ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে নুসরাতের মা-ভাইয়ের সাক্ষ্য

আদালত প্রতিবেদক
১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:৩১

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানিসংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার মামলায় ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে নিহতের মা শিরিন আক্তার ও ছোট ভাই রাশিদুল হাসান রায়হান সাক্ষ্য দিয়েছেন। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। পরবর্তী সাক্ষীর জন্য আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

সাক্ষ্যে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বলেন, ‘গত ২৭ মার্চ আমরা থানায় গিয়েছিলাম। এর পর নুসরাতকে ওসির রুমে ডেকে নিয়ে যায়। তবে রুমের ভিতরে আমাদের ঢুকতে দেয়নি। এর কিছু সময় পর নুসরাত বের হয়ে আসে। সে জানায়, তার কথা কেউ একজন ভিডিও রেকর্ড করেছে।’ ভিডিওটি ৩০ মিনিট পরই ওসি মোয়াজ্জেম ফেসবুকে ছেড়ে দেন বলে জানান নুসরাতের মা। নুসরাতের ছোট ভাই রাশিদুল হাসান রায়হান আদালতকে বলেন, ‘ওইদিন সোনাগাজী থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মোয়াজ্জেমের রুমে আপুকে ডেকে নেওয়া হয়।

আমাদের বাইরে থাকতে বলে। রুম থেকে বের হওয়ার পর কান্না করতে করতে আপু জানায়, ওসি মোয়াজ্জেম তার মুখোশ খুলে আপত্তিকর প্রশ্ন করেছে। মামলা দায়েরের পর থানা ত্যাগ করে আমরা চলে আসি। গত ১২ এপ্রিল ফেসবুকে দেখলাম আপুকে আপত্তিকর কিছু প্রশ্ন করছে ওসি। মামলা করার পর ওসি মোয়াজ্জেম আইনের সহায়তা দিলে আজ আপুকে পরপারে যাওয়া লাগত না।’

পরে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ তাদের জেরা করেন। এ নিয়ে মামলাটিতে পাঁচ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণকালে কারাগারে থাকা আসামি ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে কারা কর্তৃপক্ষ।

গত ২৭ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রীমা সুলতানা ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওইদিনই তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে এ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গত ১৬ জুন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন গ্রেপ্তার হন এবং পরদিন তাকে একই ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। এর পর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন। গত ১৭ জুলাই আসামি মোয়াজ্জেমের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে চার্জ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।