বরফে ঢাকা পড়েছে সৌদি

কামাল পারভেজ অভি,সৌদি আরব
১৪ জানুয়ারি ২০২০ ২০:০৮ | আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২০ ১৩:২৫
বরফে বদলে গেছে সৌদি আরবের মরুভূমি। ছবি : আমাদের সময়

কয়েকদিন ধরে ভারী তুষারপাতে সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চলগুলি তুষার চাদরে ঢাকা পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে চলে যাওয়ায় দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি উষ্ণ অবস্থায় রাখতে এবং বিচ্ছিন্ন জায়গায় ভ্রমণ এড়াতে অনুরোধ জানিয়েছে।

সৌদির আবহাওয়া ও পরিবেশ সুরক্ষা অধিদপ্তর থেকে বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়ে জানিয়েছে, বেশ কিছু অঞ্চল ছাড়াও তাবুক, আল-মদিনা, আল-জাওফ এবং উত্তর সীমান্তে শিলাবৃষ্টি ও কনকনে ঠাণ্ডা ঝড়ো হাওয়া বইবে। লোহিত সাগরের তলদেশিয় বায়ু চলাচল উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে ২০-৪৫ কি.মি. প্রতি ঘণ্টা গতিবেগ রয়েছে।

আরব উপসাগরে তলদেশিয় বায়ু চলাচল দক্ষিণ-পূর্ব থেকে দক্ষিণে ১৫-৪০ গতিবেগের মধ্যে রয়েছে। তবে তুষারপাত কিছু এলাকায় হলেও পুরো সৌদি আরব এখন প্রচণ্ড শীতে কাঁপছে।

নভেম্বর-ডিসেম্বর এখানকার শীতের মৌসুম। বালির দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রার তারতম্য হয়েই থাকে। কিন্তু শূন্যের এতটা নিচে তাপমাত্রা নামা বিরলতম ঘটনা।

উত্তর-পশ্চিমাঅঞ্চল গুলো ঢাকা পড়েছে তুষার চাদর। ছবি : আমাদের সময়

গত কয়েকদিন ধরে মাঝে মাঝে হাল্কা বৃষ্টি, মেঘলা আবহাওয়া ছিল সৌদিতে। রাস্তাঘাট অত্যাধিক তুষারপাতে ঢেকে গেছে, যার ফলে প্রবল যানজট শুরু হয়। এরই মাঝে স্থানীয় বাসিন্দাদের রাস্তায় বরফ নিয়ে খেলায় মেতে উঠতে দেখা গেছে। বালি ঢাকা পড়েছে বরফের চাদরে। বিভিন্ন জায়গায় বরফের মানু তৈরি করে রাখা হয়েছে।

সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ফুট উঁচুতে উত্তর আল জফ নামে পাহাড়ি এলাকা বরফে ঢেকে গেছে। সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, স্বাভাবিক পর্যয়ে হলেও এলাকাটিতে এমন ভারী তুষারপাত আগে কখনও হয়নি। যদিও এলাকাটির গড় তাপমাত্রা অনেক বেশি।

দেশটির আবাহবিদদের মতে, এলাকাটিতে বেশ কয়েকদিন ধরে ঝড় হচ্ছে। এর সঙ্গে কিউমুলোনিম্বাস মেঘের জটলায় হঠাৎ তাপমাত্রা কমে গেছে। তুষারপাত হওয়ার এটাই প্রধান কারণ বলে জানান তারা।

কাশিম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহবিদ ও প্রফেসর আবদালাহ আল মুসানাদ জানান, এই মৌসুমে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে এখানে। তার মতে, বর্ষা চলে যাওয়ার ৪০ দিন পর এমন অস্বাভাবিক বৃষ্টি এর আগে ঘটেনি।

গত বছর এপ্রিলে প্রকৃতির রোষে পড়তে হয়েছিল সৌদিকে। অত্যাধিক বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। সে সময় বন্যায় ১৮ জন মারা যান। ক্ষয়ক্ষতি হয় প্রচুর।