হাসপাতালে স্ত্রীর লাশ রেখে পালালেন স্বামী

শাহীন আলম,দেবিদ্বার (কুমিল্লা)
১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:১২ | আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ০০:১২
নিহত জান্নাত (বামে) ও তার স্বামী শাখাওয়াত

একে অপরকে ভালোবেসেছিলেন শাখাওয়াত হোসেন (২০) ও জান্নাত আক্তার (১৮)। পরিবারকে না জানিয়ে বিয়েও করেন তারা। পরে অবশ্য দুই পরিবারই বিষয়টি জেনে মেনে নেয় তাদের। গত পাঁচ মাস আগে শ্বশুর বাড়ি যান জান্নাত। গতকাল শুক্রবার ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়।

বড় ভাই মো. দুলাল মিয়াসহ স্ত্রীর লাশ ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামান শাখাওয়াত। নিয়ে যান কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে লাশ রেখে পালান শাখাওয়াত। তাকে খুঁজছে পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতালে স্ত্রীর লাশ রাখার পর থেকে পলাতক রয়েছেন শাখাওয়াত। আজ শনিবার তিনি ও তার বাবা মায়ের বিরুদ্ধে কুমিল্লার দেবিদ্বার থানায় ‘আত্মহত্যায় প্ররোচণাকারী’ অভিযোগে মামলা করেছেন জান্নাতের বড় মামা মো. শাহ আলম।

জান্নাতের বাবার নাম মো. কবির হোসেন। তিনি প্রবাসী। দেবিদ্বার উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের ব্রাহ্মনখাড়া গ্রামে তাদের বাড়ি। মেয়ে ভালোবেসে বিয়ে করেছে জানার পর শাখাওয়াতকে মেনে নেয় পরিবার। অপরদিকে শাখাওয়াতের পরিবারও জান্নাতকে মেনে নেয়। পাঁচ মাস আগে স্ত্রীকে নিজের বাড়ি নিয়ে আসেন শাখাওয়াত।

সম্প্রতি ছেলেকে সৌদি আরব পাঠাতে জান্নাতের কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন শাখাওয়াতের বাবা-মা। কিন্তু অপরাগতা জানালে জান্নাতকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করেন তারা। শাখাওয়াতও নির্যাতন করতেন স্ত্রীকে।

জান্নাতের মা হাসিয়া বেগম আমাদের সময়কে জানান, স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে শাখাওয়াতকে যৌতুক দেওয়া সম্ভব নয় জানালে মেয়েকে নির্যতন শুরু করে তারা। এ কারণে শাখাওয়াতের সঙ্গে জান্নাতের কলহ শুরু হয়।

এ পরিস্থিতিতে গতকাল শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে গলায় ওড়না প্যাচানো অবস্থায় জান্নাতের লাশ পাওয়া যায়। হাসিয়া বেগমের অভিযোগ, মেয়েকে হত্যা করে ঘরের সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে রেখেছিল শাখাওয়াতের পরিবার। আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে শাখাওয়াত ও তার বাবা-মাকে আসামি করে জান্নাতের বড় মামা একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের আত্মহত্যায় প্ররোচণাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় বরকামতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম আমাদের সময়কে জানান, যে মামলাটি করা হয়েছে, তা অবান্তর। এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটি বিশ্বাসযোগ্য নয়, প্রকৃত ঘটনাও নয়। বিয়ের পর পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক চেয়েছে ছেলের পরিবার, এ কথা মেয়ের পরিবার কাউকে জানায়নি।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেবিদ্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রবিউল ইসলাম আমাদের সময়কে জানান, দেবিদ্বার থানায় ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যা প্ররোচনার দায়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন নিহতের মামা। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (কুমেক) পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।