রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরে আপত্তি নেই ইউএনএইচসিআরের

আমাদের সময় ডেস্ক
২৩ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মার্চ ২০১৯ ০৯:১৮

কক্সবাজারের শিবির থেকে রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর ভাসানচরের স্থানান্তরের সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর। তবে এই প্রক্রিয়া অবশ্যই রোহিঙ্গাদের ইচ্ছার ভিত্তিতে হবে বলে জানিয়েছে তারা। গত বৃহস্পতিবার ঢাকার হোটেল ওয়েস্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাইকমিশনার ভল্ক টার্ক এসব কথা জানান।

রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের বিষয়ে এরই মধ্যে জাতিসংঘ বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছে জানিয়ে টার্ক বলেন, আমরা এই আলোচনা চালিয়ে যাব। তবে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জীবন-জীবিকা ও অন্যান্য সুবিধা থাকতে হবে।

টার্ক বলেন, রোহিঙ্গাদের বিকল্প বসবাসের স্থান চিহ্নিত করার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই স্থানান্তর যেন স্বেচ্ছায় হয় তা নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করা। আমরা কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং বলেছি যে ভাসানচরে তোমাদের স্থানান্তরের ব্যাপারে আমরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি। এর আগে ইউএনএইচসিআরের এই কর্মকর্তা পাঁচ দিন কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যদি কেউ কুতুপালংসহ অন্যান্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান, তা হলে পরিষ্কার বুঝতে পারবেন যে সেগুলো কতটা ঘনবসতিপূর্ণ। তাই বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাাকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। যদিও সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বেনার নিউজ জানিয়েছে, ভাসানচরে যেতে রোহিঙ্গারা অনীহা প্রকাশ করেছে।

কুতুপালং ক্যাম্প ১-এর রোহিঙ্গা নেতা মো. আলম বেনারকে বলেন, ভাসানচরে যাওয়ার বিষয়ে ইউএনএইচসিআর কর্মকর্তা, ক্যাম্প ইনচার্জ, হেড মাঝিসহ বিভিন্ন জনের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তারা আমাদের কাছ থেকে নামের তালিকা চেয়েছিল। কিন্তু কেউ সেখানে যেতে আগ্রহী নন। সে কারণে তালিকা দেওয়া হয়নি। আসলে এত দূরে গেলে আমরা আর মিয়ানমারে ফিরতে পারব না। তা ছাড়া ওখানে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা নেই। আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের সেক্রেটারি সৈয়দ উল্লাহ বলেন, আমরা ভাসানচরে যাব না। আমরা নিরাপত্তার জন্য এখানে এসেছি; কিন্তু সেখানে তো আমাদের নিরাপত্তা নেই। আমরা শুনেছি, ওখানে পানি ওঠে, বন্যা হয়। এ অবস্থায় সেখানে আমাদের জানমালের নিরাপত্তা নেই।