লোকালয়ে অবৈধ ইটভাটা মিরসরাই

চট্টগ্রাম ব্যুরো
২৩ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ মার্চ ২০১৯ ২৩:৪৯

আবাসিক এলাকায় ইটভাটা রাখা কিংবা স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে; কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের চত্তরুয়া গ্রামে করেরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও বাজারের সঙ্গে লাগোয়া জনবসতিঘেঁষেই কৃষিজমিতে গড়ে উঠেছে ঝর্ণা ব্রিক ফিল্ড নামে একটি ইটভাটা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইটভাটার মালিক প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় এখানে প্রচলিত কোনো আইনই কার্যকর হয়নি।

সরেজমিন ঝর্ণা ব্রিক ফিল্ডে গিয়ে দেখা যায়, মিরসরাইয়ের ব্যবসায়িক কেন্দ্র করেরহাটের পাশেই ১৯৪৬ সালে স্থাপিত করেরহাট কেএম উচ্চ বিদ্যালয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনকারী ঢাকা-রামগড় সড়ক দিয়ে হেঁটে পূর্বদিকে আনুমানিক দুশ গজ গেলে করেরহাট এনবি শিশু একাডেমি। এর ১০০ গজের মধ্যে ঝর্ণা ব্রিক ফিল্ড। ব্রিক ফিল্ডের সঙ্গে লাগোয়া দক্ষিণ পাশে বেসরকারি সংস্থা আশা, ব্রাঞ্চ অফিস, প্রত্যাশী ও অপকা সমৃদ্ধির শাখা কার্যালয়। পূর্ব পাশে গ্রাম, মসজিদ, জনবসতি, পশ্চিম পাশে ব্রিক ফিল্ডের সীমানার পর থেকে তিন-ফসলি কৃষিজমি। উত্তর পাশেও ঘনবসতি। এই সব কিছুর মাঝেই প্রায় পাঁচ একর জমিতে গড়ে উঠেছে ঝর্ণা ব্রিক ফিল্ড।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা যায়, মেসার্স ঝর্ণা ব্রিক ফিল্ড ২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লাইসেন্স নবায়ন করেছিল। এর পর লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়াধীন (লাইসেন্স নং ১৬০/৯৭-৯৮) উল্লেখ করা হয়েছে।

করেরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন জানান, আইনে বলা আছেÑ বিশেষ কোনো স্থাপনা, জনবসতি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে কমপক্ষে এক কিলোমিটার দূরত্বে ইট প্রস্তুত বা ভাটা স্থাপন করতে পারবে। কিন্তু এখানে সে নিয়ম মানা হচ্ছে না। করেরহাট রেঞ্জ কর্মকর্তা উত্তম কুমার দত্ত জানান, এখানে বেশিরভাগ ইটভাটার লাইসেন্স নেই। শুধু পরিবেশ ছাত্রপত্র দিয়ে তারা অবৈধ ইটভাটা নির্মাণ করেছে।

ঝর্ণা ব্রিক ফিল্ডের মালিক এনামুল হক কোম্পানি অসুস্থ অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার পুত্র সোহাগ জানান, ২৫ বছর আগে তাদের এই ইটভাটা তৈরি করা হয়েছে। তখন এখানে বাড়িঘর ছিল না। পরে ইটভাটার আশপাশে মানুষ বাড়িঘর তৈরি করে বসতি গড়ে তুলেছে। পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন ইটভাটা মিরসরাইয়ে আরও বহু রয়েছে। ঝিকঝাক চিমনির মাধ্যমে ইট তৈরির জন্য সব ধরনের সরকারি অনুমোদন তাদের রয়েছে। তার বাবা ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকায় কাগজপত্রগুলো তিনি দেখাতে পারেননি।