একাত্তরে গণহত্যার অজানা তথ্য

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক
২৩ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মার্চ ২০১৯ ০৯:০৮

দেশের ১০টি জেলায় জরিপের মাধ্যমে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যার আরও অজানা সব তথ্য তুলে এনেছে গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষণাকেন্দ্র। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন জানিয়েছেন, সম্প্রতি গাইবান্ধা, জামালপুর, নড়াইল, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, যশোর, মৌলভীবাজার, কক্সবাজার ও বরিশালে নতুন করে ৪১৮০টি গণহত্যা ও নির্যাতনের ঘটনার তথ্য পেয়েছেন তারা।

তিনি বলেন, দশ জেলায় এই জরিপ করতে গিয়ে দেখাগেছে, আমরা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বড় কম জানি। আমাদের মাথায় আধিপত্য বিস্তার করে আছে বিজয়। খালি বিজয় দেখলে মুক্তিযুদ্ধের যে নিদারুণ যন্ত্রণা, সেটি কিন্তু আমরা পাব না। গতকাল শুক্রবার বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান মিলনায়তনে ‘গণহত্যা-বধ্যভূমি ও গণকবর জরিপ’ শীর্ষক এক সেমিনারে এই জরিপের তথ্য তুলে ধরা হয়।

এতে জানানো হয়, গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষণাকেন্দ্র সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ প্রকল্প। এতে সংশ্লিষ্টরা দক্ষিণ এশিয়ায় এই প্রথম জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে গণহত্যা-বধ্যভূমি ও গণকবরসংক্রান্ত জরিপ সম্পন্ন করেছেন। এর আগে গতবছর মার্চে অন্য ১০ জেলার জরিপের ফল প্রকাশ করেছিল গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষণাকেন্দ্র। তখন জানানো হয়েছিল, নীলফামারী, বগুড়া, নাটোর, কুড়িগ্রাম, পাবনা, রাজশাহী, সাতক্ষীরা, নারায়ণগঞ্জ, ভোলা ও খুলনা জেলায় মোট ১৭৫২টি গণহত্যার তথ্য পাওয়া গেছে জরিপে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ। তিনি বলেন, জাতির দায়মুক্তির জন্য একাত্তরের গণহত্যার প্রকৃত চিত্র খুঁজে বের করা জরুরি। সে জরিপ ও গবেষণার কাজটিই করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের নেতৃত্বে গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষণাকেন্দ্র। দেরিতে হলেও এটি অত্যন্ত শুভ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে একাত্তরের গণহত্যা, বধ্যভূমি ও নির্যাতনকেন্দ্রের প্রকৃত সংখ্যা বেরিয়ে আসবে। আর এ কাজ সফল করার জন্য সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হাত সবসময় প্রসারিত থাকবে। গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্টের সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এনডিসি। স্বাগত বক্তৃতা দেন গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরের ট্রাস্টি ড. মো. মাহবুবুর রহমান। সেমিনারে গণহত্যা-নির্যাতন বধ্যভূমি ও গণকবরসংক্রান্ত ১০টি জেলা জরিপ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী।

শিশু একাডেমি চত্বরে চলছে বইমেলা ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, শিশুর জীবন করো রঙিন’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ঢাকার শিশু একাডেমি চত্বরে চলছে ৬ দিনব্যাপী বিশেষ বইমেলা। গতকাল ছিল বইমেলার দ্বিতীয় দিন। এদিন বেলা ৩টায় একাডেমি মিলনায়তনে কানাডিয়ান শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘ভোর বেলায় খালি পায়ে’ প্রদর্শন করা হয়। এ ছাড়াও শিশুদের সঙ্গে কথোপকথন করেন লেখক আলী ইমাম। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিল্পীরা ছড়া পাঠ করেন। শিশুদের বইপড়া ও ভূতের গল্প শোনান ফাহমিদা মঞ্জু মজিদ।

শিশু সংগঠন ‘আনন ফাউন্ডেশন’-এর শিশু শিল্পীরা ও শিশু একাডেমির প্রশিক্ষণার্থীদের পরিবেশনায় হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ ছাড়া ছিল সিসিমপুরের বিশেষ শো। বইমেলা চলবে প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।