইসলামে চারটি বিয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দেশের আইনেও একাধিক বিয়েতে বাধা নেই। কাজেই আমি দ্বিতীয় বিয়ে করেছি এতে কার কী? আমি যদি স্ত্রীদের কোনো অধিকার থেকে বঞ্চিত করে থাকি, তবে আমার বিরুদ্ধে পরিবার অভিযোগ দিতে পারে। কিন্তু কেউ কি সে রকম কিছু দেখাতে পারবে?’
স্ত্রীকে খুশি করতে প্রয়োজনে ‘সীমিত পরিসরে’ সত্য গোপনের অবকাশ রয়েছে দাবি করে মামুনুল হক বলেন, ‘আমি একাধিক বিয়ে করার ক্ষেত্রে আমার স্ত্রীকে কীভাবে ম্যানেজ করব, তার সঙ্গে আমি কোন পরিস্থিতিতে কোন কথা বলে সান্ত¡না দেব, সেটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। ইসলামি শরিয়তের মধ্যেও এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ এখতিয়ার দেওয়া আছে। স্ত্রীকে খুশি করার জন্য প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে কোনো সত্যকে গোপন করারও অবকাশ রয়েছে। কাজেই সে বিষয় অধিকার থাকলেও সেটা থাকবে আমার স্ত্রীর। আমি জানতে চাই আমার স্ত্রী কি কখনো কোথাও, বাংলাদেশের কোনো রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে অথবা কোনো আদালতের কাছে আমার ব্যাপারে কোনো অভিযোগ দায়ের করেছে? তা হলে কেন আমার স্ত্রীর অধিকার নিয়ে কিছু মানুষ গায়ে পড়ে আজকে আমাকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে?’
লাইভে হেফাজতের এই নেতা বলেন, ‘যেভাবে একের পর এক মানুষের ব্যক্তিগত ফোনালাপ ফাঁস করা হচ্ছে, এটি দেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না। মাওলানা রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে তার নামেও অপবাদ দেওয়া হয়েছে। এই যে এতগুলো ফোনালাপ ফাঁস করা হলো তাতে কি প্রমাণ মিলেছে যে, সে আমার বিবাহিতা স্ত্রী নয়? অথচ শুধু শুধু আমার একান্ত ব্যক্তিগত কথাগুলো কোন উদ্দেশ্যে ফাঁস করা হলো?’
ব্যক্তিগত ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে তিনি বলেন, ‘আমি সবার কাছে দোয়া চাই। আমার ব্যক্তিগত অসাবধানতার কারণে যে ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে এবং যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করার কারণে যে ক্ষতির সম্মুখীন ব্যক্তিগতভাবে হয়েছি; সে জন্য নিজেই মর্মাহত। আমার কারণে আজকে অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের কাছে আমি হাত জোড় করে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’ ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে মামুনুল হক বলেন, ‘বিশ্বের মুসলমান ভাইদেরও তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি। একের পর এক মামলা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে অনেক মানুষকে হয়রানি করা হবে। অথচ প্রকৃত যারা দোষী, যারা গিয়ে হামলা করল, সেই সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে রাষ্ট্র নীরব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অথচ তাদের নাম পরিচয় দিবালোকের মতো পরিষ্কার। ইনশাআল্লাহ ইতোমধ্যে তাদের ব্যাপারে আমি এজাহার দায়ের করেছি আরও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
মামুনুল হক বলেন, ‘প্রশ্ন করতে পারেন আপনার বিরুদ্ধে কেন এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হলো। রাষ্ট্রযন্ত্র আদালত ও প্রশাসন এই যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, এর মূল লক্ষ্য আমি মামুনুল হক নই। এটি ইসলামের পক্ষের কণ্ঠ রুদ্ধ করে দেওয়া। হেফাজতে ইসলামের দায়িত্বশীলদের গোপন রেকর্ড ফাঁসের যে ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছে, এর মাধ্যমে অশুভ উদ্দেশ্য স্পষ্ট। তারা চাচ্ছে হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বকে কলুষিত করতে। অন্তর্দ্বন্দ্ব ও কলহ তৈরি করতে। আস্থা ও দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি, হেফাজতে ইসলামের সংহতি দৃঢ়ভাবে অটুট থাকবে। পারস্পরিক এ ভেদাভেদ আমরা ভুলে যাব। কেউ কোনো দোষ করে থাকলে সাংগাঠনিকভাবে তার সংশোধনের যথার্থ ব্যবস্থা করা হবে। হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতৃত্ব রয়েছে, তারা যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। যারা হেফাজতে ইসলামকে দুর্বল করার পাঁয়তারা করছেন এ ষড়যন্ত্র সফল হবে না। আমার সেই নৈতিক শক্তি রয়েছে, যার কারণে আমি উপস্থিত। চড়াও হতে আসা আমার প্রাণ কেড়ে নেওয়ার মতো। হত্যা করার মতো ঔদ্ধত্য নিয়ে যে সন্ত্রাসী বাহিনী সেদিন রয়্যাল রিসোর্টে হামলা চালিয়েছিল, সেখানেও পিছপা হইনি, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলাম। ব্যক্তিগতভাবে একা হওয়ায় অনেক সন্ত্রাসীকে মোকাবিলা করতে পারিনি। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, হুমকি-ধমকির মাধ্যমে আমার নৈতিক অবস্থাকে দুর্বল করা যাবে না।’

 

 

advertisement