চেনা সাকিবে চেনা ছন্দে বাংলাদেশ

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ চট্টগ্রাম থেকে
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০৩:৪২

টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের বিশ্বকাপ কেটেছে স্বপ্নের মতো। কিন্তু বিশ্বকাপ শেষে ঘরের মাটিতে টেস্ট ও ত্রি-দেশীয় সিরিজে খেলতে নেমে নিজেকে যেন হারিয়ে ফেলেছিলেন। অবশেষে আফগানদের বিপক্ষে গতকাল গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে সাকিব ফিরেছেন চেনা ছন্দে। তার নেতৃত্বে ছন্দে ফিরেছে বাংলাদেশও। ফাইনালের দুটি দল আগেই নির্ধারণ হয়ে যাওয়ায় গতকালের ম্যাচটি ছিল শুধু নিয়মরক্ষার। আফিফ-সাইফদের পর ব্যাটিংয়ে সাকিবের দুর্দান্ত ইনিংসে আফগানদের চার উইকেটে হারিয়ে ফাইনালের প্রস্তুতিটা ভালোভাবেই সেরে নিয়েছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ফাইনালে মুখোমুখি হবে এই দুই দল।

গত রাতে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আফগানদের দেওয়া ১৩৯ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে বাংলাদেশ এই রান টপকে যায় ছয় বল হাতে রেখেই। শুরুতেই দুই ওপেনার ফিরে গেছেন ৯ রানের মধ্যে। লিটন চার ও শান্ত পাঁচ রান করে আউট হলে খেলার হাল ধরেন সাকিব-মুশফিক। দুজনের ৫৮ রানের জুটি ভাঙে মুশফিক ২৬ রানে আউট হয়ে গেলে। মুশফিক ১৫ রানের মাথায় দ্বিতীয় জীবন পেয়েও ভালোমতো কাজে লাগাতে পারেননি। তবে তিনে নেমে সাকিব আল হাসান ৭০ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন।

তার সঙ্গে অপরাজিত ছিলেন মোসাদ্দেক ১৯ রানে। দল থেকে বাদ পড়ার পর একাদশে ফিরেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি সাব্বির। আউট হয়েছেন মাত্র এক রান করে। আফিফ বোলিংয়ে দুর্দন্ত করলেও ব্যাট হাতে ছিলেন ব্যর্থ।

আফগানদের হয়ে সর্বোচ্চ দুই উইকেট করে নেন নাভীন ও রশিদ। এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ওভার শেষে আফগানিস্তান সাত উইকেট হারিয়ে ১৩৮ রান সংগ্রহ করে। সর্বোচ্চ ৪৭ রান আসে হজরতুল্লাহ জাজাইয়ের ব্যাট থেকে। জাজাই ৩৫ বলে ছয়টি চার ও দুটি ছয়ের মারে ৪৭ রান করেন। আরেক ওপেনার রহমানুল্লাহ গুবরাজ করেন ২৯ রান। ২৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন শফিকুল্লাহ।

এই তিনজন ছাড়া আর কোনো আফগান ব্যাটসম্যানই ২০ রানের ঘর পার হতে পারেননি। নাজিবুল্লাহ জাদরানের ব্যাট থেকে এসেছে ১৪ রান। ১১ রান করে অপরাজিত ছিলেন রশিদ খান। বোলিংয়ে টাইগারদের হয়ে নজরকাড়া পারফরমেন্স করেন তরুণ তুর্কি আফিফ হোসেন ধ্রুব। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এক ওভারে ২ উইকেট এবং মেডেন দেওয়ার অনন্য রের্কড গড়েন তিনি।

তিন ওভারে আফিফ দেন মাত্র ৯ রান। দলের খরুচে বোলার ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। ৩ ওভারে ৩১ রান দিয়ে নিয়েছেন একটি উইকেট। এ ছাড়া আর কোনো বোলারই ২৪ রানের বেশি দেননি। মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, শফিউল ইসলাম ও সাকিব আল হাসান নিয়েছেন একটি করে উইকেট।