সম্রাটকে আদালতে না আনায় পেছাল রিমান্ড শুনানি

আদালত প্রতিবেদক
১০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০৭

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী স¤্রাটকে গ্রেপ্তার দেখানোসহ রিমান্ড শুনানি পিছিয়ে ১৫ অক্টোবর ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম সারাফুজ্জামান আনছারী শুনানি শেষে এ তারিখ ঠিক করেন।

এদিন এ আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোসহ রিমান্ড আবেদনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ তাকে অসুস্থতার জন্য জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেছেন মর্মে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী আদালতে একটি প্রতিবেদন পাঠান। আদালত ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ১৫ অক্টোবর শুনানির নতুন তারিখ ঠিক করেন।

এদিকে মাদক আইনের মামলায় স¤্রাটের সঙ্গে ঢাকা মহানগর যুবলীগের নেতা এনামুল হক আরমানকেও গ্রেপ্তার দেখানোসহ রিমান্ড আবেদন শুনানির দিন ধার্য ছিল। তাকে আদালতে হাজির করা হয়। একই আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। তবে রিমান্ড আবেদনের শুনানির দিন একই দিন ধার্য করেন।

এদিকে স¤্রাটের বিরুদ্ধে কেউ ভিন্নমত পোষণ করলে কিংবা কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তার ক্যাডার বাহিনী ইলেকট্রিক শক ও লাঠি দ্বারা শারীরিকভাবে নির্যাতন করত বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর স¤্রাটকে অস্ত্র মামলায় এবং স¤্রাটসহ তার সহযোগী আরমানকে মাদক মামলায় গ্রপ্তার দেখানোর আবেদনসহ প্রত্যেক মামলায় ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। যার শুনানির দিন ৯ অক্টোবর ধার্য করেন সিএমএম আদালত।

অস্ত্র আইনের মামলায় রমনা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্র আইনের মামলায় একই থানার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মাহফুজুল হক ভূঞা রিমান্ডের আবেদন করেছেন।

অস্ত্র আইনের মামলায় রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ৬ অক্টোবর ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লা থেকে স¤্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে আটক করা হয়। আটকের সময় আরমান মাদকাসক্ত থাকায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদ- প্রদান করে কারাগারে পাঠানো হয়। স¤্রাট জিজ্ঞাসাবাদে জানান, কাকরাইল অফিসে আরও মাদকদ্রব্য ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ তার সহযোগীরা অবস্থান করছে। সে সংবাদ ঊর্র্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে দুপুর ১টার দিকে কাকরাইল অফিসে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। স¤্রাটের দেখানো মতে তার বেডরুমের তোশকের নিচ থেকে ৫ রাউন্ড গুলিভর্তি একটি ম্যাগাজিনসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। রুম থেকে দুটি ইলেকট্রিক শক মেশিন ও দুটি লাঠি উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্রের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

মাদক মামলার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, কাকরাইলে স¤্রাটকে নিয়ে অভিযানে তার দেখানো মতে সেখান থেকে ১৯ বোতল বিদেশি মদ, ৪ প্যাকেট তাস ও ১১৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। প্রাথমিক তদন্তে আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত মর্মে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। আরমান ক্যাসিনো স¤্রাটের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং অবৈধ মাদকের জোগানদাতা। তারা পরস্পর যোগসাজশে ঘটনাস্থলে মাদক সংরক্ষণ করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আসামিরা ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ মাদক, জুয়া ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আরও মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং স¤্রাট ও আরমানের অস্ত্র ও গুলির মূল রহস্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে রিমান্ড মঞ্জুর করা প্রয়োজন।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। তাকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড এ তথ্য জানায়।

গতকাল বুধবার দুপুরে সম্রাটের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য ডা. মহসিন আহমেদ সংবাদিকদের বলেন, সম্রাটের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। গতকাল ভর্তির পর থেকে এ পর্যন্ত যতগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে সবগুলো রিপোর্টই ভালো এসেছে। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা মিলিয়ে বর্তমানে তিনি ভালো আছেন। তবে গত রাতে তার হৃদস্পন্দন অনিয়মিত ছিল। তাই তাকে আরও ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার কোনো ঝুঁকি নেই এবং তাকে বিদেশে নেওয়ারও প্রয়োজন নেই।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে ছয় মাসের কারাদ- পাওয়া ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন। কারাগারে তিনি বুকের ব্যথা অনুভব করলে গত মঙ্গলবার সকালে তাকে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়। তার চিকিৎসায় ৭ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়।