advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

রোগীদের জিম্মি করে অর্থ আদায় রাজশাহীতে গ্রেপ্তার ১৬

রাজশাহী ব্যুরো
৯ এপ্রিল ২০২১ ০০:০০ | আপডেট: ৮ এপ্রিল ২০২১ ২২:৫৩
advertisement

‘করোনাকালীন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা বন্ধ’ এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভালো চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে পরে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে রোগীদের জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের ১৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত রামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগসহ নগরীর লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- নগরীর হেতেমখাঁ লিচু বাগান এলাকার মৃত আনছার আলীর ছেলে প্রতারণা চত্রের মূলহোতা মো. ফজলুর রহমান পলাশ, সাগরপাড়া এলাকার খোকন শেখের ছেলে সজীব শেখ, সাধুর মোড় এলাকার মনসুর রহমানের ছেলে মো. মুন্না, আবুল হোসেনের ছেলে মো. বাদল হোসেন, চ-িপুর এলাকার আজিম উদ্দিনের ছেলে মো. লালন মিয়া, বহরমপুর এলাকার মৃত নিজাম উদ্দিনের ছেলে মো. আমিনুল ইসলাম, মৃত এলাহী বক্সের ছেলে মো. আনারুল ইসলাম, দাসপুকুর এলাকার

মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মো. মাসুদ রানা, ভাটাপাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে মো. জাহিদ হাসান রাকিব, লক্ষ্মীপুর ঝাউতলা এলাকার মৃত ছগির উদ্দিনের ছেলে মো. আনিছুর রহমান আনিছ, লক্ষ্মীপুর কাঁচা বাজার এলাকার সেলিম রেজার ছেলে মো. মনোয়ার হোসেন, আবদুল হামিদের ছেলে মো. নাসির বিন আল-নাদিম, মৃত লক্ষণ দাসের ছেলে শ্রী প্রসাদ দাস, কাজিহাটা এলাকার আবদুস সুবরের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন মাসুদ, কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার মৃত সজর আলীর ছেলে মো. আরব আলী এবং জেলার পুঠিয়া উপজেলার রঘুরামপুর গ্রামের মৃত সইজুদ্দিনের ছেলে মো. আবু সাঈদ।

মহানগর ডিবি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে চিকিৎসা নিতে রামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগে গিয়েছিলেন নগরীর শিরোইল মহলদারপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলাম। রামেক হাসপাতালে করোনার সময়ে ভালো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না বলে কৌশলে গ্রেপ্তারকৃত এ প্রতারক চক্র তাকে লক্ষ্মীপুর এলাকার এশিয়ান ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে ভালো ডাক্তার দেখানোর নাম করে তার কাছ থেকে প্রথমে ৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় এ প্রতারকচক্র। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলে ভুক্তভোগীর কাছে ওই প্রতারকচক্র আরও ২ হাজার টাকা দাবি করলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে প্রতারকচক্রের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে আটকে রেখে মারধর, এমনকি প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়। সিরাজুল পরে কৌশলে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে নগরীর লক্ষ্মীপুরে অবস্থিত মহানগর ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করলে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতারকচক্রের মূল হোতা বজলুর রহমান পলাশসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়। তাদের তথ্যে বাকিদেরও আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর পর সিরাজুল প্রতারকচক্রের ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে অর্থ আত্মসাৎ, চাঁদা দাবি, চাঁদা আদায়সহ বিভিন্ন অভিযোগে নগরীর রাজপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। এর পরই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তবে পলাতক থাকায় নগরীর বহরমপুর এলাকার আসামি মো. রুবেলকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী সিরাজুল বলেন, ‘আমি সকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে রামেক হাসপাতালে এসে বহির্বিভাগে টিকিট কাটি। এমন সময় ৩ জন লোক এসে আমাকে বলেন যে, করোনার সময় রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। তারা আমাকে একটি ক্লিনিকে ভালো ডাক্তারের কাছে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে কৌশলে সেখান থেকে এশিয়ান ডায়াগনস্টিকে নিয়ে আসে। সরল বিশ^াসে আমি সেখানে এসে বুঝতে পারি, আমি প্রতারণার স্বীকার হয়েছি। এভাবেই এ প্রতারকচক্র অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে সহজ-সরল মানুষকে দিনের পর দিন সর্বশান্ত করে আসছিল।’

মহানগর ডিবি পুলিশের উপকমিশার আরেফিন জুয়েল বলেন, ভুক্তভোগীর মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল ও এর আশপাশে অভিযান চালিয়ে ১৬ জনকে আটক করা হয়। পরে ভুক্তভোগী নগরীর রাজপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করে। আটককৃতদের ডিবি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা করা হয়। পরে ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

advertisement