বিশ্বসেরার তালিকায় এবারও হাজারের মধ্যে নেই ঢাবি

আমাদের সময় ডেস্ক
১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২৩:৪২

প্রতিবছরের মতো এবারও লন্ডনভিত্তিক শিক্ষাবিষয়ক সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অবস্থান এক হাজারের পরে। তালিকাটিতে ৯২টি দেশের ১ হাজার ৩০০ বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাতে বাংলাদেশের একমাত্র ঢাবির নামই এসেছে। মূলত শিক্ষার পরিবেশ, গবেষণার সংখ্যা ও সুনাম, গবেষণার উদ্ধৃতি, এ খাত থেকে আয় এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ

বা সংশ্লিষ্টতাসহ মোট ৫টি মানদ- বিশ্লেষণ করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

তালিকার প্রথম ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৭টিই যুক্তরাষ্ট্রেরÑ যার মধ্যে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, ইয়েল ইউনিভার্সিটি। তবে চতুর্থবারের মতো তালিকার প্রথম স্থানটি দখলে নিয়েছে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড। তৃতীয় স্থানে রয়েছে লন্ডনের ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি। আর দশম স্থানে রয়েছে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন।

র‌্যাংকিংয়ের মানদ- অনুযায়ী ঢাবিতে সার্বক্ষণিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৪ হাজার ১০৮ জন। শিক্ষার্থী প্রতি কর্মীর সংখ্যা ১৫.৬ আর নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীর অনুপাত ৪২:৫৮। বিদেশি শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে শূন্য। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালটির মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে কোনো বিদেশি নেই কিংবা থাকলেও সে সংখ্যা সন্তোষজনক নয়। ২০১৬ সালের এই র‌্যাংকিংয়ে ঢাবির অবস্থান ছিল ৬০০ থেকে ৮০০-র মধ্যে। তবে এর বছর দুই পরেই দেশের উচ্চশিক্ষার সবচেয়ে বড় পীঠস্থানটির অবস্থান হঠাৎ নেমে যায়। ২০১৮ সালে ঢাবির অবস্থান গিয়ে দাঁড়ায় হাজারেরও পরে।

এ বছরই মে মাসে সাময়িকীটি এশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল। সেই তালিকায় উল্লেখিত ৪১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়েরও নাম ছিল না। সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মান ও গবেষণার সুযোগ নিয়ে বিস্তর সমালোচনা হয়। এর মধ্যে আগের বছরগুলোর তুলনায় গবেষণা, উদ্ধৃতি এবং আয়Ñ এই তিনটি খাতে উন্নতি হলেও ২০১৬ সালের পর থেকে ব্যাপক হারে নেমে গেছে শিক্ষার পরিবেশের গ্রাফ।

এদিকে তালিকা লক্ষ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের চেয়ে ভারত এবং পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেশ ভালো করেছে। এই তালিকায় তিনশ থেকে শুরু করে এক হাজারের মধ্যে রয়েছে ভারতের ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এক হাজারের মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানের ৭টি বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে প্রথম ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে ইসলামাবাদের কায়েদ-ই-আজম ইউনিভার্সিটি। খবর বিবিসির।