জয়নাল একাই বানায় ১৮০০ এনআইডি

চট্টগ্রাম ব্যুরো
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১২:২৭
জয়নাল আবেদিন-ফাইল ছবি

নির্বাচন কমিশনের চুরি যাওয়া ল্যাপটপ দিয়ে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সার্ভারে যুক্ত করার অভিযোগে গ্রেপ্তার ডবলমুরিং থানা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহকারী জয়নাল আবেদিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জয়নাল স্বীকার করেছেন, ২০১৪ সাল থেকে তিনি অন্তত ১৮০০ রোহিঙ্গাকে ভুয়া এনআইডি করিয়ে দিয়েছেন। এর জন্য এনআইডিপ্রতি রোহিঙ্গাদের থেকে তিনি ৫০-৬০ হাজার টাকা নিতেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় মহানগর হাকিম আবু ছালেম মো. নোমানের আদালতে জবানবন্দিতে এ তথ্য দেন জয়নাল।
এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেস বড়–য়া জানান, রোহিঙ্গাদের এনআইডি
সার্ভারে যুক্ত করা ও সাধারণ মানুষের এনআইডিতে ভুল সংশোধন এবং হারিয়ে যাওয়া পরিচয়পত্র পেতে নির্বাচন কমিশনের কয়েক কর্মকর্তা জয়নালকে সহযোগিতা করতেন। এ ছাড়া এ কাজে জড়িত আছেন নির্বাচন অফিসের অফিস সহকারী, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, সার্ভারে কর্মরত কর্মকর্তাসহ আউটসোর্সিংয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া ১৫ কর্মচারী।
এদিকে এনআইডি জালিয়াতি করে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ঘটনায় চট্টগ্রাম নির্বাচন কমিশন অফিসের আরও চার কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। গতকাল রবিবার সকালে নগরীর লাভ লেনে জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে ওই চারজনকে তুলে নেওয়া হয়। এ চার কর্মী হলেনÑ মো. শাহীন, জাহিদ হাসান, ফাহমিদা নাসরিন ও পাভেল বড়ুয়া। আউটসোর্সিংয়ের ভিত্তিতে তাদের নিয়োগের কথা স্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুনীর হোসাইন খান।
চট্টগ্রাম কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার পলাশ কান্তি নাথ জানান, শাহীন ও ফাহমিদা কোতোয়ালি থানা এবং পাভেল ডবলমুরিং থানা নির্বাচন কর্মকর্তা। আর জাহিদ বন্দর থানা নির্বাচন কর্মকর্তার অধীনে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কাজ করছেন। চার রোহিঙ্গাকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি ও তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার ঘটনায় সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় এ কর্মীদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে শাহীন ও ফাহমিদাকে নগরীর দামপাড়ায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কার্যালয়ে তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক রাজেস বড়ুয়া তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।
সিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপকমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ জানান, এর আগে গ্রেপ্তার জয়নাল আবেদিনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ চারজনকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে জয়নালসহ তার দুই সহযোগীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন জেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা। পরে তাদের তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তারকৃত বাকি দুজন হলেনÑ জয়নালের বন্ধু বিজয় দাশ ও তার বোন সীমা দাশ ওরফে সুমাইয়া। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলে জয়নালকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী মোস্তফা ফারুক নামে নির্বাচন কমিশনের আরেক অস্থায়ী কর্মচারীকে ২০ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। উদ্ধার করা হয় নির্বাচন কমিশন থেকে চুরি যাওয়া একটি ল্যাপটপ। বর্তমানে ফারুককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে তদন্ত সংস্থা।