মুন সিনেমার জমি ২৯ আগস্টের মধ্যে রেজিস্ট্রির নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ আগস্ট ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০১৯ ০১:২৩

বহুল আলোচিত মুন সিনেমা হলের জমি ও স্থাপনা ২৯ আগস্টের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অনুকূলে রেজিস্ট্রি করে দিতে মালিককে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আগামী ২৯ আগস্টপরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। গতকাল রবিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। মুন সিনেমা হলের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি ও অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ মামুন।

১৯৬৪ সালে ওয়াইজঘাটে মুন সিনেমা হল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর মালিক ইটালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাকসুদুল আলম। মুক্তিযুদ্ধের সময় মাকসুদুল আলম পাকিস্তানে চলে গেলে সরকার ওই সম্পত্তি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে হস্তান্তর করে। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ঘোষিত এক সামরিক ফরমানে বলা হয়, সরকার কোনো সম্পত্তি পরিত্যক্ত ঘোষণা করলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। প্রথমে এই মুন সিনেমা হল ফেরতের দাবিতে হাইকোর্টে দুদফায় রিট করে ব্যর্থ হয় মালিকপক্ষ।

পরে ২০০০ সালে ৫ম সংশোধনীর মাধ্যমে বৈধতা দানকারী ওই সামরিক ফরমান চ্যালেঞ্জ করে এবং মুন সিনেমা হল ফেরতের দাবিতে আবার হাইকোর্টে রিট করা হয়। হাইকোর্ট ২০০৫ সালে পুরো পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে দেন। এতে অবৈধ হয়ে পড়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামল। আপিল বিভাগ ২০১০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন। রায়ের

 

পর পরই ৫ম সংশোধনী বাতিল করে এর আলোকে ২০১১ সংবিধান পুনর্মুদ্রণ হয়েছে। কিন্তু আজও মুন সিনেমা হল ফেরত পায়নি।

কারণ হিসেবে জানা যায়, এরই মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট মুন সিনেমা হলের জায়গায় সাত তলাবিশিষ্ট মুন কমপ্লেক্স তৈরি করেছে। এটি করেছে ডেভেলপার কোম্পানি বাবুলী কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। চুক্তি অনুযায়ী ডেভেলপার কোম্পানিটি ৭ তলা ভবন নির্মাণের পর তা সেলামি মূল্যে বিক্রিও করেছে। ২০০৫ সালে হাইকোর্টের রায়ের পর যেসব মালিক দোকান নিয়েছিলেন তাদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা নেমে আসে। অন্যদিকে ডেভেলপার কোম্পানিও পড়ে বিপাকে। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টও ওই সম্পত্তি ফেরত দিতে জটিলতার মুখে পড়ে। এ অবস্থায় সম্পত্তি ফিরে পেতে ২০১২ সালের ১০ জানুয়ারি ইটালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেন। মুন সিনেমা হল ফেরতের জটিলতার বিষয়টি আদালতকে জানানো হলে ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগ ওই সম্পত্তি অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ এক প্রকৌশলীকে দিয়ে জমি ও স্থাপনার মূল্য নির্ধারণ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন। অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীকে দিয়ে এই মূল্য নির্ধারণ করতে বলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার পর আপিল বিভাগ গত বছর ১০ ডিসেম্বর এক আদেশে মুন সিনেমা হলের জমি ও স্থাপনার মূল্য হিসেবে ৯৯ কোটি ২১ লাখ টাকার চেক ব্যক্তি মাকসুদুল আলমের পরিবর্তে বাংলাদেশ ইটালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেডের নামে চেক দিতে নির্দেশ দেন। কিন্তু জমি রেজিস্ট্রি নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় সরকার টাকা দেওয়া থেকে বিরত থাকে। শেষ পর্যন্ত উভয়পক্ষের সমঝোতার পর আপিল বিভাগ গতকাল জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে নির্দেশ দেন।