নাগপুরেই রহস্য লুকিয়ে রয়েছে টাইগারদের

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ,রাজকোট থেকে
৯ নভেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ৯ নভেম্বর ২০১৯ ০১:৪৭
ছবি : সংগৃহীত

রোহিত শর্মার তোপে আগের দিন হারতে হয়েছে। পেসার শফিউল ইসলাম মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ দুপিঠই দেখে ফেলেছেন। গতকাল অবশ্য রাজকোটে সংবাদমাধ্যমকে তিনি আশার বাণী শুনিয়েছেন। বলেন, বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস ও মনোবল কোনোটাই ভাঙেনি। বরং দিল্লির মতো নাগপুরে ভারতকে চমকে দিতে প্রস্তুত। ভারতের দুর্বলতা জানে টাইগাররা। মোক্ষম সময়ে তুরুপের তাসটি বের করে আনতে হবে শুধু।

তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুদলই একটি করে ম্যাচ জেতায় নাগপুরের ম্যাচটি এখন অলিখিত ফাইনাল। নিদাহাস ট্রফি আর এশিয়া কাপের ফাইনালের পর ভারতের বিপক্ষে তৃতীয়বারের মতো ট্রফি জয়ে লড়াই করবেন টাইগাররা। আগের দুবার পরাজিত হতে হয়েছে; এবার পারবেন তো? এমন প্রশ্ন সমর্থকদের মনে ইতোমধ্যে দানা বাঁধছে। ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস দেখে মনে হচ্ছে কোনো চাপ অনুভব করছেন না। সিরিজ জয়ের ভালো সুযোগ আছে বলে জানিয়েছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও পেসার শফিউল ইসলাম। দিল্লিতে প্রথম ম্যাচে ৭ উইকেটে জয়ের পর রাজকোটে ৮ উইকেটে হার। গতকাল ম্যাচ শেষ করে টিম হোটেলে আসার ১২ ঘণ্টা না পেরোতেই ধরতে হয়েছে নাগপুরের বিমান।

তবে ফ্লাইট বিলম্ব হওয়ায় ঘণ্টা দুয়েক অপেক্ষা করতে হয়েছে হোটেলে। ফ্লাইট বিলম্বের কথা শুনে ঘুমঘুম চোখে বিমানবন্দরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে টিম বাসে উঠেও নেমে পড়েন মুশফিকুর রহিম, শফিউল ইসলাম আর তিন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, শার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট ও ড্যানিয়েল ভেট্টোরি। বিকাল ৪টার দিকে নাগপুরে পৌঁছায় বাংলাদেশ। আগামীকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নাগপুরের বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন মাঠে সিরিজ জয়ের লড়াইয়ে নামবেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং তিন বিভাগেই দুর্দান্ত খেললেও দ্বিতীয় ম্যাচেই দেখে মুদ্রার উল্টো পিঠ। শুরুটা দুর্দান্ত করেও টাইগারদের শেষটা হয়েছিল মলিন ও বিবর্ণ। অল্প রানের ব্যবধানে মোহাম্মদ নাঈম শেখ, মুশফিকুর রহিম, সৌম্য সরকারের উইকেট হারিয়ে ম্যাচের লাগাম হাতছাড়া হয়ে যায় বাংলাদেশের। পরে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি। লিটন কয়েকবার জীবন পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। নাঈম-সৌম্য ক্রিজে সেট হয়েও লম্বা ইনিংস খেলতে পারেননি। মাহমুদউল্লাহ আউট হয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে।

১২০ বলের ইনিংসে মুশফিকরা ডট বল দিয়েছেন ৩৮টি, ছয় ছিল মাত্র একটি। এটি ছিল ব্যাটিংয়ের পোস্টমর্টেম। বোলিংয়ে লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ছাড়া বাকিরা ছিলেন নির্বিষ। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে এ সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে চায় বাংলাদেশ। ভুল শুধরে খেলতে পারলে সিরিজ জয়ের সুযোগ আছে জানিয়ে গতকাল টিম হোটেলে সফিউল ইসলাম বলেন, ‘অবশ্যই, আমাদের এখনো সুযোগ আছে, যদি আমরা ভালো ক্রিকেট খেলি। প্রথম ম্যাচটি যে রকমভাবে খেলেছি, সে রকম খেলতে হবে। এ ম্যাচে কিছু ছোট ছোট ভুল ছিল, যদি আমরা সামনের ম্যাচে এই ভুলগুলো না করি, অবশ্যই সিরিজ জেতা সম্ভব।’

নিজেদের সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে চান অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও। ভুল থেকে শিখবেন বলে দলপতি বলেন, ‘ক্রিকেট এমন একটি খেলা, যেখানে আপনি প্রতিদিন শিখবেন। কিছু সময় একই ভুল বারবার করি। গ্রেট প্লেয়াররা বারবার একই ভুল করে না। তারা ধারাবাহিকভাবে পারফরম করে। দল হিসেবে আমাদের শিখতে হবে এবং বুঝতে হবে এ ভুল বারবার করা যাবে না।’

সতীর্থদের প্রতি তার এখনো পূর্ণ আস্থা রয়েছে। মাহমুদউল্লাহর মতে, দলে পরিবর্তনের কোনো কারণ দেখছেন না। ‘মুশি তার স্ট্রং শট স্কুপে আউট হয়েছেন। আমি তাকে দোষ দিচ্ছি না। এটি খেলার মোমেন্টাম ছিল। আমরা এটি বুঝেছি। এ সময় আমরা কিছু ভুল করেছি। এগুলো আমাদের বুঝতে হবে। আমরা কিছু রান কম করেছি। মনে করি না আমাদের খুব বেশি পরিবর্তনের দরকার। সতীর্থদের আগলে রেখে এভাবেই বলছিলেন অধিনায়ক।’

সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টাইগার দলে পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুব কম। প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে জয়ের খরা কাটিয়েছে। রোহিতদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টির আরেকটি জয়ে ফাইনালের আক্ষেপও ঘুচে যাবে? ততক্ষণ অপেক্ষা।