শয়তানের সেতুর গল্প

আমাদের সময় ডেস্ক
১৮ অক্টোবর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০১৯ ০১:০১

মানুষের অন্ধ বিশ্বাস কতরকমই না হয়! পর্তুগালে এমন একটি ব্রিজ আছে, যেটার নাম ‘ডেভিল ব্রিজ’ বা শয়তানের সেতু। এমন নামের পেছনে আছে অদ্ভুত এক গল্প, যা যুগের পর যুগ ধরে মানুষের মুখে মুখে রয়ে গেছে। রাতের অন্ধকার নামলে ওই সেতুটির কাছে কেউ যায় না। আবার অনেকের বিশ্বাস, নিঃসন্তান নারীরা এই সেতুতে দাঁড়ালে অন্তঃসত্ত্বা হন।

পর্তুগালের মন্টেলেগ্রি এবং ভেইরা ডি মিনহোর সীমানার কাছাকাছি এই সেতুটি পাথর দিয়ে তৈরি। কথিত আছে, মধ্যযুগের কোনো এক সময় ডেভিলস ব্রিজটি শয়তান নিজেই তৈরি করেছে। এর নিচ দিয়ে বয়ে চলেছে রাবাগাও নদী। জনশ্রুতি আছে, কোনো এক ঝড়ের রাতে এক ডাকাত পাহাড়-জঙ্গল পেরিয়ে রাবাগাও নদীর কাছে এসে আটকে যায়। সে সময় ডাকাতটি শয়তানের নামে প্রার্থনা শুরু করে। ভক্তের ডাকে সাড়া দিয়ে তার অনুরোধে শয়তান খরস্রোতা ওই নদীর ওপর একটি সেতু বানিয়ে দেয়। বিনিময়ে মৃত্যুর পর নিজের আত্মাকে শয়তানের কাছে অর্পণ করার প্রতিশ্রুতি দেয় ডাকাত।

সেতুটি পার হওয়ার সময় শয়তান সেই ডাকাতকে আরও একটি শর্ত জুড়ে দেয়। সেতু পার হওয়ার সময় ডাকাত পেছন ফিরে তাকাতে পারবে না, তা হলে উধাও হয়ে যাবে সেতুটি। শয়তানের শর্তানুসারে পেছনে না তাকিয়ে দৌড়ে সেতুটি পার হয় ডাকাত।

এর কয়েক বছর পর কঠিন অসুখে পড়ে সেই ডাকাত। অনুশোচনায় ভুগে সে একজন ধর্মযাজককে নিজের সব কথা খুলে বলে। এর পর ওই যাজক ছদ্মবেশে রাবাগাও সেতুতে গিয়ে শয়তানের নামে প্রার্থনা শুরু করেন। শয়তান এলে যাজক তাকে নিজের আত্মা উৎসর্গ করার প্রতিশ্রুতি দেন। পরিবর্তে নদীর ওপর সেতুটি আবার তৈরি করে দিতে অনুরোধ করেন। তার কথামতো শয়তান সেতুটি তৈরি করে। তখন ওই ধর্মযাজক শয়তানের ওপর পবিত্র পানি ছিটিয়ে তাকে ধ্বংস করে দেন। কিন্তু সেতুটি থেকে যায়।