জলবায়ু পরিবর্তন দুই সেকেন্ডে বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন একজন

আমাদের সময় ডেস্ক
৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৩:৪৪

বন্যা, নদীভাঙন, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, দাবানলসহ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর নানা প্রভাবের কারণে সারাপৃথিবীতে গত এক দশকে অন্তত দুই কোটি মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। অর্থাৎ এই সময়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রতি দুই সেকেন্ডে একজন। জলবায়ু পরিবর্তনের এই ক্রমবর্ধমান হুমকির মধ্যেও যদি বিশ্বনেতারা দ্রুত কার্বন নিঃসরণ কমানো, জৈব জ্বালানির ব্যবহার রোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবস্থা না নেন, তা হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে। গতকাল সোমবার প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দাতব্য সংস্থা অক্সফাম এসব কথা বলেছে। তারা এমন এক সময় এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করল যখন গতকালই শুরু হয়েছে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন ‘কপ-২৫’।

অক্সফামের গবেষকরা বলছেন, এক গবেষণায় দেখা গেছে ২০০৮ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত যুদ্ধে যে পরিমাণ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, তার চেয়ে তিনগুণেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে ঝড়, বন্যা ও দাবানলের কারণে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিপদের আগেই কিছু মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই হিসাব করা হয়েছে সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন এজেন্সির ডাটা ও গণমাধ্যমের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে। যুদ্ধবিধ্বস্ত সোমালিয়ার মতো কিছু দেশ তো খরা ও বন্যা দুটিতে আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিবছর। কখনো কখনো একই বছরে দুটি দুর্যোগই সেখানে হানা দিচ্ছে।

অক্সফামের জলবায়ুবিষয়ক পলিসির নেতা টিম গোরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, কিউবা, ডমিনিকা, টুভালুর মতো দ্বীপদেশগুলোয় প্রতিবছর গড়ে মোট জনসংখ্যার

শতকরা ৫ ভাগ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পৃথিবীর জলবায়ু যে ক্রমেই আরও উষ্ণ হয়ে উঠছে এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমরা সতর্কতা দিয়ে আসছি। এসব বিপর্যয় বহু দরিদ্র দেশকে এমন এক অবস্থানে ফেলে যায়, যেখানে তারা ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই আরেকটি বিপর্যয় আঘাত করে। এর ফলে তাদের অনেকে একই সময় বন্যা ও খরার কারণে সাহায্যের আবেদন জানাতে থাকেন। এটাই হলো জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশৃঙ্খলা, যা প্রকৃতপক্ষে এখন দেখা যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনসংখ্যার অনুপাতে সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয় এমন শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে সাতটিই উন্নয়নশীল দ্বীপদেশÑ যার বেশিরভাগই প্যাসিফিক ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের। এ ছাড়া জলবায়ু বিপর্যয়ে গত এক দশকে যত মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে তার প্রায় ৮০ ভাগই এশিয়ার। এর মধ্যে ফিলিপাইন থেকে শ্রীলংকা পর্যন্ত মানুষ বসবাস করছে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার হুমকির মধ্যে। চলতি বছর মে মাসে ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে শুধু বাংলাদেশ ও ভারতে ৩৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অবশ্য এসব মানুষের বেশিরভাগকে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগেই উদ্ধার করে সরিয়ে নেওয়া হয়।