advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

আলোচনাসভায় অর্থমন্ত্রী
বাজেটে দেশীয় শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ এপ্রিল ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৮ এপ্রিল ২০২১ ২২:৫৩
advertisement

আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দেশি শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। করোনার কারণে দেশি শিল্প খাতে যেসব প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলোর মেয়াদসহ অন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা। গতকাল দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল প্রাক-বাজেট আলোচনাসভা শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

সভায় অংশ নেন এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম, বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট ড. রুবানা হক, বিকেএমইএ প্রেসিডেন্ট একেএম সেলিম ওসমান, বিটিএমইএ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী খোকন, বাংলাদেশ লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মো. সাইফুল ইসলাম, এমসিসিআই প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার নিহাদ কবীর, ডিসিসিআই প্রেসিডেন্ট রিজওয়ান রহমান, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম, বাংলাদেশ ওমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সেলিমা আহমেদ, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট রূপালী হক চৌধুরী, ওমেন এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট শাহরুক রহমান এবং ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট শমী কায়সার।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রাক-বাজেট আলোচনায় দেশের প্রায় সব চেম্বারকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। সভায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্যবসায়ী নেতারা বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তাদের বিভিন্ন দাবির মধ্যে বেশিরভাগই ট্যাক্স সংক্রান্ত। সভায় তাদের উপস্থাপিত দাবিগুলো রেকর্ড করা হয়েছে। বাজেট প্রণয়নে জড়িতদের সঙ্গে এসব দাবি নিয়ে একাধিক বৈঠক হবে। যৌক্তিক এবং দেশের জন্য মঙ্গলকর মনে হলে সেগুলো অবশ্যই বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

প্রাক-বাজেট আলোচনায় শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে নতুন কী দাবি করা হয়েছে? এ প্রশ্নে মুস্তফা কামাল বলেন, ‘দাবি তো সব সময় বেশি করা হয়। তারা যেসব দাবি করেছেন, তা অযৌক্তিক বলব না। তবে সরকারের পক্ষে কতটা নেওয়া সম্ভব, সে বিষয়ে এ মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। অর্থ

সচিবের নেতৃত্বে বাজেট প্রণয়নের কাজ চলছে। আমরা দেখব, তাদের দাবি কতটা গ্রহণ করা যায়। গত বছর কোভিড ১৯-এর কারণে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকা- সচল রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ২৩ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। এতে তাদের উপকার হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। তবে যেহেতু কোভিড-১৯ এখনো দেশে রয়ে গেছে, তাই প্রণোদনা প্যাকেজের মেয়াদ ও অন্য সুযোগ-সুবিধার মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে এ মুহূর্তে কিছু বলা সম্ভব নয়। কারণ প্রধানমন্ত্রী নিজে ব্যবসায়ীদের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রণোদনা প্যাকেজ দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। তবে এখনো এমন অনেক খাত আছে, যেসব খাতে নানা সমস্যা আছে। তারা প্রণোদনা প্যাকেজের কোনো সুবিধা পায়নি। ব্যবসায়ী নেতারা নতুন খাতগুলোর জন্যও প্রণোদনা প্যাকেজের সুযোগ দাবি করেছেন।

গত বছর লকডাউনের সময় প্রণোদনা প্যাকেজসহ সাধারণ মানুষের কাছে ক্যাশ ট্রান্সফারের মতো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল। এতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছিল। এবারও সাত দিনের লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আশার বাণী আছে কি না- এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, সব মানুষ আমাদের কাছে মূল্যবান। তাদের জীবন-জীবিকা যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সচেতন। আশা করছি, তিনি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেবেন।

আগামী বাজেটে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে- এ প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী অর্থবছরের বাজেটে দেশীয় অর্থনীতি আরও সম্প্রসারণ করতে হবে। তাহলেই মানুষের কাছে অর্থ যাবে। এজন্য আমাদের রাজস্ব আদায়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে রাজস্ব আদায় করতে গিয়ে যেন মানুষের ভোগান্তি না বাড়ে সেদিকেও নজর দিতে হবে।

advertisement